ঢাকা ০৬:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে বিএনপির রণক্ষেত্র: ৯৭৬ আসামির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মামলা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০১:৫৬:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫
  • / 984

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে গত ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কর্মসূচিতে বিএনপির দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দুই পক্ষের বিরুদ্ধেই বিস্ফোরক আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই দুই মামলায় মোট ৯৭৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।

শনিবার (৮ নভেম্বর) রাতে মামলা দুটি নথিভুক্ত করা হয়। রবিবার (৯ নভেম্বর) সকাল পর্যন্ত মামলার কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সংঘর্ষের নেপথ্যে দুই গ্রুপ

গত ৭ নভেম্বর বিকেলে বোয়ালমারী উপজেলা সদরের ওয়াবদা মোড় এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়। রাজনৈতিক আধিপত্য ও মনোনয়ন প্রত্যাশাকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের সৃষ্টি:

গ্রুপ-১ (নাসিরুল ইসলাম): কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহ-সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য ও ফরিদপুর-১ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম গ্রুপ।

গ্রুপ-২ (শামসুদ্দিন ঝুনু): বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির নবগঠিত কমিটির সহ-সভাপতি, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু গ্রুপ।

সংঘর্ষের সময় মোটরসাইকেল ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও বিএনপির অফিস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

বিস্ফোরক আইনে পাল্টাপাল্টি মামলা

সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পক্ষই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনে মামলা দায়ের করেছে:

বাদীর পক্ষ (গ্রুপ) আসামির সংখ্যা মামলার মূল আসামি
খন্দকার নাসিরুল ইসলাম গ্রুপ ৩৮ জন নাম উল্লেখ + ৩০০/৪০০ জন অজ্ঞাত (মোট প্রায় ৪৩৮ জন)। ১. শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু। ২. সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর (জনতা পার্টির উপদেষ্টা)।
শামসুদ্দিন ঝুনু মিয়া গ্রুপ ১৮৮ জন নাম উল্লেখ + ২০০/২৫০ জন অজ্ঞাত (মোট প্রায় ৪৩৮ জন)। খন্দকার নাসিরুল ইসলাম (১ নম্বর আসামি)।
মোট আসামি ৯৭৬ জন (প্রায়)

নাসিরুল ইসলাম গ্রুপের পক্ষে মামলাটি করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল ইসলাম। অপরদিকে ঝুনু মিয়া গ্রুপের পক্ষে এজাহার দেন সাবেক উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবর রহমান বাবু।

পুলিশের অবস্থান

বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদুল হাসান রবিবার সকালে জানান, বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দুই পক্ষের বিরুদ্ধেই পৃথক দুটি বিস্ফোরক আইনে মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেন, “এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার নেই। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”

ফরিদপুরে বিএনপির রণক্ষেত্র: ৯৭৬ আসামির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মামলা

আপডেট সময় : ০১:৫৬:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে গত ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কর্মসূচিতে বিএনপির দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দুই পক্ষের বিরুদ্ধেই বিস্ফোরক আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই দুই মামলায় মোট ৯৭৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।

শনিবার (৮ নভেম্বর) রাতে মামলা দুটি নথিভুক্ত করা হয়। রবিবার (৯ নভেম্বর) সকাল পর্যন্ত মামলার কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সংঘর্ষের নেপথ্যে দুই গ্রুপ

গত ৭ নভেম্বর বিকেলে বোয়ালমারী উপজেলা সদরের ওয়াবদা মোড় এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়। রাজনৈতিক আধিপত্য ও মনোনয়ন প্রত্যাশাকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের সৃষ্টি:

গ্রুপ-১ (নাসিরুল ইসলাম): কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহ-সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য ও ফরিদপুর-১ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম গ্রুপ।

গ্রুপ-২ (শামসুদ্দিন ঝুনু): বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির নবগঠিত কমিটির সহ-সভাপতি, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু গ্রুপ।

সংঘর্ষের সময় মোটরসাইকেল ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও বিএনপির অফিস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

বিস্ফোরক আইনে পাল্টাপাল্টি মামলা

সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পক্ষই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনে মামলা দায়ের করেছে:

বাদীর পক্ষ (গ্রুপ) আসামির সংখ্যা মামলার মূল আসামি
খন্দকার নাসিরুল ইসলাম গ্রুপ ৩৮ জন নাম উল্লেখ + ৩০০/৪০০ জন অজ্ঞাত (মোট প্রায় ৪৩৮ জন)। ১. শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু। ২. সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর (জনতা পার্টির উপদেষ্টা)।
শামসুদ্দিন ঝুনু মিয়া গ্রুপ ১৮৮ জন নাম উল্লেখ + ২০০/২৫০ জন অজ্ঞাত (মোট প্রায় ৪৩৮ জন)। খন্দকার নাসিরুল ইসলাম (১ নম্বর আসামি)।
মোট আসামি ৯৭৬ জন (প্রায়)

নাসিরুল ইসলাম গ্রুপের পক্ষে মামলাটি করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল ইসলাম। অপরদিকে ঝুনু মিয়া গ্রুপের পক্ষে এজাহার দেন সাবেক উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবর রহমান বাবু।

পুলিশের অবস্থান

বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদুল হাসান রবিবার সকালে জানান, বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দুই পক্ষের বিরুদ্ধেই পৃথক দুটি বিস্ফোরক আইনে মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেন, “এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার নেই। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”