ফরিদপুরে নতুন সিভিল সার্জনকে বর্জন: প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে স্লোগান
- আপডেট সময় : ০৪:৫৩:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 116
ফরিদপুরের স্বাস্থ্য প্রশাসনের শীর্ষ পদে রদবদল হতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল শহরের ব্রাহ্ম সমাজ সড়ক! নতুন সিভিল সার্জন হিসেবে ডা. এস এম মঞ্জুর এলাহির যোগদানের খবর পৌঁছাতেই ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটল সচেতন ছাত্র সমাজের ব্যানারে। রোদ উঠতেই সরকারি কার্যালয়ের প্রধান ফটকে ঝুলল তালা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঠেলে বের করে দেওয়া হলো বাইরে।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত টানা দেড় ঘণ্টাব্যাপী ফরিদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয় সম্পূর্ণ স্তব্ধ করে রাখে ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা। খবর পেয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার পুলিশ তিনটি গাড়ি নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, সকালে ‘ফরিদপুর সচেতন ছাত্র সমাজ’-এর ব্যানারে এবং বিভিন্ন হাতে লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রায় ৩০ জনের মতো তরুণ ব্রাহ্ম সমাজ সড়কের সিভিল সার্জন কার্যালয়ে জড়ো হন। তারা ভেতরে ঢুকে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জোরপূর্বক বাইরে বের করে দেন এবং মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দিয়ে বিকট স্লোগানে চারপাশ মুখরিত করে তোলেন।
‘ফ্যাসিবাদের ঠাঁই নেই!’ চড়ল উত্তেজনার পারদ
ঘটনাস্থলে বিক্ষোভকারীরা ‘ফ্যাসিবাদের আস্তানা ফরিদপুরে হবে না’, ‘ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও ফ্যাসিবাদের আস্তানা’, ‘ফরিদপুরে হবে না আওয়ামী লীগের ঠিকানা’ এবং ‘ফরিদপুরের সিভিল সার্জন হিসেবে মঞ্জুর এলাহিকে মানি না, মানব না’—এমন সব চড়া সুরের স্লোগান দিতে থাকেন।
আন্দোলনে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেন জেলা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খাইরুল ইসলাম রোমান এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ফরিদপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক কাজী রিয়াজ।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে খাইরুল ইসলাম রোমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন—
“ফরিদপুরে পুনরায় ফ্যাসিবাদের দোসরদের প্রতিষ্ঠিত করার চক্রান্ত হিসেবেই মঞ্জুর এলাহিকে সিভিল সার্জন করে পাঠানো হয়েছে। আমরা স্পষ্ট জানিয়ে দিতে চাই, এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। দ্রুত এই বিতর্কিত নিয়োগ আদেশ বাতিল না করা হলে পুরো ফরিদপুরে আরও দুর্বার ও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”
পুলিশের উপস্থিতি ও সিভিল সার্জনের প্রতিক্রিয়া
দেড় ঘণ্টার এই অবরুদ্ধ অবস্থার পর কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সাথে কথা বলে তালা খুলিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান—
“নতুন সিভিল সার্জন যেন যোগদান করতে না পারেন এবং বর্তমান পদে থাকা কর্মকর্তাকে বহাল রাখার দাবিতে সচেতন ছাত্র সমাজের কিছু লোক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ করছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তারা কোনো বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে স্থান ত্যাগ করে।”
অন্যদিকে ফরিদপুরের বর্তমান সিভিল সার্জন মো. মাহমুদুল হাসান জানান—
“সকাল ৯টার দিকে হঠাৎ কিছু লোক এসে অফিসের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। যার ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দীর্ঘক্ষণ ভেতরে ঢুকতে পারেননি। পরবর্তীতে বেলা সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ আসার পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়।”












