ঢাকা ০২:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে দুই চোখ উপড়ে যুবকের হাত-পা বাঁধা দেহাংশ উদ্ধার

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০১:০১:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
  • / 134

রাতের অন্ধকার সুযোগ নিয়ে মানুষের বুক চিরে নেমে এল চরম বর্বরতা। হাত-পা দড়ি দিয়ে কষে বাঁধা, আর দুটো কোটর থেকে খুবলে তুলে নেওয়া হয়েছে জ্বলজ্বলে দুটি চোখ! মৃত্যুর কোল থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পাওয়া এক যুবকের রক্তাক্ত নিথর শরীর পড়ে রইল বিজন বিলের ধানক্ষেতে—ফরিদপুর সদরের বুকে ঘটে যাওয়া এই নারকীয় ঘটনা যেন মধ্যযুগীয় নৃশসংতার এক জলজ্যান্ত ছবি।

ফরিদপুর সদর উপজেলায় চরম নৃশংসতার শিকার হয়েছেন দেলোয়ার হোসেন (৩৫) নামে এক যুবক। রাতের আঁধারে তুলে নিয়ে গিয়ে তাঁর হাত-পা শক্ত করে বেঁধে ফেলা হয় এবং ধারালো অস্ত্র বা বিশেষ কোনো উপায়ে তাঁর দুই চোখ উপড়ে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।

আজ সোমবার (২ নভেম্বর ২০২৬) সকালে উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের বাইটকুমারী বিলের পাশ থেকে রক্তাক্ত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়। আহত দেলোয়ার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের মাধবপুর এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে। বর্তমানে তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।

রাতের আঁধারে বিলে নিয়ে নির্যাতন ও চোখ উপড়ানো

স্থানীয় সূত্র ও স্বজনদের তথ্যানুযায়ী, রোববার রাতে কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা দেলোয়ারকে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধরে বাইটকুমারী বিলের নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে ফাঁকা জায়গায় আটকে রেখে তাঁর ওপর চলে অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন।

একপর্যায়ে নিদারুণ আক্রোশে তাঁর দুটি চোখই উপড়ে নেওয়া হয়। রক্তে ভেসে যাওয়া দেলোয়ারকে মৃত ভেবে হাত-পা বাঁধা অবস্থাতেই বিলের পাড়ের এক ধানক্ষেতে ফেলে রেখে চম্পট দেয় অপরাধীরা।

সকালে রক্তভেজা দেহ উদ্ধার

আজ সোমবার সকালে স্থানীয় কৃষকেরা ও পথচারীরা বাইটকুমারী বিলের ধারের ধানক্ষেতে হাত-পা বাঁধা ও রক্তাক্ত অবস্থায় এক যুবককে কাতরাতে দেখেন। কাছে গিয়ে তাঁরা দেখতে পান দেলোয়ারের বিভৎস রূপ—দুটি চোখই কোটর থেকে উপড়ানো।

তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারকে খবর দেওয়া হলে স্বজনেরা এসে দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এলাকাবাসীর দাবি ও ইউপি চেয়ারম্যানের বক্তব্য

এলাকার কিছু সূত্রের দাবি, আহত দেলোয়ার দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন ছোটখাটো চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং তাঁর কর্মকাণ্ডে স্থানীয় মানুষ অতিষ্ঠ ছিল।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম বাদশা মিয়া জানান, “সকালে খবর পেয়েই আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। তবে আমাদের পৌঁছানোর আগেই স্বজনেরা দেলোয়ারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। দেলোয়ার এলাকায় চুরির ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে শুনি। তবে কে বা কারা এমন বীভৎস ও নারকীয় কায়দায় তাঁর চোখ উপড়ে নিয়েছে, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।”

ফরিদপুরে দুই চোখ উপড়ে যুবকের হাত-পা বাঁধা দেহাংশ উদ্ধার

আপডেট সময় : ০১:০১:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

রাতের অন্ধকার সুযোগ নিয়ে মানুষের বুক চিরে নেমে এল চরম বর্বরতা। হাত-পা দড়ি দিয়ে কষে বাঁধা, আর দুটো কোটর থেকে খুবলে তুলে নেওয়া হয়েছে জ্বলজ্বলে দুটি চোখ! মৃত্যুর কোল থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পাওয়া এক যুবকের রক্তাক্ত নিথর শরীর পড়ে রইল বিজন বিলের ধানক্ষেতে—ফরিদপুর সদরের বুকে ঘটে যাওয়া এই নারকীয় ঘটনা যেন মধ্যযুগীয় নৃশসংতার এক জলজ্যান্ত ছবি।

ফরিদপুর সদর উপজেলায় চরম নৃশংসতার শিকার হয়েছেন দেলোয়ার হোসেন (৩৫) নামে এক যুবক। রাতের আঁধারে তুলে নিয়ে গিয়ে তাঁর হাত-পা শক্ত করে বেঁধে ফেলা হয় এবং ধারালো অস্ত্র বা বিশেষ কোনো উপায়ে তাঁর দুই চোখ উপড়ে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।

আজ সোমবার (২ নভেম্বর ২০২৬) সকালে উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের বাইটকুমারী বিলের পাশ থেকে রক্তাক্ত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়। আহত দেলোয়ার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের মাধবপুর এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে। বর্তমানে তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।

রাতের আঁধারে বিলে নিয়ে নির্যাতন ও চোখ উপড়ানো

স্থানীয় সূত্র ও স্বজনদের তথ্যানুযায়ী, রোববার রাতে কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা দেলোয়ারকে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধরে বাইটকুমারী বিলের নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে ফাঁকা জায়গায় আটকে রেখে তাঁর ওপর চলে অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন।

একপর্যায়ে নিদারুণ আক্রোশে তাঁর দুটি চোখই উপড়ে নেওয়া হয়। রক্তে ভেসে যাওয়া দেলোয়ারকে মৃত ভেবে হাত-পা বাঁধা অবস্থাতেই বিলের পাড়ের এক ধানক্ষেতে ফেলে রেখে চম্পট দেয় অপরাধীরা।

সকালে রক্তভেজা দেহ উদ্ধার

আজ সোমবার সকালে স্থানীয় কৃষকেরা ও পথচারীরা বাইটকুমারী বিলের ধারের ধানক্ষেতে হাত-পা বাঁধা ও রক্তাক্ত অবস্থায় এক যুবককে কাতরাতে দেখেন। কাছে গিয়ে তাঁরা দেখতে পান দেলোয়ারের বিভৎস রূপ—দুটি চোখই কোটর থেকে উপড়ানো।

তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারকে খবর দেওয়া হলে স্বজনেরা এসে দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এলাকাবাসীর দাবি ও ইউপি চেয়ারম্যানের বক্তব্য

এলাকার কিছু সূত্রের দাবি, আহত দেলোয়ার দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন ছোটখাটো চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং তাঁর কর্মকাণ্ডে স্থানীয় মানুষ অতিষ্ঠ ছিল।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম বাদশা মিয়া জানান, “সকালে খবর পেয়েই আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। তবে আমাদের পৌঁছানোর আগেই স্বজনেরা দেলোয়ারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। দেলোয়ার এলাকায় চুরির ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে শুনি। তবে কে বা কারা এমন বীভৎস ও নারকীয় কায়দায় তাঁর চোখ উপড়ে নিয়েছে, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।”