ঢাকা ০২:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের পর মৃত্যু: ভিডিওর সত্যতা… এক গোলকধাঁধা

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১২:৫২:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
  • / 213

স্কুলড্রেস পরা একটি নিষ্পাপ মেয়ের জীবনে নেমে এসেছিল এক বিভীষিকাময় অন্ধকার। স্কুলে যাওয়ার পথে চোখের পলকে তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে চালানো হয় পৈশাচিক গণধর্ষণ। লোকলজ্জা আর চরম অভিমানে সেই নিষ্ঠুরতা সইতে না পেরে কিশোরী বেছে নিয়েছিল আত্মহননের পথ। দীর্ঘ দেড় মাস মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে না ফেরার দেশে চলে গেছে সে। মৃত্যুর ঠিক আগে ক্যামেরার সামনে তার বলা জবানবন্দির সেই ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল—যেখানে স্পষ্ট উচ্চারিত হয়েছে নরপিশাচদের নাম। অথচ বিচার পাওয়ার বদলে দুই থানার দরজায় দরজায় ঘুরে কেবল খালি হাতে ফিরতে হয়েছে হতভাগ্য পরিবারকে!

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার আড়পাড়া ইউনিয়নের রাজধরপুর গ্রামের এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনার সাক্ষী হলো দেশবাসী। স্থানীয় কাজী সিরাজুল ইসলাম স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রী ১৭ বছর বয়সী মিথিলা আক্তারকে স্কুলে যাওয়ার পথে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। অপমান আর যন্ত্রণায় কুঁকড়ে গিয়ে সে হারপিক পান করেছিল; আর সেই বিষক্রিয়ার সঙ্গে লড়াই করে দীর্ঘ দেড় মাস পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৬ অক্টোবর রাতে তার মৃত্যু হয়।

মেয়ের এমন অকাল ও নৃশংস মৃত্যুতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বাবা হান্নান শেখ এবং স্ট্রোক করে শয্যাশায়ী মা জেসমিন খাতুন। এদিকে থানায় মামলা না নেওয়ার পুলিশি গড়িমসিতে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে এলাকাবাসী।

স্কুলে যাওয়ার পথে অপহরণ ও পৈশাচিক নির্যাতন

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টার দিকে প্রতিদিনের মতো স্কুল যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল মিথিলা। সে সময় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে পৌঁছামাত্রই মোটরসাইকেলে করে এসে পথরোধ করে পার্শ্ববর্তী মাগুরা জেলার নাকোল গ্রামের রাফি শেখ (২১), রায়নগর গ্রামের রাহুল শেখ (২০) ও সায়মন বিশ্বাস (২০)। জোরপূর্বক তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় মাগুরার শ্রীপুর থানাধীন নাকোল গ্রামের মধুমতি নদীর নির্জন স্থান ‘মাটিকাটা ঘাট’ এলাকায়।

সেখানে নির্জন চরে তিন যুবক মিলে তাকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। তাদের এই পৈশাচিক উল্লাসে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করে সোহাগ শেখ (২০) নামের আরও এক যুবক। পৈশাচিকতা সহ্য করতে না পেরে একপর্যায়ে তাদের হাত থেকে দৌড়ে পালিয়ে নদীতে ঝাঁপ দেয় মিথিলা। স্থানীয়রা বিষয়টি দেখে পুলিশকে খবর দিলে নাকোল পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল তাকে উদ্ধার করে ফাঁড়িতে নিয়ে আসে।

ফাঁড়ির বাথরুমে হারপিক পান ও মৃত্যুর সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই

খবর পেয়ে মিথিলার পরিবারের সদস্যরা পুলিশ ফাঁড়িতে ছুটে যান। কিন্তু লোকলজ্জা ও চরম মানসিক অভিমান সইতে না পেরে ফাঁড়ির বাথরুমে গিয়ে সেখানে থাকা হারপিক পান করে বসেন ওই কিশোরী। সঙ্গে সঙ্গে তাকে মাগুরা জেনারেল হাসপাতালে এবং অবস্থার অবনতি হলে পরদিন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে টানা ১১ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ার পর কিছুটা সুস্থ হলে তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

তবে শারীরিক নানা জটিলতা, অভ্যন্তরীণ ক্ষত এবং কঙ্কালসার শরীরে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি মিথিলা। গত ২৬ অক্টোবর দিবাগত রাত একটার দিকে নিজ বাড়িতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে সে। পুলিশ খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

ভাইরাল ভিডিও ও পরিবারের বিস্ফোরক অভিযোগ

মৃত্যুর আগে নিজ মুখে পুরো ঘটনার বর্ণনা দিয়ে একটি ভিডিও রেকর্ড করে গেছে মিথিলা, যা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল। ওই ভিডিওতে তাকে স্পষ্টভাবে বলতে শোনা যায় যে, রাফি শেখ, রাহুল শেখ ও সায়মন বিশ্বাস তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে ধর্ষণ করেছিল এবং সোহাগ শেখ তাদের সহযোগিতা করেছিল।

মা জেসমিন খাতুন কান্নায় ভেঙে পড়ে অভিযোগ করেন, “আমরা কোনো থানাতেই ন্যায়বিচার পাচ্ছি না। মধুখালী থানা থেকে আমাদের শ্রীপুর থানায় পাঠাল। সেখানে যাওয়ার পর ওসি সাহেব আমাদের কাছ থেকে জোর করে একটি সাদা কাগজে সই রেখে কোনো মামলা না নিয়েই বাড়ি পাঠিয়ে দিল। অপরাধীদের বাঁচানোর জন্য পুলিশ লাখ লাখ টাকা খেয়েছে! আমার মেয়েটাকে এভাবে যারা মাইর‌্যা ফেলল, তাদের বিচার কি আমরা কোথাও পাব না?”

মিথিলার ভগ্নিপতি বিপ্লব শেখ জানান, মিথিলার অন্য জায়গায় কাবিন হওয়ার কারণে তার এক মামাতো ভাই ক্ষিপ্ত ছিল, কারণ সে নিজেই তাকে বিয়ে করতে চেয়েছিল। সেই আক্রোশ থেকেই রাফির সঙ্গে পরিকল্পনা করে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তারা চারজনের ফাঁসি ও সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন।

পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্য

ঘটনা সম্পর্কে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওলি মিয়া দাবি করেন, রাফির সঙ্গে মিথিলার প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং অন্যত্র বিয়ের জের ধরে তারা নদীতে লাফ দিয়েছিল। তদন্তে ওই ঘাটে ধর্ষণের কোনো আলামত বা প্রত্যক্ষদর্শী পাওয়া যায়নি। এছাড়া মৃত্যুর পর ভিডিও প্রকাশ করাটা রহস্যজনক। থানায় আসার পর কিশোরী হারপিক খেয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। যেহেতু চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মধুখালীতে মারা গেছে, তাই নিয়মানুযায়ী মধুখালী থানাই ব্যবস্থা নেবে।

অন্যদিকে, মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকদেব রায় বলেন, “পরিবার আমাদের কাছে এলে শ্রীপুর থানায় পাঠিয়ে অপমৃত্যুর মামলা নেওয়া হয়েছিল। তখন ধর্ষণের কথা কেউ বলেনি। এখন যদি পরিবার লিখিত অভিযোগ দেয়, তবে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আইনজীবীর মন্তব্য

আইন ও অধিকার বিশেষজ্ঞদের মতে, ভুক্তভোগীর বা তার পরিবারের অভিযোগ গ্রহণ করতে থানা আইনগতভাবে বাধ্য। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূইয়া রতন স্পষ্ট জানান, পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করলে পরিবার সরাসরি আদালতে গিয়ে মামলা দায়ের করতে পারে।

ফরিদপুরে স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের পর মৃত্যু: ভিডিওর সত্যতা… এক গোলকধাঁধা

আপডেট সময় : ১২:৫২:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

স্কুলড্রেস পরা একটি নিষ্পাপ মেয়ের জীবনে নেমে এসেছিল এক বিভীষিকাময় অন্ধকার। স্কুলে যাওয়ার পথে চোখের পলকে তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে চালানো হয় পৈশাচিক গণধর্ষণ। লোকলজ্জা আর চরম অভিমানে সেই নিষ্ঠুরতা সইতে না পেরে কিশোরী বেছে নিয়েছিল আত্মহননের পথ। দীর্ঘ দেড় মাস মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে না ফেরার দেশে চলে গেছে সে। মৃত্যুর ঠিক আগে ক্যামেরার সামনে তার বলা জবানবন্দির সেই ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল—যেখানে স্পষ্ট উচ্চারিত হয়েছে নরপিশাচদের নাম। অথচ বিচার পাওয়ার বদলে দুই থানার দরজায় দরজায় ঘুরে কেবল খালি হাতে ফিরতে হয়েছে হতভাগ্য পরিবারকে!

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার আড়পাড়া ইউনিয়নের রাজধরপুর গ্রামের এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনার সাক্ষী হলো দেশবাসী। স্থানীয় কাজী সিরাজুল ইসলাম স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রী ১৭ বছর বয়সী মিথিলা আক্তারকে স্কুলে যাওয়ার পথে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। অপমান আর যন্ত্রণায় কুঁকড়ে গিয়ে সে হারপিক পান করেছিল; আর সেই বিষক্রিয়ার সঙ্গে লড়াই করে দীর্ঘ দেড় মাস পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৬ অক্টোবর রাতে তার মৃত্যু হয়।

মেয়ের এমন অকাল ও নৃশংস মৃত্যুতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বাবা হান্নান শেখ এবং স্ট্রোক করে শয্যাশায়ী মা জেসমিন খাতুন। এদিকে থানায় মামলা না নেওয়ার পুলিশি গড়িমসিতে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে এলাকাবাসী।

স্কুলে যাওয়ার পথে অপহরণ ও পৈশাচিক নির্যাতন

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টার দিকে প্রতিদিনের মতো স্কুল যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল মিথিলা। সে সময় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে পৌঁছামাত্রই মোটরসাইকেলে করে এসে পথরোধ করে পার্শ্ববর্তী মাগুরা জেলার নাকোল গ্রামের রাফি শেখ (২১), রায়নগর গ্রামের রাহুল শেখ (২০) ও সায়মন বিশ্বাস (২০)। জোরপূর্বক তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় মাগুরার শ্রীপুর থানাধীন নাকোল গ্রামের মধুমতি নদীর নির্জন স্থান ‘মাটিকাটা ঘাট’ এলাকায়।

সেখানে নির্জন চরে তিন যুবক মিলে তাকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। তাদের এই পৈশাচিক উল্লাসে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করে সোহাগ শেখ (২০) নামের আরও এক যুবক। পৈশাচিকতা সহ্য করতে না পেরে একপর্যায়ে তাদের হাত থেকে দৌড়ে পালিয়ে নদীতে ঝাঁপ দেয় মিথিলা। স্থানীয়রা বিষয়টি দেখে পুলিশকে খবর দিলে নাকোল পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল তাকে উদ্ধার করে ফাঁড়িতে নিয়ে আসে।

ফাঁড়ির বাথরুমে হারপিক পান ও মৃত্যুর সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই

খবর পেয়ে মিথিলার পরিবারের সদস্যরা পুলিশ ফাঁড়িতে ছুটে যান। কিন্তু লোকলজ্জা ও চরম মানসিক অভিমান সইতে না পেরে ফাঁড়ির বাথরুমে গিয়ে সেখানে থাকা হারপিক পান করে বসেন ওই কিশোরী। সঙ্গে সঙ্গে তাকে মাগুরা জেনারেল হাসপাতালে এবং অবস্থার অবনতি হলে পরদিন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে টানা ১১ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ার পর কিছুটা সুস্থ হলে তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

তবে শারীরিক নানা জটিলতা, অভ্যন্তরীণ ক্ষত এবং কঙ্কালসার শরীরে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি মিথিলা। গত ২৬ অক্টোবর দিবাগত রাত একটার দিকে নিজ বাড়িতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে সে। পুলিশ খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

ভাইরাল ভিডিও ও পরিবারের বিস্ফোরক অভিযোগ

মৃত্যুর আগে নিজ মুখে পুরো ঘটনার বর্ণনা দিয়ে একটি ভিডিও রেকর্ড করে গেছে মিথিলা, যা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল। ওই ভিডিওতে তাকে স্পষ্টভাবে বলতে শোনা যায় যে, রাফি শেখ, রাহুল শেখ ও সায়মন বিশ্বাস তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে ধর্ষণ করেছিল এবং সোহাগ শেখ তাদের সহযোগিতা করেছিল।

মা জেসমিন খাতুন কান্নায় ভেঙে পড়ে অভিযোগ করেন, “আমরা কোনো থানাতেই ন্যায়বিচার পাচ্ছি না। মধুখালী থানা থেকে আমাদের শ্রীপুর থানায় পাঠাল। সেখানে যাওয়ার পর ওসি সাহেব আমাদের কাছ থেকে জোর করে একটি সাদা কাগজে সই রেখে কোনো মামলা না নিয়েই বাড়ি পাঠিয়ে দিল। অপরাধীদের বাঁচানোর জন্য পুলিশ লাখ লাখ টাকা খেয়েছে! আমার মেয়েটাকে এভাবে যারা মাইর‌্যা ফেলল, তাদের বিচার কি আমরা কোথাও পাব না?”

মিথিলার ভগ্নিপতি বিপ্লব শেখ জানান, মিথিলার অন্য জায়গায় কাবিন হওয়ার কারণে তার এক মামাতো ভাই ক্ষিপ্ত ছিল, কারণ সে নিজেই তাকে বিয়ে করতে চেয়েছিল। সেই আক্রোশ থেকেই রাফির সঙ্গে পরিকল্পনা করে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তারা চারজনের ফাঁসি ও সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন।

পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্য

ঘটনা সম্পর্কে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওলি মিয়া দাবি করেন, রাফির সঙ্গে মিথিলার প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং অন্যত্র বিয়ের জের ধরে তারা নদীতে লাফ দিয়েছিল। তদন্তে ওই ঘাটে ধর্ষণের কোনো আলামত বা প্রত্যক্ষদর্শী পাওয়া যায়নি। এছাড়া মৃত্যুর পর ভিডিও প্রকাশ করাটা রহস্যজনক। থানায় আসার পর কিশোরী হারপিক খেয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। যেহেতু চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মধুখালীতে মারা গেছে, তাই নিয়মানুযায়ী মধুখালী থানাই ব্যবস্থা নেবে।

অন্যদিকে, মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকদেব রায় বলেন, “পরিবার আমাদের কাছে এলে শ্রীপুর থানায় পাঠিয়ে অপমৃত্যুর মামলা নেওয়া হয়েছিল। তখন ধর্ষণের কথা কেউ বলেনি। এখন যদি পরিবার লিখিত অভিযোগ দেয়, তবে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আইনজীবীর মন্তব্য

আইন ও অধিকার বিশেষজ্ঞদের মতে, ভুক্তভোগীর বা তার পরিবারের অভিযোগ গ্রহণ করতে থানা আইনগতভাবে বাধ্য। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূইয়া রতন স্পষ্ট জানান, পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করলে পরিবার সরাসরি আদালতে গিয়ে মামলা দায়ের করতে পারে।