ফরিদপুরের ঘুষখোর কামরুল: বিআরটিএ-র জাদুর কাঠিতেই কোটিপতি
- আপডেট সময় : ০৪:০১:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
- / 177
ঘুষ ছাড়া কোনো ফাইলই নড়ে না তার টেবিলে। যেখানেই কাজ করেছেন, সেখানেই পিছু ছাড়েনি দুর্নীতির অভিযোগ। তিনি ফরিদপুর বিআরটিএ-এর মোটরযান পরিদর্শক মেহেদী হাসান কামরুল। ২০১৪ সালে প্রতিবন্ধী কোটায় চাকরিতে যোগদানের পর মাত্র এক দশকেই তিনি গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। নিজ এলাকা তাম্বুলখানায় এখন তিনি ‘ঘুষখোর কামরুল’ হিসেবেই বেশি পরিচিত।
যেভাবে উত্থান:
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কামরুলের ভগ্নিপতি ছিলেন ফরিদপুর বিআরটিএ-এর এক প্রভাবশালী দালাল। সেই সুবাদে ২০১৪ সালের ২২ ডিসেম্বর চাকরিতে যোগ দেন কামরুল। যোগদানের সময় নামমাত্র জমির মালিক থাকলেও বর্তমানে তিনি কোটি কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মালিক।
সম্পদের পাহাড়:
মেহেদী হাসান কামরুল নিজের বাড়ির পাশে ও সমেপুর বাজারে কয়েক দফায় কয়েক কোটি টাকার জমি ক্রয় করেছেন। এছাড়া ৫০-৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করেছেন আলিশান বাড়ি। শুধু নিজের নামেই নয়, ভগ্নিপতি জহির শেখকে ১৫ লাখ টাকা খরচ করে মধুখালীর মাঝকান্দি বাজারে দোকান করে দিয়েছেন। শ্বশুরবাড়ি এলাকায় ২৫-৩০ লাখ টাকার বাগানসহ ঢাকা ও ফরিদপুরে তার নামে-বেনামে একাধিক ফ্ল্যাট ও জমি রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
পাশাপাশি পরিবহণ সেক্টরেও রয়েছে তার বিশাল বিনিয়োগ। ঢাকা-মেট্রো-ক-২০-৫৮৩১ এবং ঢাকা মেট্রো-ট-১৩-৩৩৭০ নম্বরের দুটি আন্তঃজেলা ট্রাকের মালিকও এই দাপুটে কর্মকর্তা।
অফিসেও বেপরোয়া:
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক অফিস স্টাফ জানান, কামরুল কারো কথা তোয়াক্কা করেন না। এমনকি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও তিনি গুরুত্ব দেন না। ইচ্ছেমতো অফিসে আসা-যাওয়া করা এবং সেবা প্রত্যাশীদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করাই তার নিত্যদিনের কাজ। ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে আসা ভুক্তভোগীরা জানান, দালালের মাধ্যমে টাকা না দিলে মাসের পর মাস ঘুরতে হয় তার দপ্তরে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:
এই বিষয়ে অভিযুক্ত মেহেদী হাসান কামরুলের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে ফরিদপুর বিআরটিএ-এর সহকারী পরিচালক পলাশ খীসা বলেন, “আমি এই অফিসে নতুন এসেছি। তবে তার বিষয়ে অভিযোগগুলো শুনেছি। বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




















