ঢাকা ১০:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিউ মার্কেটে আন্ডারওয়ার্ল্ডের মার্ডার: ৫ গুলিতে ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর টিটন খতম

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১২:৩৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • / 1006

রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন (৫০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, নিহত ব্যক্তি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় ঘোষিত ২৩ ‘শীর্ষ সন্ত্রাসীর’ অন্যতম। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে নিউ মার্কেটের শহীদ শাহ নেওয়াজ হলের সামনে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

যেভাবে ঘটল হত্যাকাণ্ড:

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাত ৮টার দিকে নিউ মার্কেটের পাশের বটতলা এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা দুই মুখোশধারী দুর্বৃত্ত টিটনকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। ৫টি গুলি বিদ্ধ হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

কে এই টিটন?

নিহত খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন ২০০১ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকার অন্যতম নাম। তিনি আলোচিত হারিছ-জোসেফ গ্রুপের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং তাঁর কর্মকাণ্ড মূলত ধানমণ্ডি ও হাজারীবাগ এলাকায় বিস্তৃত ছিল। তাঁর ভগ্নিপতি সানজিদুল ইসলাম ইমনও একই তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী। জানা গেছে, ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় টিটনসহ কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসী কারাগার থেকে মুক্তি পান।

হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে শত্রুতা:

পুলিশের বিশেষ সূত্রের খবর অনুযায়ী, আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘ক্যাপ্টেন ইমন’-এর সঙ্গে টিটনের দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও পেশাগত বিরোধ ছিল। কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর টিটন আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি হেলালের সাথে যুক্ত হয়ে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, আন্ডারওয়ার্ল্ডের আধিপত্য বিস্তার বা পুরনো শত্রুতার জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।

পুলিশের পদক্ষেপ:

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মাসুদ আলম জানান, নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং বিষয়টি আরও গুরুত্বের সাথে যাচাই করা হচ্ছে। নিউ মার্কেট থানার ওসি মো. আইয়ুব জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং দুর্বৃত্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। নিহতের মরদেহ বর্তমানে ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে।

নিউ মার্কেটে আন্ডারওয়ার্ল্ডের মার্ডার: ৫ গুলিতে ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর টিটন খতম

আপডেট সময় : ১২:৩৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন (৫০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, নিহত ব্যক্তি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় ঘোষিত ২৩ ‘শীর্ষ সন্ত্রাসীর’ অন্যতম। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে নিউ মার্কেটের শহীদ শাহ নেওয়াজ হলের সামনে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

যেভাবে ঘটল হত্যাকাণ্ড:

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাত ৮টার দিকে নিউ মার্কেটের পাশের বটতলা এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা দুই মুখোশধারী দুর্বৃত্ত টিটনকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। ৫টি গুলি বিদ্ধ হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

কে এই টিটন?

নিহত খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন ২০০১ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকার অন্যতম নাম। তিনি আলোচিত হারিছ-জোসেফ গ্রুপের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং তাঁর কর্মকাণ্ড মূলত ধানমণ্ডি ও হাজারীবাগ এলাকায় বিস্তৃত ছিল। তাঁর ভগ্নিপতি সানজিদুল ইসলাম ইমনও একই তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী। জানা গেছে, ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় টিটনসহ কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসী কারাগার থেকে মুক্তি পান।

হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে শত্রুতা:

পুলিশের বিশেষ সূত্রের খবর অনুযায়ী, আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘ক্যাপ্টেন ইমন’-এর সঙ্গে টিটনের দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও পেশাগত বিরোধ ছিল। কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর টিটন আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি হেলালের সাথে যুক্ত হয়ে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, আন্ডারওয়ার্ল্ডের আধিপত্য বিস্তার বা পুরনো শত্রুতার জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।

পুলিশের পদক্ষেপ:

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মাসুদ আলম জানান, নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং বিষয়টি আরও গুরুত্বের সাথে যাচাই করা হচ্ছে। নিউ মার্কেট থানার ওসি মো. আইয়ুব জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং দুর্বৃত্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। নিহতের মরদেহ বর্তমানে ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে।