ঢাকা ১০:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোটি টাকায় বিক্রি: হেলেনার মুখেই ফাঁস হলো চীনা নারী পাচার চক্র

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৮:৪১:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫
  • / 393

বিউটি পার্লারে চাকরির প্রলোভনে চীন দেশে পাচার হওয়ার পর কৌশলে দেশে ফিরেছেন হেলেনা (ছদ্মনাম) নামে এক তরুণী। দেশে ফিরেই তিনি এক ভয়াবহ আন্তর্জাতিক নারী পাচার চক্রের চিত্র উন্মোচন করেছেন। তিনি জানান, তাঁকে এবং তাঁর এক বান্ধবীকে চীনা নাগরিকদের কাছে মোট এক কোটি টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল।

যুগান্তরের সঙ্গে আলাপকালে হেলেনা এই ভয়ংকর চক্রের নেপথ্যে থাকা মূল হোতাদের পরিচয় তুলে ধরেন। তিনি চান না, তাঁর মতো আর কোনো মেয়ের জীবন নষ্ট হোক।

চীনে পাচারের ফাঁদ: যেভাবে শুরু প্রতারণা

হেলেনা বিউটি পার্লারে কাজ করতেন। ফেসবুকে সিলভী নামের এক নারীর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। এই সিলভীই ছিল প্রতারণার মূল মাধ্যম।

প্রলোভন: সিলভী তাঁকে বলেন, “চীনে বিউটি পার্লারের কাজের চাহিদা অনেক বেশি। তুমি যেহেতু পার্লারের কাজ ভালো জানো, তাই তুমি চাইলে তোমাকে চীনের ভালো একটি পার্লারে অনেক টাকার চাকরি দিতে পারি।”

চক্রের হোতা: হেলেনা জানান, সিলভী নিজে একজন চীনা নাগরিককে বিয়ে করেছেন এবং সিলভী ও তাঁর স্বামী মিলেই মূলত এই পাচার চক্র চালান। চক্রটি গত ১৪ বছর ধরে চীন-বাংলাদেশে নারী পাচারের ব্যবসা করছে।

কোটি টাকায় বিক্রি এবং ফিরে আসার চেষ্টা

হেলেনা চীনে পৌঁছানোর পরই বুঝতে পারেন যে তিনি প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়েছেন এবং চাকরির কথা বলে তাঁদের বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।

বিক্রির মূল্য: হেলেনা ও তাঁর বান্ধবী চীনা নাগরিকদের কাছে দেশে ফিরে যাওয়ার আকুতি জানালে, তাঁদের স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, তাঁদের দুজনকে ৫০ লাখ টাকা করে মোট এক কোটি টাকায় কিনে নেওয়া হয়েছে।

দেশে ফেরা: এরপরেও নানা কৌশলে হেলেনা চীন থেকে দেশে ফিরতে সক্ষম হন।

চক্রের নতুন টার্গেট ও হেলেনার সতর্কতা

হেলেনা দেশে আসার পরও পাচারকারী চক্রটি সক্রিয় রয়েছে। হেলেনাকে দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে তারা।

নতুন শিকার: হেলেনা জানান, তিনি দেশে আসার পরপরই চারজন তরুণীর ভিসা করা হয়েছে এবং তাদের টিকিটও কাটা হয়ে গেছে। এই চার তরুণীকে চীনে নিয়ে যাওয়ার জন্য সিলভী ও তাঁর চক্রের সদস্যরা হেলেনাকে ক্রমাগত চাপ দিচ্ছে।

হেলেনার আকুতি: হেলেনার একমাত্র লক্ষ্য এখন—”আমি চাচ্ছি না যে, আমার মতো অন্য কোনো মেয়ের জীবন নষ্ট হোক।” তাই তিনি দ্রুত এই চক্রের হাত থেকে অন্যদের বাঁচাতে চাইছেন।

কোটি টাকায় বিক্রি: হেলেনার মুখেই ফাঁস হলো চীনা নারী পাচার চক্র

আপডেট সময় : ০৮:৪১:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫

বিউটি পার্লারে চাকরির প্রলোভনে চীন দেশে পাচার হওয়ার পর কৌশলে দেশে ফিরেছেন হেলেনা (ছদ্মনাম) নামে এক তরুণী। দেশে ফিরেই তিনি এক ভয়াবহ আন্তর্জাতিক নারী পাচার চক্রের চিত্র উন্মোচন করেছেন। তিনি জানান, তাঁকে এবং তাঁর এক বান্ধবীকে চীনা নাগরিকদের কাছে মোট এক কোটি টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল।

যুগান্তরের সঙ্গে আলাপকালে হেলেনা এই ভয়ংকর চক্রের নেপথ্যে থাকা মূল হোতাদের পরিচয় তুলে ধরেন। তিনি চান না, তাঁর মতো আর কোনো মেয়ের জীবন নষ্ট হোক।

চীনে পাচারের ফাঁদ: যেভাবে শুরু প্রতারণা

হেলেনা বিউটি পার্লারে কাজ করতেন। ফেসবুকে সিলভী নামের এক নারীর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। এই সিলভীই ছিল প্রতারণার মূল মাধ্যম।

প্রলোভন: সিলভী তাঁকে বলেন, “চীনে বিউটি পার্লারের কাজের চাহিদা অনেক বেশি। তুমি যেহেতু পার্লারের কাজ ভালো জানো, তাই তুমি চাইলে তোমাকে চীনের ভালো একটি পার্লারে অনেক টাকার চাকরি দিতে পারি।”

চক্রের হোতা: হেলেনা জানান, সিলভী নিজে একজন চীনা নাগরিককে বিয়ে করেছেন এবং সিলভী ও তাঁর স্বামী মিলেই মূলত এই পাচার চক্র চালান। চক্রটি গত ১৪ বছর ধরে চীন-বাংলাদেশে নারী পাচারের ব্যবসা করছে।

কোটি টাকায় বিক্রি এবং ফিরে আসার চেষ্টা

হেলেনা চীনে পৌঁছানোর পরই বুঝতে পারেন যে তিনি প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়েছেন এবং চাকরির কথা বলে তাঁদের বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।

বিক্রির মূল্য: হেলেনা ও তাঁর বান্ধবী চীনা নাগরিকদের কাছে দেশে ফিরে যাওয়ার আকুতি জানালে, তাঁদের স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, তাঁদের দুজনকে ৫০ লাখ টাকা করে মোট এক কোটি টাকায় কিনে নেওয়া হয়েছে।

দেশে ফেরা: এরপরেও নানা কৌশলে হেলেনা চীন থেকে দেশে ফিরতে সক্ষম হন।

চক্রের নতুন টার্গেট ও হেলেনার সতর্কতা

হেলেনা দেশে আসার পরও পাচারকারী চক্রটি সক্রিয় রয়েছে। হেলেনাকে দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে তারা।

নতুন শিকার: হেলেনা জানান, তিনি দেশে আসার পরপরই চারজন তরুণীর ভিসা করা হয়েছে এবং তাদের টিকিটও কাটা হয়ে গেছে। এই চার তরুণীকে চীনে নিয়ে যাওয়ার জন্য সিলভী ও তাঁর চক্রের সদস্যরা হেলেনাকে ক্রমাগত চাপ দিচ্ছে।

হেলেনার আকুতি: হেলেনার একমাত্র লক্ষ্য এখন—”আমি চাচ্ছি না যে, আমার মতো অন্য কোনো মেয়ের জীবন নষ্ট হোক।” তাই তিনি দ্রুত এই চক্রের হাত থেকে অন্যদের বাঁচাতে চাইছেন।