এনআইডি-পাসপোর্টের ভিড় হটিয়ে আসছে ‘এক-আইডি’
- আপডেট সময় : ০২:৩৭:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 113
নাগরিকদের পকেটে ভারী আইডি কার্ডের ভিড়, সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে দফায় দফায় একই তথ্য জমা দেওয়ার ভোগান্তি এবং জাল সনদ রুখতে এবার যুগান্তকারী পদক্ষেপে হাঁটছে সরকার। দেশে নতুন জন্ম নেওয়া শিশু থেকে শুরু করে শতবর্ষী প্রবীণ—সবার জন্য চালু হতে যাচ্ছে একটিই একক ও স্থায়ী পরিচয়পত্র, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডেনটিটি’ (এক-আইডি)।
একবার এই কার্ড হাতে এলে বিদ্যমান জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড বা অন্যান্য সামাজিক সুবিধাভিত্তিক কার্ডের আলাদা কোনো অস্তিত্ব আর থাকবে না। একই কার্ডে বাধা পড়বে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে শুরু করে যাবতীয় সরকারি-বেসরকারি নাগরিক সুবিধার সুতো।
এই বিশাল কর্মযজ্ঞ ও স্থায়ী পরিচয়পত্র তৈরির লক্ষ্য নিয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ একটি মেগা প্রকল্প গ্রহণ করেছে। ‘ডিজিটাল সার্ভিস ট্রান্সফরমেশন ফর অ্যাকসেস অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স’ (ডি-স্টার) শীর্ষক এই নতুন প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলকে (বিসিসি)। ২০২৬ থেকে ২০৩১ সাল মেয়াদে চূড়ান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রকল্পটি ইতিমধ্যে পরিকল্পনা কমিশনে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।
ওয়ান ডিজিটাল আইডি ও অর্থায়নের রূপরেখা
নতুন এই পরিচয়পত্রের রূপরেখা ও দর্শনের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এই ধারণার নাম দিয়েছেন—‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ডিজিটাল আইডি, ওয়ান ওয়ালেট’। অর্থাৎ, একজন নাগরিকের জন্য একটি মাত্র সমন্বিত কার্ড থাকবে, যা তাঁর ডিজিটাল পরিচয় বহন করবে এবং একই সঙ্গে তা দিয়ে নিরাপদ ডিজিটাল আর্থিক লেনদেনও সম্পাদন করা যাবে।
আইসিটি বিভাগের সচিব মামুনুর রশীদ ভূঞা সরকারের এই যুগান্তকারী পরিকল্পনা প্রসঙ্গে জানান—
“বর্তমানে দেশে এনআইডি, জন্মনিবন্ধন, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা পাসপোর্টসহ বহু ধরনের কার্ড চালু থাকায় তীব্র সমন্বয়হীনতা কাজ করছে। কারও দুটি জন্মনিবন্ধন, আবার কারও একাধিক পাসপোর্ট তৈরির মতো অনিয়ম হচ্ছে। নতুন পরিচয়পত্রটি হবে শতভাগ একক ও স্থায়ী। একটি নবজাতক জন্ম নেওয়ার সাথে সাথেই তার এই আইডি তৈরি হয়ে যাবে। ফলে নাগরিককে আর একই তথ্য বারবার সরকারি দফতরে দিতে হবে না।”
প্রকল্প ডায়েরি ও বাজেট প্রস্তাবনা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বাংলাদেশে পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ জনশুমারির হিসাব অনুযায়ী ১৮ কোটি নাগরিকের জন্য কার্ড তৈরির রূপরেখা আঁকা হয়েছে। তবে ব্যাকআপ ও প্রাথমিক চাহিদা মেটাতে ২০ কোটি ‘পলিকার্বোনেট চিপ’ সম্বলিত স্মর্টকার্ড মুদ্রণ করা হবে।
প্রতিটি চিপ কার্ড উৎপাদন ও প্রিন্টিং ব্যয় ধরা হয়েছে ২ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৪৬ টাকা)। আর বিতরণ ও পৌঁছানোর খরচ ধরা হয়েছে ১ ডলার (১২৩ টাকা)। অর্থাৎ, নাগরিক প্রতি এই স্মার্ট কার্ড তৈরিতে মোট ব্যয় দাঁড়াবে ৩৬৯ টাকা।
সমগ্র ‘ডি-স্টার’ প্রকল্পটির সার্বিক প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে যোগাবে ৭ হাজার ৬৬৩ কোটি টাকা এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী বিশ্বব্যাংকের ঋণ থেকে আসবে অবশিষ্ট ১ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা। বাজেটের সিংহভাগ অর্থাৎ ৭ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা খরচ হবে কার্ডের মুদ্রণ, বায়োমেট্রিক তথ্য (আঙুলের ছাপ ও আইরিশ) সংগ্রহ এবং মাঠ পর্যায়ে বিতরণে।











