ফরিদপুরে গভীর রাতে আসামির স্ত্রীর ঘরে এএসআই অতঃপর গণপিটুনি
- আপডেট সময় : ০৩:৪৫:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
- / 278
ফরিদপুরের সালথায় পরকীয়ার অভিযোগে মো. ইমরান হাসান (৪০) নামে পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) গণপিটুনির শিকার হয়েছেন। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দিনগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বলিভদ্রদিয়া গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। আহত ইমরান সালথা থানায় কর্মরত এবং ওই ইউনিয়নের সহকারী বিট কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।
ভিডিওতে যা দেখা গেছে:
ঘটনার ১ মিনিট ১৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, রক্তাক্ত অবস্থায় এএসআই ইমরানকে আটকে রেখেছে উত্তেজিত জনতা। তার গায়ে পুলিশের পোশাক ছিল না, পরনে ছিল টি-শার্ট ও প্যান্ট। ভিডিওতে তাকে মারধর করতে দেখা যায় এবং ধারণকারী ব্যক্তি দাবি করেন যে, ইমরানের পকেটে জন্ম নিয়ন্ত্রণ সামগ্রী পাওয়া গেছে।
অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ:
এলাকাবাসী ও মামলার আসামির পরিবার জানিয়েছে, ওই এলাকার মেহেদী হাসান নামে এক মাদক মামলার আসামির বাড়িতে যাতায়াতের সুবাদে তার স্ত্রীর সাথে এএসআই ইমরানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। শুক্রবার রাতে ওই নারীর ঘরে একা প্রবেশ করলে এলাকাবাসী তাকে হাতেনাতে ধরে গণপিটুনি দেয়।
আসামি মেহেদী হাসানের দাবি, “আমি মামলার কারণে প্রায়ই বাইরে থাকি। এই সুযোগে এএসআই ইমরান আমার স্ত্রীকে কু-প্রস্তাব দেয়। আমার কাছে তাদের কুরুচিপূর্ণ কথোপকথনের অডিও ও ভিডিও রেকর্ড আছে।”
অন্যদিকে, এএসআই ইমরান হাসানের দাবি, তিনি মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ধরতে সেখানে গিয়েছিলেন। তবে রাত তিনটায় সাদা পোশাকে কেন একা অভিযানে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
পুলিশের বক্তব্য:
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান জানান, “মাদক মামলার আসামি ধরতে গেলে পরিবারটি তাকে আটক করে মারধর করে। তবে গভীর রাতে কেন ওই কর্মকর্তা একা এবং পোশাক ছাড়া সেখানে গিয়েছিলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
আহত এএসআই ইমরানকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।



















