ঢাকা ০৫:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে দুই গ্রামের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র, আহত ২০

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১০:০৪:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
  • / 131

একটি মীমাংসিত সালিশকে কেন্দ্র করে যে এত বড় সংঘাতের দাবানল জ্বলে উঠতে পারে, তারই প্রমাণ মিলল ফরিদপুরের নগরকান্দায়। তুচ্ছ ঘটনা ও সালিশ বৈঠককে কেন্দ্র করে জিয়াখুলি ও সুতারকান্দা গ্রামের বাসিন্দারা দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলা এই সংঘাতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়ে হাসপাতালে বিছানায় কাতরাচ্ছেন।

ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলায় একটি সালিশ বৈঠক ও তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে দফায় দফায় ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর ২০২৬) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার কাইচাইল ইউনিয়নের জিয়াখুলি ও সুতারকান্দা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এই সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলে।

এই সহিংসতায় উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে নগরকান্দা ও পার্শ্ববর্তী ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মীমাংসিত সালিশ থেকে উত্তেজনার সূত্রপাত

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঠিক আগের দিন একটি স্থানীয় বিষয় নিয়ে সালিশ বৈঠক হয়েছিল এবং বিষয়টি মীমাংসিতও হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। কিন্তু সেই সালিশের রেশ ও পক্ষ-বিপক্ষের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ পুরোপুরি কাটেনি। এরই জের ধরে শনিবার সকালে হঠাৎ করেই জিয়াখুলি ও সুতারকান্দা গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর চড়াও হন।

সকাল গড়িয়ে দুপুর পর্যন্ত চলা এই দফায় দফায় সংঘর্ষে পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করতে থাকে। আতঙ্কে সাধারণ দোকানপাট ও বসতবাড়ির দরজায় কড়া খিল পড়ে যায়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে দুই পক্ষের কোনো শীর্ষ স্থানীয় ব্যক্তির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত

ঘটনার খবর পেয়েই নগরকান্দা থানা পুলিশ দ্রুত তৎপর হয়ে ওঠে। নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সকালের দিকে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ ঘটনাস্থলে একটি বিশেষ দল পাঠায়।

পুলিশের কঠোর হস্তক্ষেপে দীর্ঘ চেষ্টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ওসি আরও জানান, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হলো এবং প্রকৃত আহতের সংখ্যা কত, তা নিশ্চিত করতে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ফরিদপুরে দুই গ্রামের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র, আহত ২০

আপডেট সময় : ১০:০৪:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

একটি মীমাংসিত সালিশকে কেন্দ্র করে যে এত বড় সংঘাতের দাবানল জ্বলে উঠতে পারে, তারই প্রমাণ মিলল ফরিদপুরের নগরকান্দায়। তুচ্ছ ঘটনা ও সালিশ বৈঠককে কেন্দ্র করে জিয়াখুলি ও সুতারকান্দা গ্রামের বাসিন্দারা দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলা এই সংঘাতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়ে হাসপাতালে বিছানায় কাতরাচ্ছেন।

ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলায় একটি সালিশ বৈঠক ও তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে দফায় দফায় ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর ২০২৬) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার কাইচাইল ইউনিয়নের জিয়াখুলি ও সুতারকান্দা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এই সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলে।

এই সহিংসতায় উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে নগরকান্দা ও পার্শ্ববর্তী ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মীমাংসিত সালিশ থেকে উত্তেজনার সূত্রপাত

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঠিক আগের দিন একটি স্থানীয় বিষয় নিয়ে সালিশ বৈঠক হয়েছিল এবং বিষয়টি মীমাংসিতও হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। কিন্তু সেই সালিশের রেশ ও পক্ষ-বিপক্ষের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ পুরোপুরি কাটেনি। এরই জের ধরে শনিবার সকালে হঠাৎ করেই জিয়াখুলি ও সুতারকান্দা গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর চড়াও হন।

সকাল গড়িয়ে দুপুর পর্যন্ত চলা এই দফায় দফায় সংঘর্ষে পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করতে থাকে। আতঙ্কে সাধারণ দোকানপাট ও বসতবাড়ির দরজায় কড়া খিল পড়ে যায়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে দুই পক্ষের কোনো শীর্ষ স্থানীয় ব্যক্তির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত

ঘটনার খবর পেয়েই নগরকান্দা থানা পুলিশ দ্রুত তৎপর হয়ে ওঠে। নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সকালের দিকে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ ঘটনাস্থলে একটি বিশেষ দল পাঠায়।

পুলিশের কঠোর হস্তক্ষেপে দীর্ঘ চেষ্টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ওসি আরও জানান, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হলো এবং প্রকৃত আহতের সংখ্যা কত, তা নিশ্চিত করতে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।