ঢাকা ০২:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

 হত্যা মামলায় জড়ালেন যুবদল নেতা, টাকার বিনিময়ে কিলার নিয়োগ

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৮:০৯:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
  • / 470

যশোর শহরের চাঞ্চল্যকর ব্যবসায়ী নেতা মীর সামির সাকিব সাদি হত্যা মামলায় এবার যুবদল নেতা মাসুদ আল রানার নাম উঠে এসেছে। গত ১৭ মার্চ নিজ বাড়িতে নৃশংসভাবে খুন হওয়া সাদি হত্যায় কিলারদের অর্থ দিয়েছিলেন যুবদল নেতা মাসুদ আল রানা বলে জানাচ্ছে সংশ্লিষ্ট মহল।

মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) যৌথবাহিনীর অভিযানে ককটেল, পেট্রলবোমা ও ধারালো অস্ত্রসহ গ্রেফতার হন এই যুবদল নেতা। এরপরই তাকে সাদি হত্যা মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর প্রক্রিয়া শুরু করে পুলিশ।

হত্যাকাণ্ড ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ

মীর সামির সাকিব সাদি ছিলেন যশোর মুজিব সড়ক ভিআইপি মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও রেল বাজারের ইজারাদার।

হত্যাকাণ্ডের বিবরণ: ১৭ মার্চ রাত সাড়ে ১১টার দিকে সাদি যখন তাঁর চাচাতো ভাই মীর রাকিব হাসানের সঙ্গে মোটরসাইকেলে বাড়িতে ফিরছিলেন, তখন বাড়ির ভেতরে ঢুকে প্রথমে গুলি ও পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বুক ও পিঠে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাঁকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

টাকা দেওয়ার অভিযোগ: হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ট্যাটু সুমন তার জবানবন্দিতে জানিয়েছে, যুবদল নেতা মাসুদ আল রানা সাদিকে হত্যার জন্য স্থানীয় সন্ত্রাসী তুহিনের হাতে ২০ হাজার টাকা তুলে দিয়েছিলেন। তুহিন সেই টাকা পেয়ে ট্যাটু সুমন, মেহেদী হাসান অনিকসহ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে হত্যাকাণ্ডটি সম্পন্ন করে।

প্রাথমিক মামলা: সাদির মা কামরুন্নাহার এ ঘটনায় ট্যাটু সুমন ও মেহেদী হাসান অনিকসহ অজ্ঞাত ৩-৪ জনের নামে মামলা করেন।

যুবদল নেতার পরিচয় ও গ্রেফতার

পরিচয়: আটক মাসুদ আল রানা যশোর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক।

গ্রেফতার: দীর্ঘদিন পুলিশি নজরদারির পর গত মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) যৌথবাহিনীর সদস্যরা যশোর শহরের চাঁচড়া রায়পাড়ার বাড়ি থেকে মাসুদ আল রানাকে আটক করে। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ককটেল, পেট্রলবোমা ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের পদক্ষেপ ও রিমান্ডের প্রস্তুতি

সাদি হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, যশোর কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশনস) মমিনুল হক জানিয়েছেন, গ্রেফতারের পর মাসুদ আল রানার বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন।

শ্যোন অ্যারেস্ট: ইন্সপেক্টর মমিনুল হক বলেন, “ট্যাটু সুমনের জবানবন্দিতে মাসুদ আল রানার নাম আসায়, তাঁকে সাদি হত্যা মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে।”

হত্যার উদ্দেশ্য: ট্যাটু সুমন জবানবন্দিতে জানায়, সাদির সঙ্গে মাসুদ আল রানার ব্যবসা নিয়ে বিরোধ ছিল, যে কারণে রানা হত্যার পরিকল্পনা করেন।

জিজ্ঞাসাবাদ: ইন্সপেক্টর মমিনুল হক আরও জানান, মাসুদ আল রানাকে এ হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হবে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই হত্যার মূল উদ্দেশ্য ও রহস্য উদঘাটন হবে।

 হত্যা মামলায় জড়ালেন যুবদল নেতা, টাকার বিনিময়ে কিলার নিয়োগ

আপডেট সময় : ০৮:০৯:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫

যশোর শহরের চাঞ্চল্যকর ব্যবসায়ী নেতা মীর সামির সাকিব সাদি হত্যা মামলায় এবার যুবদল নেতা মাসুদ আল রানার নাম উঠে এসেছে। গত ১৭ মার্চ নিজ বাড়িতে নৃশংসভাবে খুন হওয়া সাদি হত্যায় কিলারদের অর্থ দিয়েছিলেন যুবদল নেতা মাসুদ আল রানা বলে জানাচ্ছে সংশ্লিষ্ট মহল।

মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) যৌথবাহিনীর অভিযানে ককটেল, পেট্রলবোমা ও ধারালো অস্ত্রসহ গ্রেফতার হন এই যুবদল নেতা। এরপরই তাকে সাদি হত্যা মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর প্রক্রিয়া শুরু করে পুলিশ।

হত্যাকাণ্ড ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ

মীর সামির সাকিব সাদি ছিলেন যশোর মুজিব সড়ক ভিআইপি মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও রেল বাজারের ইজারাদার।

হত্যাকাণ্ডের বিবরণ: ১৭ মার্চ রাত সাড়ে ১১টার দিকে সাদি যখন তাঁর চাচাতো ভাই মীর রাকিব হাসানের সঙ্গে মোটরসাইকেলে বাড়িতে ফিরছিলেন, তখন বাড়ির ভেতরে ঢুকে প্রথমে গুলি ও পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বুক ও পিঠে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাঁকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

টাকা দেওয়ার অভিযোগ: হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ট্যাটু সুমন তার জবানবন্দিতে জানিয়েছে, যুবদল নেতা মাসুদ আল রানা সাদিকে হত্যার জন্য স্থানীয় সন্ত্রাসী তুহিনের হাতে ২০ হাজার টাকা তুলে দিয়েছিলেন। তুহিন সেই টাকা পেয়ে ট্যাটু সুমন, মেহেদী হাসান অনিকসহ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে হত্যাকাণ্ডটি সম্পন্ন করে।

প্রাথমিক মামলা: সাদির মা কামরুন্নাহার এ ঘটনায় ট্যাটু সুমন ও মেহেদী হাসান অনিকসহ অজ্ঞাত ৩-৪ জনের নামে মামলা করেন।

যুবদল নেতার পরিচয় ও গ্রেফতার

পরিচয়: আটক মাসুদ আল রানা যশোর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক।

গ্রেফতার: দীর্ঘদিন পুলিশি নজরদারির পর গত মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) যৌথবাহিনীর সদস্যরা যশোর শহরের চাঁচড়া রায়পাড়ার বাড়ি থেকে মাসুদ আল রানাকে আটক করে। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ককটেল, পেট্রলবোমা ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের পদক্ষেপ ও রিমান্ডের প্রস্তুতি

সাদি হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, যশোর কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশনস) মমিনুল হক জানিয়েছেন, গ্রেফতারের পর মাসুদ আল রানার বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন।

শ্যোন অ্যারেস্ট: ইন্সপেক্টর মমিনুল হক বলেন, “ট্যাটু সুমনের জবানবন্দিতে মাসুদ আল রানার নাম আসায়, তাঁকে সাদি হত্যা মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে।”

হত্যার উদ্দেশ্য: ট্যাটু সুমন জবানবন্দিতে জানায়, সাদির সঙ্গে মাসুদ আল রানার ব্যবসা নিয়ে বিরোধ ছিল, যে কারণে রানা হত্যার পরিকল্পনা করেন।

জিজ্ঞাসাবাদ: ইন্সপেক্টর মমিনুল হক আরও জানান, মাসুদ আল রানাকে এ হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হবে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই হত্যার মূল উদ্দেশ্য ও রহস্য উদঘাটন হবে।