ঢাকা ০১:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে বিদ্যুৎ বিতর্কে লুবাবার পাল্টা জবাব: মেলা কারো শখ নয়

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১২:৩২:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
  • / 90

পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ফরিদপুর শহরে এখন উৎসবের আমেজ। শহরের পৃথক দুটি স্থানে শুরু হয়েছে বৈশাখী মেলা, আর রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আগে থেকেই চলছে শিল্প ও বাণিজ্য মেলা। তবে এই আনন্দ আয়োজনের বিপরীতে বিদ্যুৎ সংকট ও জনভোগান্তি নিয়ে শহরবাসীর মধ্যে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। বিশেষ করে মেলা বনাম লোডশেডিং এবং হাসপাতালের রোগীদের ভোগান্তি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে তুমুল বিতর্ক।

অভিযোগের তীর মেলার দিকে:

চলতি সপ্তাহে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় শহরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। নেটিজেনদের একাংশ অভিযোগ তুলছেন, মেলাগুলোতে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণেই লোডশেডিং বাড়ছে। মাহমুদুল হাসান ওয়ালিদ নামে এক যুবক ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেন, “কারো বাসায় কারেন্ট চলে গেলে সোজা মেলায় চলে যাবেন। শিশু হাসপাতাল ও হার্ট ফাউন্ডেশনের রোগীরাও ধন্য জানিয়েছেন আয়োজকদের।” তার এই শ্লেষাত্মক পোস্ট মূলত মেলার আলোকসজ্জা ও কনসার্টের উচ্চশব্দে হাসপাতালের রোগীদের কষ্টের দিকে ইঙ্গিত করেছে।

নারী উদ্যোক্তার আবেগঘন প্রতিবাদ:

মেলার সমালোচনা যখন তুঙ্গে, তখন ‘লুবাবা তুল জান্নাত’ নামে এক নারী উদ্যোক্তার ফেসবুক পোস্ট আলোচনার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। তিনি বাস্তবতাকে অন্যভাবে তুলে ধরেছেন। লুবাবা তার পোস্টে লেখেন, “লোডশেডিং নতুন কোনো সমস্যা নয়, মেলা শুরুর আগে থেকেই আমরা এই ভোগান্তিতে আছি। মেলার মাঠে না আছে ফ্যান, না আছে অতিরিক্ত লাইট; কাঠফাটা রোদ আর ঘামে ভিজে আমাদের কাজ করতে হয়।”

তিনি আরও বলেন, “মেলা কারো শখ নয়, এটি অনেকের সংসারের প্রয়োজন। একজন উদ্যোক্তা মাঠে থাকে বলেই জানে একটি বিক্রি মানে কতটা স্বস্তি। যারা ফ্যানের নিচে বসে সমালোচনা করেন, তারা এই বাস্তবতা বুঝবেন না। মেলা মানে অনেক পরিবারের আয়ের মাধ্যম এবং স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার সুযোগ।”

বর্তমান মেলার পরিস্থিতি:

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার থেকে শহরের কোট চত্বরে ফরিদপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে বৈশাখী মেলা শুরু হয়েছে। একই দিনে অম্বিকা ময়দানে হলিডে মার্কেটের আয়োজন এবং ৩ এপ্রিল থেকে রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে চলছে মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলা।

শহরবাসীর একাংশ মেলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করলেও, জ্বালানি সংকটের এই সময়ে পরিমিত বিদ্যুৎ ব্যবহার এবং হাসপাতালের নিকটবর্তী এলাকায় উচ্চশব্দ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দাবি করেছেন।

ফরিদপুরে বিদ্যুৎ বিতর্কে লুবাবার পাল্টা জবাব: মেলা কারো শখ নয়

আপডেট সময় : ১২:৩২:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ফরিদপুর শহরে এখন উৎসবের আমেজ। শহরের পৃথক দুটি স্থানে শুরু হয়েছে বৈশাখী মেলা, আর রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আগে থেকেই চলছে শিল্প ও বাণিজ্য মেলা। তবে এই আনন্দ আয়োজনের বিপরীতে বিদ্যুৎ সংকট ও জনভোগান্তি নিয়ে শহরবাসীর মধ্যে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। বিশেষ করে মেলা বনাম লোডশেডিং এবং হাসপাতালের রোগীদের ভোগান্তি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে তুমুল বিতর্ক।

অভিযোগের তীর মেলার দিকে:

চলতি সপ্তাহে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় শহরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। নেটিজেনদের একাংশ অভিযোগ তুলছেন, মেলাগুলোতে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণেই লোডশেডিং বাড়ছে। মাহমুদুল হাসান ওয়ালিদ নামে এক যুবক ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেন, “কারো বাসায় কারেন্ট চলে গেলে সোজা মেলায় চলে যাবেন। শিশু হাসপাতাল ও হার্ট ফাউন্ডেশনের রোগীরাও ধন্য জানিয়েছেন আয়োজকদের।” তার এই শ্লেষাত্মক পোস্ট মূলত মেলার আলোকসজ্জা ও কনসার্টের উচ্চশব্দে হাসপাতালের রোগীদের কষ্টের দিকে ইঙ্গিত করেছে।

নারী উদ্যোক্তার আবেগঘন প্রতিবাদ:

মেলার সমালোচনা যখন তুঙ্গে, তখন ‘লুবাবা তুল জান্নাত’ নামে এক নারী উদ্যোক্তার ফেসবুক পোস্ট আলোচনার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। তিনি বাস্তবতাকে অন্যভাবে তুলে ধরেছেন। লুবাবা তার পোস্টে লেখেন, “লোডশেডিং নতুন কোনো সমস্যা নয়, মেলা শুরুর আগে থেকেই আমরা এই ভোগান্তিতে আছি। মেলার মাঠে না আছে ফ্যান, না আছে অতিরিক্ত লাইট; কাঠফাটা রোদ আর ঘামে ভিজে আমাদের কাজ করতে হয়।”

তিনি আরও বলেন, “মেলা কারো শখ নয়, এটি অনেকের সংসারের প্রয়োজন। একজন উদ্যোক্তা মাঠে থাকে বলেই জানে একটি বিক্রি মানে কতটা স্বস্তি। যারা ফ্যানের নিচে বসে সমালোচনা করেন, তারা এই বাস্তবতা বুঝবেন না। মেলা মানে অনেক পরিবারের আয়ের মাধ্যম এবং স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার সুযোগ।”

বর্তমান মেলার পরিস্থিতি:

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার থেকে শহরের কোট চত্বরে ফরিদপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে বৈশাখী মেলা শুরু হয়েছে। একই দিনে অম্বিকা ময়দানে হলিডে মার্কেটের আয়োজন এবং ৩ এপ্রিল থেকে রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে চলছে মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলা।

শহরবাসীর একাংশ মেলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করলেও, জ্বালানি সংকটের এই সময়ে পরিমিত বিদ্যুৎ ব্যবহার এবং হাসপাতালের নিকটবর্তী এলাকায় উচ্চশব্দ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দাবি করেছেন।