ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ণিল মঙ্গল শোভাযাত্রায় মানুষের ঢল
- আপডেট সময় : ১০:০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
- / 55
ঢোল-বাদ্যের তাল আর রঙিন মোটিফের চোখধাঁধানো আয়োজনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষের ঐতিহ্যবাহী মঙ্গল শোভাযাত্রা। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টায় চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণ থেকে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে এই বর্ণিল শোভাযাত্রার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।
ক্যাম্পাসে মানুষের ঢল:
অশুভ শক্তির বিনাশ এবং কল্যাণময় আগামীর প্রত্যাশায় আয়োজিত এই মিছিলে অংশ নিতে কাকডাকা ভোর থেকেই ক্যাম্পাস এলাকায় নামে মানুষের ঢল। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বৈশাখী সাজে সজ্জিত হয়ে এই আনন্দ মিছিলে যোগ দেন। শোভাযাত্রায় বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা বহন করছেন ২০০ জন শিক্ষার্থী এবং ৩৫ জন বাদ্যযন্ত্রশিল্পীর ঢাক-ঢোলের শব্দে পুরো ক্যাম্পাস এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।
এবারের বিশেষ মোটিফ:
বরাবরের মতো এবারও শোভাযাত্রায় বাংলার লোকজ ঐতিহ্যকে বৃহৎ পরিসরে তুলে ধরা হয়েছে। এবারের শোভাযাত্রার মূল আকর্ষণ হিসেবে স্থান পেয়েছে পাঁচটি প্রধান মোটিফ—মোরগ, বেহালা (দোতারা), পায়রা, হাতি ও ঘোড়া। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই মোটিফগুলো যথাক্রমে শক্তি, সৃজনশীলতা, শান্তি, গৌরব ও গতিময়তার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া বাঁশ, কাঠ ও রঙিন কাগজে তৈরি বিশাল আকৃতির বাঘ ও মা-শিশুর প্রতিকৃতি শোভাযাত্রার নান্দনিকতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
সাংস্কৃতিক আয়োজন:
নববর্ষ উদযাপনে কেবল শোভাযাত্রাই নয়, চারুকলা অনুষদে আয়োজন করা হয়েছে বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। চৈত্র সংক্রান্তির বিকেল থেকেই বকুলতলায় লোকসংগীত ও নৃত্যের মাধ্যমে পুরোনো বছরকে বিদায় জানানো হয়। উৎসবের ধারাবাহিকতায় আগামী ১৫ ও ১৬ এপ্রিল রাতে চারুকলায় ‘বাগদত্তা’ ও ‘দেবী সুলতানা’ শীর্ষক ঐতিহ্যবাহী যাত্রাপালা মঞ্চস্থ হওয়ার কথা রয়েছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো ক্যাম্পাস এলাকায় কঠোর নজরদারি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সব মিলিয়ে এক আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে বরণ করে নেওয়া হচ্ছে নতুন বছর ১৪৩৩-কে।




















