অন্ধকার গ্রাস করেছে ইন্টারচেঞ্জ ভয়ংকর ভাঙ্গা, অপরাধের রাজত্ব
- আপডেট সময় : ১০:৩২:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫
- / 327
ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার ভাঙ্গা ইন্টারচেঞ্জ (গোলচত্বর) গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে অন্ধকারে নিমজ্জিত। প্রায় শতাধিক সড়কবাতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাতের আঁধারে পথচারী, যানবাহনচালক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। অন্ধকারের কারণে রাতে এই আধুনিক সড়ক সংযোগের মুখটি এখন জনমানবশূন্য ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সড়কবাতি বন্ধ থাকার মূল কারণ হিসেবে বৈদ্যুতিক তার চুরি, কন্ট্রোল বোর্ডের অংশ পুড়ে যাওয়া এবং যান্ত্রিক ত্রুটির কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
অন্ধকারের কারণ ও স্থানীয়দের ভোগান্তি
বন্ধ থাকার কারণ: খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইন্টারচেঞ্জ এলাকার বৈদ্যুতিক তার ও কন্ট্রোল বোর্ডের কিছু অংশ চুরি হয়েছে। পাশাপাশি কন্ট্রোল প্যানেলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ পুড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও বাতিগুলো জ্বলছে না।
ভৌতিক পরিবেশ: স্থানীয় বাসিন্দা সোহাগ মাতুব্বর বলেন, “আগে এখানে আলোয় ঝলমল করতো, এখন সন্ধ্যা নামলেই অন্ধকার নেমে আসে। তখন জায়গাটিতে ভৌতিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়।”
দুর্ঘটনা ও ছিনতাইয়ের ভয়: অটোভ্যানচালক আকিজ শেখের অভিযোগ, বাতি না জ্বলায় দুর্ঘটনা ও ছিনতাইয়ের ভয়ে এখন রাতে মানুষের আনাগোনা কমে গেছে এবং ভয় নিয়ে চলতে হয়।
নিরাপত্তা ঝুঁকি: ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন জানান, দীর্ঘদিন আলো না জ্বলায় অপরাধীরা সুযোগ নিচ্ছে। এরই মধ্যে কয়েকটি মামলায় ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং রাতের টহলও বাড়াতে হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ কী বলছে?
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ এবং বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এই সমস্যার সমাধান প্রক্রিয়া নিয়ে মন্তব্য করেছে:
বিদ্যুৎ বিভাগের মন্তব্য: ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) ভাঙ্গা আবাসিক প্রকৌশলী সাইদুর রহমান বলেন, “কন্ট্রোল বোর্ডের তার পুড়ে যাওয়া ও কিছু সরঞ্জাম চুরি হওয়ায় ইন্টারচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ নিতে পারছে না। সেক্ষেত্রে আমাদের করণীয় নেই।”
জরুরী ব্যবস্থা: ইন্টারচেঞ্জ বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনের নৈশপ্রহরী সিরাজ খান জানান, কন্ট্রোল সিস্টেম নষ্ট হওয়ায় আপাতত জেনারেটর চালিয়ে প্রতি রাতে দুই থেকে তিন ঘণ্টা করে কিছু বাতি জ্বালানো হয়।
সওজ-এর আশ্বাস: সড়ক ও জনপথ বিভাগের শ্রীনগর (মুন্সিগঞ্জ) উপবিভাগীয় কার্যালয়ের প্রকৌশলী এস এম হানিফ আশ্বস্ত করেছেন, “চুরি ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে পুরো সড়কবাতি ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে মেরামতের কাজ চলছে এবং তা শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আশা করি কয়েক দিনের মধ্যেই আমরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পারবো।”
স্থানীয় জনসাধারণ দ্রুত মেরামতের মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এই আধুনিক ইন্টারচেঞ্জটিকে আবারও আলো ঝলমলে রূপে দেখতে পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন।





















