ঢাকা ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নর্তকীদের সাথে এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট: মহুয়ার পোস্টে তোলপাড়

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১২:৩৪:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • / 313

পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে। তবে এবার আলোচনার কেন্দ্রে কোনো রাজনীতিবিদ নন, বরং একজন আইপিএস অফিসার— অজয় পাল শর্মা। উত্তরপ্রদেশের এই ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’কে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করেছে নির্বাচন কমিশন। আর তাঁকে ঘিরেই এবার রণংদেহি মেজাজে কৃষ্ণনগরের তৃণমূল প্রার্থী মহুয়া মৈত্র।

ভাইরাল ভিডিও ও মহুয়ার খোঁচা:

সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে আইপিএস অজয় পাল শর্মাকে সরাসরি আক্রমণ করেছেন মহুয়া মৈত্র। ভিডিওটিতে এক যুবককে নর্তকীদের সাথে নাচতে দেখা যাচ্ছে (ভিডিওর সত্যতা যাচাই করা হয়নি)। মহুয়ার দাবি, ওই ব্যক্তিই আদিত্যনাথের রাজ্যের আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা। ভিডিওটি শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, “আশা করি, আপনার পুলিশি দক্ষতা আপনার নাচের দক্ষতার চেয়ে ভালো… থাকো ঠান্ডা ঠান্ডা কুল কুল, বাংলা সর্বক্ষণ তৃণমূল।”

ফলতায় তোলপাড়:

বিতর্কের সূত্রপাত সোমবার, যখন ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের বাড়িতে হানা দেয় কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ। সেই অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন অজয় পাল শর্মা। সেখানে জাহাঙ্গীর খানের পরিবারের সদস্যদের প্রতি তাঁর ‘হুঁশিয়ারি’র একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। এর পরেই তৃণমূল প্রশ্ন তোলে, একজন পুলিশ পর্যবেক্ষকের এক্তিয়ার কতটুকু? জাহাঙ্গীর খান পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, “তিনি (অজয়) সিংহম হলে আমরাও এক একজন পুষ্পা।”

কে এই অজয় পাল শর্মা?

২০১১ সালের উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের এই আইপিএস লুধিয়ানার ভূমিপুত্র। পেশায় একসময় ডেন্টাল সার্জন থাকলেও পরে পুলিশের উর্দি বেছে নেন। বর্তমানে তিনি প্রয়াগরাজের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার। কমিশন সুষ্ঠু ভোটের জন্য যে ১১ জন পর্যবেক্ষকের তালিকা দিয়েছে, তাতে তাঁর নাম শীর্ষে।

তৃণমূলের অভিযোগ ও কমিশনের সক্রিয়তা:

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিপূর্বেই আমলা ও পুলিশ কর্মকর্তাদের ঘনঘন বদলি নিয়ে সরব হয়েছেন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি লিখে তিনি প্রচলিত রীতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছেন। তৃণমূলের দাবি, ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতেই ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’দের বাংলায় আনা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিজেপি নেতা অমিত মালব্য দাবি করেছেন, আইনের শাসন বজায় রাখতেই কমিশন এই কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।

ভোটের লড়াই এখন কেবল ব্যালটে নয়, সমাজমাধ্যমেও এক বিশাল যুদ্ধের রূপ নিয়েছে। যেখানে ‘ফ্যান্টাকপ’ স্টাইল বনাম ‘পুষ্পা’ ডায়লগের লড়াই সাধারণ ভোটারদের নজর কাড়ছে।

নর্তকীদের সাথে এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট: মহুয়ার পোস্টে তোলপাড়

আপডেট সময় : ১২:৩৪:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে। তবে এবার আলোচনার কেন্দ্রে কোনো রাজনীতিবিদ নন, বরং একজন আইপিএস অফিসার— অজয় পাল শর্মা। উত্তরপ্রদেশের এই ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’কে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করেছে নির্বাচন কমিশন। আর তাঁকে ঘিরেই এবার রণংদেহি মেজাজে কৃষ্ণনগরের তৃণমূল প্রার্থী মহুয়া মৈত্র।

ভাইরাল ভিডিও ও মহুয়ার খোঁচা:

সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে আইপিএস অজয় পাল শর্মাকে সরাসরি আক্রমণ করেছেন মহুয়া মৈত্র। ভিডিওটিতে এক যুবককে নর্তকীদের সাথে নাচতে দেখা যাচ্ছে (ভিডিওর সত্যতা যাচাই করা হয়নি)। মহুয়ার দাবি, ওই ব্যক্তিই আদিত্যনাথের রাজ্যের আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা। ভিডিওটি শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, “আশা করি, আপনার পুলিশি দক্ষতা আপনার নাচের দক্ষতার চেয়ে ভালো… থাকো ঠান্ডা ঠান্ডা কুল কুল, বাংলা সর্বক্ষণ তৃণমূল।”

ফলতায় তোলপাড়:

বিতর্কের সূত্রপাত সোমবার, যখন ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের বাড়িতে হানা দেয় কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ। সেই অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন অজয় পাল শর্মা। সেখানে জাহাঙ্গীর খানের পরিবারের সদস্যদের প্রতি তাঁর ‘হুঁশিয়ারি’র একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। এর পরেই তৃণমূল প্রশ্ন তোলে, একজন পুলিশ পর্যবেক্ষকের এক্তিয়ার কতটুকু? জাহাঙ্গীর খান পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, “তিনি (অজয়) সিংহম হলে আমরাও এক একজন পুষ্পা।”

কে এই অজয় পাল শর্মা?

২০১১ সালের উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের এই আইপিএস লুধিয়ানার ভূমিপুত্র। পেশায় একসময় ডেন্টাল সার্জন থাকলেও পরে পুলিশের উর্দি বেছে নেন। বর্তমানে তিনি প্রয়াগরাজের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার। কমিশন সুষ্ঠু ভোটের জন্য যে ১১ জন পর্যবেক্ষকের তালিকা দিয়েছে, তাতে তাঁর নাম শীর্ষে।

তৃণমূলের অভিযোগ ও কমিশনের সক্রিয়তা:

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিপূর্বেই আমলা ও পুলিশ কর্মকর্তাদের ঘনঘন বদলি নিয়ে সরব হয়েছেন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি লিখে তিনি প্রচলিত রীতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছেন। তৃণমূলের দাবি, ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতেই ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’দের বাংলায় আনা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিজেপি নেতা অমিত মালব্য দাবি করেছেন, আইনের শাসন বজায় রাখতেই কমিশন এই কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।

ভোটের লড়াই এখন কেবল ব্যালটে নয়, সমাজমাধ্যমেও এক বিশাল যুদ্ধের রূপ নিয়েছে। যেখানে ‘ফ্যান্টাকপ’ স্টাইল বনাম ‘পুষ্পা’ ডায়লগের লড়াই সাধারণ ভোটারদের নজর কাড়ছে।