ঢাকা ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাতের তালু হলুদ হতেই ভেলকি: ফরিদপুরে টুকু ফকিরের প্রতারণা ফাঁস

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৯:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • / 296

চুনের পানি, সাবান আর রহস্যময় কেমিক্যালের মিশ্রণ—তাতেই হাতের তালু হয়ে যায় টকটকে হলুদ। এই সাধারণ রাসায়নিক বিক্রিয়াকে ‘জন্ডিস’ বলে চালিয়ে দিয়ে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছিলেন এক ভণ্ড চিকিৎসক। অবশেষে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে ফরিদপুরের নগরকান্দা বাজারে এই প্রতারণার হাট ভেঙে দিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম মন্টু।

যেভাবে ফাঁস হলো প্রতারণা:

নগরকান্দা বাজারে টুকু ফকির নামে এক ভণ্ড চিকিৎসকের আস্তানায় হানা দেন সাংবাদিক মন্টু। তিনি সরাসরি ফেসবুক লাইভে দেখান কীভাবে সাধারণ মানুষকে বোকা বানানো হচ্ছে। লাইভটি ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। মাত্র দুই ঘণ্টার ব্যবধানে ভিডিওটিতে ১২শ’র বেশি রিয়্যাকশন এবং ৬শ’র বেশি শেয়ার লক্ষ্য করা যায়।

প্রতারণার কৌশল:

ভিডিওতে দেখা যায়, টুকু ফকির একটি ছোট প্লাস্টিকের কৌটা থেকে সামান্য কেমিক্যাল আঙুলে নিয়ে তাতে সাবান পানি মেশাচ্ছেন। হাতের তালুতে ঘষা দেওয়ার সাথে সাথেই তা গাঢ় হলুদ বর্ণ ধারণ করছে। সাংবাদিক মন্টু জানান, “এই প্রতারক সাধারণ মানুষকে বলত—আপনার জন্ডিস তো একদম শেষ পর্যায়ে! এখনই ওষুধ না খেলে বিপদ। এরপর এই ভেলকি দেখিয়ে ভয় পাইয়ে দিয়ে হাতিয়ে নিত মোটা অঙ্কের টাকা।”

উদ্ধারকৃত সরঞ্জাম ও জনরোষ:

তল্লাশি চালিয়ে ওই আস্তানা থেকে চুন, সাবান ও বিভিন্ন বেনামী তরল কেমিক্যাল জব্দ করা হয়। চিকিৎসা নিতে আসা অনেক নারী ও সাধারণ মানুষ এই জালিয়াতি দেখে হতবাক হয়ে যান। স্থানীয়দের অভিযোগ, টুকু ফকির একা নন; এই সিন্ডিকেটে আরও অনেকে জড়িত। দীর্ঘ দিন ধরে জন্ডিস সারানোর নামে তারা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। উপস্থিত অনেকে তাঁদের খোয়ানো টাকা ফেরতের দাবি জানান। তবে হাতেনাতে ধরা পড়ার পর অভিযুক্ত টুকু ফকিরকে নির্বাক হয়ে বসে থাকতে দেখা যায়।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ:

সচেতন মহলের মতে, জন্ডিস কোনো জাদুটোনায় সারে না—এটি একটি শারীরিক উপসর্গ যা সঠিক চিকিৎসায় নিরাময়যোগ্য। হাতুড়ে ডাক্তার বা তান্ত্রিকদের খপ্পরে না পড়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা এমন ‘টুকু ফকির’দের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অভিযান প্রয়োজন বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

হাতের তালু হলুদ হতেই ভেলকি: ফরিদপুরে টুকু ফকিরের প্রতারণা ফাঁস

আপডেট সময় : ০৪:৫৯:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

চুনের পানি, সাবান আর রহস্যময় কেমিক্যালের মিশ্রণ—তাতেই হাতের তালু হয়ে যায় টকটকে হলুদ। এই সাধারণ রাসায়নিক বিক্রিয়াকে ‘জন্ডিস’ বলে চালিয়ে দিয়ে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছিলেন এক ভণ্ড চিকিৎসক। অবশেষে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে ফরিদপুরের নগরকান্দা বাজারে এই প্রতারণার হাট ভেঙে দিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম মন্টু।

যেভাবে ফাঁস হলো প্রতারণা:

নগরকান্দা বাজারে টুকু ফকির নামে এক ভণ্ড চিকিৎসকের আস্তানায় হানা দেন সাংবাদিক মন্টু। তিনি সরাসরি ফেসবুক লাইভে দেখান কীভাবে সাধারণ মানুষকে বোকা বানানো হচ্ছে। লাইভটি ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। মাত্র দুই ঘণ্টার ব্যবধানে ভিডিওটিতে ১২শ’র বেশি রিয়্যাকশন এবং ৬শ’র বেশি শেয়ার লক্ষ্য করা যায়।

প্রতারণার কৌশল:

ভিডিওতে দেখা যায়, টুকু ফকির একটি ছোট প্লাস্টিকের কৌটা থেকে সামান্য কেমিক্যাল আঙুলে নিয়ে তাতে সাবান পানি মেশাচ্ছেন। হাতের তালুতে ঘষা দেওয়ার সাথে সাথেই তা গাঢ় হলুদ বর্ণ ধারণ করছে। সাংবাদিক মন্টু জানান, “এই প্রতারক সাধারণ মানুষকে বলত—আপনার জন্ডিস তো একদম শেষ পর্যায়ে! এখনই ওষুধ না খেলে বিপদ। এরপর এই ভেলকি দেখিয়ে ভয় পাইয়ে দিয়ে হাতিয়ে নিত মোটা অঙ্কের টাকা।”

উদ্ধারকৃত সরঞ্জাম ও জনরোষ:

তল্লাশি চালিয়ে ওই আস্তানা থেকে চুন, সাবান ও বিভিন্ন বেনামী তরল কেমিক্যাল জব্দ করা হয়। চিকিৎসা নিতে আসা অনেক নারী ও সাধারণ মানুষ এই জালিয়াতি দেখে হতবাক হয়ে যান। স্থানীয়দের অভিযোগ, টুকু ফকির একা নন; এই সিন্ডিকেটে আরও অনেকে জড়িত। দীর্ঘ দিন ধরে জন্ডিস সারানোর নামে তারা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। উপস্থিত অনেকে তাঁদের খোয়ানো টাকা ফেরতের দাবি জানান। তবে হাতেনাতে ধরা পড়ার পর অভিযুক্ত টুকু ফকিরকে নির্বাক হয়ে বসে থাকতে দেখা যায়।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ:

সচেতন মহলের মতে, জন্ডিস কোনো জাদুটোনায় সারে না—এটি একটি শারীরিক উপসর্গ যা সঠিক চিকিৎসায় নিরাময়যোগ্য। হাতুড়ে ডাক্তার বা তান্ত্রিকদের খপ্পরে না পড়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা এমন ‘টুকু ফকির’দের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অভিযান প্রয়োজন বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।