ঢাকা ১২:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘অস্ত্র বানাও, খুন হলে আমি দেখব!’ ফরিদপুরে ইউপি চেয়ারম্যান

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৯:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 477

‘অস্ত্র তৈরি করে প্রস্তুত থাকো, কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটলে তার দায় আমি নিজে সামলে নেব!’—প্রকাশ্য সভায় দাঁড়িয়ে অনুসারী ও সমর্থকদের উদ্দেশে স্থানীয় এক ইউপি চেয়ারম্যানের এমন বিস্ফোরক ও হাড়হিম করা মন্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই ফরিদপুরজুড়ে চরম শোরগোল ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগের তির ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যদুনন্দি ইউনিয়ন পরিষদের বিতর্কিত চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক মোল্লার দিকে। সম্প্রতি উপজেলার উজিরপুর বাজারে আয়োজিত একটি জনসভায় তিনি অনুসারীদের উসকানি দিয়ে এই বক্তব্য দেন বলে প্রকাশ্যে এসেছে।

ভিডিওটি নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মাঝে নতুন করে সংঘাত ও রক্তক্ষয়ের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

উসকানির ঝড় সামলাতে সাফাই: ‘ভিডিও এডিট করা, নির্বাচন তাই চক্রান্ত!’

ভিডিওতে চেয়ারম্যানকে স্পষ্ট ভাষায় সমর্থকদের অস্ত্র তৈরির নির্দেশ দিতে এবং ভবিষ্যতে কোনো হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে তা নিজের কাঁধে নেওয়ার অভয়বাণী দিতে শোনা গেলেও, বিষয়টি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক মোল্লা।

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে তিনি বলেন—

“সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ভিডিওটি ঘুরে বেড়াচ্ছে তা সম্পূর্ণ এডিট বা বিকৃত করা। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি কায়েমি স্বার্থান্বেষী মহল আমার চরিত্রহনন করতে এবং অপপ্রচার চালাতে এই জালিয়াতি করেছে।”

নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে তিনি একটি সাম্প্রতিক ঘটনার অবতারণা করে আরও যোগ করেন—

“আমার দলের এক অসহায় ভ্যানচালককে প্রতিপক্ষের লোকজন মারধর করে ভ্যানটি ছিনিয়ে রেখে দিয়েছে। আমি চাইলে নিজের লোকবল ও সমর্থকদের নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ভ্যানটি উদ্ধার করতে পারতাম। কিন্তু এলাকায় রক্তপাত এড়াতে আমি তা না করে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে পুলিশের সহায়তা নিচ্ছি। এলাকা শান্ত রাখতেই আমি সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছি।”

‘তদন্ত হবে, দরকার হলে কারণ দর্শানোর নোটিশ!’ হুঁশিয়ারি ইউএনও ও পুলিশের

এদিকে একজন গণপ্রতিনিধি বা ইউপি চেয়ারম্যানের মুখে অস্ত্র বানানোর নির্দেশ ও হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর অপরাধে ইন্ধন দেওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান জানান—

“বিষয়টি সম্পর্কে আমি এখনো বিস্তারিত অবগত নই। তবে একজন ইউপি চেয়ারম্যান সম্প্রতি জনসম্মুখে এ ধরনের কোনো উসকানিমূলক বা বেআইনি বক্তব্য দিয়েছেন কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে।”

অন্যদিকে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন—

“ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করা হবে। ভিডিওটির টেকনিক্যাল ও আইনগত দিক খতিয়ে দেখে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করব। আইনলঙ্ঘন বা উসকানির কোনো উপাদান থাকলে আইন অনুযায়ী চেয়ারম্যানকে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ দেওয়া যায় কি না, সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

‘অস্ত্র বানাও, খুন হলে আমি দেখব!’ ফরিদপুরে ইউপি চেয়ারম্যান

আপডেট সময় : ০৩:৪৯:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘অস্ত্র তৈরি করে প্রস্তুত থাকো, কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটলে তার দায় আমি নিজে সামলে নেব!’—প্রকাশ্য সভায় দাঁড়িয়ে অনুসারী ও সমর্থকদের উদ্দেশে স্থানীয় এক ইউপি চেয়ারম্যানের এমন বিস্ফোরক ও হাড়হিম করা মন্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই ফরিদপুরজুড়ে চরম শোরগোল ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগের তির ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যদুনন্দি ইউনিয়ন পরিষদের বিতর্কিত চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক মোল্লার দিকে। সম্প্রতি উপজেলার উজিরপুর বাজারে আয়োজিত একটি জনসভায় তিনি অনুসারীদের উসকানি দিয়ে এই বক্তব্য দেন বলে প্রকাশ্যে এসেছে।

ভিডিওটি নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মাঝে নতুন করে সংঘাত ও রক্তক্ষয়ের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

উসকানির ঝড় সামলাতে সাফাই: ‘ভিডিও এডিট করা, নির্বাচন তাই চক্রান্ত!’

ভিডিওতে চেয়ারম্যানকে স্পষ্ট ভাষায় সমর্থকদের অস্ত্র তৈরির নির্দেশ দিতে এবং ভবিষ্যতে কোনো হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে তা নিজের কাঁধে নেওয়ার অভয়বাণী দিতে শোনা গেলেও, বিষয়টি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক মোল্লা।

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে তিনি বলেন—

“সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ভিডিওটি ঘুরে বেড়াচ্ছে তা সম্পূর্ণ এডিট বা বিকৃত করা। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি কায়েমি স্বার্থান্বেষী মহল আমার চরিত্রহনন করতে এবং অপপ্রচার চালাতে এই জালিয়াতি করেছে।”

নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে তিনি একটি সাম্প্রতিক ঘটনার অবতারণা করে আরও যোগ করেন—

“আমার দলের এক অসহায় ভ্যানচালককে প্রতিপক্ষের লোকজন মারধর করে ভ্যানটি ছিনিয়ে রেখে দিয়েছে। আমি চাইলে নিজের লোকবল ও সমর্থকদের নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ভ্যানটি উদ্ধার করতে পারতাম। কিন্তু এলাকায় রক্তপাত এড়াতে আমি তা না করে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে পুলিশের সহায়তা নিচ্ছি। এলাকা শান্ত রাখতেই আমি সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছি।”

‘তদন্ত হবে, দরকার হলে কারণ দর্শানোর নোটিশ!’ হুঁশিয়ারি ইউএনও ও পুলিশের

এদিকে একজন গণপ্রতিনিধি বা ইউপি চেয়ারম্যানের মুখে অস্ত্র বানানোর নির্দেশ ও হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর অপরাধে ইন্ধন দেওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান জানান—

“বিষয়টি সম্পর্কে আমি এখনো বিস্তারিত অবগত নই। তবে একজন ইউপি চেয়ারম্যান সম্প্রতি জনসম্মুখে এ ধরনের কোনো উসকানিমূলক বা বেআইনি বক্তব্য দিয়েছেন কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে।”

অন্যদিকে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন—

“ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করা হবে। ভিডিওটির টেকনিক্যাল ও আইনগত দিক খতিয়ে দেখে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করব। আইনলঙ্ঘন বা উসকানির কোনো উপাদান থাকলে আইন অনুযায়ী চেয়ারম্যানকে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ দেওয়া যায় কি না, সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”