ঢাকা ১১:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে মাটি খুঁড়তেই বেরিয়ে এল ৩০টি রহস্যময় কলস

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১২:২১:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
  • / 667

ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌর এলাকায় ড্রেন নির্মাণের জন্য মাটি খননের সময় বেরিয়ে এসেছে দুই শতাব্দী পুরোনো প্রায় ৩০ থেকে ৩৫টি বিশাল আকৃতির মাটির কলস। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে এই ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। মাটির নিচে বিপুল পরিমাণ কলস পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক জনতা সেখানে ভিড় জমান।

গুপ্তধনের গুজব ও জনসমাগম:

খনন কাজের সময় একে একে কলসগুলো বেরিয়ে আসতে থাকলে এলাকায় মুহূর্তেই গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, কলসগুলোতে স্বর্ণ বা মূল্যবান ধনসম্পদ রয়েছে। এই খবর পেয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েকশ মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ভাঙ্গা থানা পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা এবং উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

কী ছিল সেই কলসগুলোতে?

স্থানীয়দের মাঝে গুপ্তধনের ধারণা তৈরি হলেও বাস্তবে চিত্র ছিল ভিন্ন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদরুল আলমের উপস্থিতিতে কলসগুলো পরীক্ষা করা হয়। তিনি জানান, কলসগুলোতে স্বর্ণ পাওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ গুজব। প্রতিটি কলস কেবল মাটিতেই ঠাসা ছিল।

প্রবীণদের ধারণা ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:

এলাকার প্রবীণ বাসিন্দাদের মতে, প্রায় দুইশ বছর আগে কুমার নদীর ভাঙন থেকে পাড় রক্ষা করার জন্য বিশাল আকারের মাটির কলসে বালু ভরে সারি করে মাটির নিচে স্থাপন করা হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ড্রেন খননের সময় সেই পুরোনো স্থাপনার কলসগুলোই এখন বেরিয়ে এসেছে।

প্রশাসনের বক্তব্য:

ভাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদরুল আলম বলেন, “আমরা শ্রমিকদের সামনেই কলসগুলো পরীক্ষা করেছি, সেখানে মাটি ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায়নি। সাধারণ মানুষকে কোনো ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।”

ফরিদপুরে মাটি খুঁড়তেই বেরিয়ে এল ৩০টি রহস্যময় কলস

আপডেট সময় : ১২:২১:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌর এলাকায় ড্রেন নির্মাণের জন্য মাটি খননের সময় বেরিয়ে এসেছে দুই শতাব্দী পুরোনো প্রায় ৩০ থেকে ৩৫টি বিশাল আকৃতির মাটির কলস। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে এই ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। মাটির নিচে বিপুল পরিমাণ কলস পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক জনতা সেখানে ভিড় জমান।

গুপ্তধনের গুজব ও জনসমাগম:

খনন কাজের সময় একে একে কলসগুলো বেরিয়ে আসতে থাকলে এলাকায় মুহূর্তেই গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, কলসগুলোতে স্বর্ণ বা মূল্যবান ধনসম্পদ রয়েছে। এই খবর পেয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েকশ মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ভাঙ্গা থানা পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা এবং উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

কী ছিল সেই কলসগুলোতে?

স্থানীয়দের মাঝে গুপ্তধনের ধারণা তৈরি হলেও বাস্তবে চিত্র ছিল ভিন্ন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদরুল আলমের উপস্থিতিতে কলসগুলো পরীক্ষা করা হয়। তিনি জানান, কলসগুলোতে স্বর্ণ পাওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ গুজব। প্রতিটি কলস কেবল মাটিতেই ঠাসা ছিল।

প্রবীণদের ধারণা ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:

এলাকার প্রবীণ বাসিন্দাদের মতে, প্রায় দুইশ বছর আগে কুমার নদীর ভাঙন থেকে পাড় রক্ষা করার জন্য বিশাল আকারের মাটির কলসে বালু ভরে সারি করে মাটির নিচে স্থাপন করা হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ড্রেন খননের সময় সেই পুরোনো স্থাপনার কলসগুলোই এখন বেরিয়ে এসেছে।

প্রশাসনের বক্তব্য:

ভাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদরুল আলম বলেন, “আমরা শ্রমিকদের সামনেই কলসগুলো পরীক্ষা করেছি, সেখানে মাটি ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায়নি। সাধারণ মানুষকে কোনো ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।”