ঢাকা ১২:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুর: ভেজাল গুড় কারখানায় অভিযান, সাড়ে ৬ হাজার কেজি ধ্বংস

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১২:৩২:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 330

ফরিদপুর সদরের শিবরামপুরের ছোট বটতলা এলাকায় একটি ভেজাল গুড়ের কারখানায় যৌথ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভেজাল গুড় ও ক্ষতিকর কেমিক্যাল জব্দ করে ধ্বংস করেছে প্রশাসন ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। এছাড়া কারখানাটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) দিনগত রাতে স্বপন কুমার শীল নামের এক ব্যক্তির মালিকানাধীন এই কারখানায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে যা জব্দ ও ধ্বংস হলো

ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে এই অভিযান চালানো হয়।

জব্দ ও ধ্বংস: অভিযানে কারখানায় মালিক পক্ষের কেউ উপস্থিত না থাকায়, প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কেজি ভেজাল গুড় এবং শিল্পে ব্যবহার্য ক্ষতিকর কেমিক্যাল জব্দ করা হয় এবং জনসম্মুখে তা ধ্বংস করা হয়।

সিলগালা ও মামলা: কারখানাটি সিলগালা করার পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য আইনে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে মামলা দায়েরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও জানান এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট।

ভেজাল তৈরির পদ্ধতি ও নোংরা পরিবেশ

তদন্তে কারখানাটির ভেজাল গুড় তৈরির ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে:

নোংরা পরিবেশ: কারখানাটি ছিল অত্যন্ত নোংরা, স্যাঁতস্যাঁতে, অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশের কোনো বালাই ছিল না।

উপাদান: তারা ভারত থেকে আমদানি করা নিম্নমানের টিনজাত চিটাগুড় (যা গো-খাদ্যে ব্যবহৃত হয়) এর সাথে নিষিদ্ধ হাইড্রোজ, ফিটকিরি, ননফুড গ্রেড ক্ষতিকর রঙ ও ফ্লেভার, পচা মিষ্টি, মিষ্টির নষ্ট গাদ, ময়দা, সোডা, চিনি ব্যবহার করে খেজুর ও আখের গুড় তৈরি করত।

সরবরাহ: কারখানাটি সাধারণত রাতের অন্ধকারে ভেজাল গুড় উৎপাদন করে বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলসহ ঢাকা ও রাজশাহীর বাজারে সরবরাহ করত।

অভিযানে ফরিদপুরের নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, ভোক্তা অধিকার ও সংরক্ষণ অধিদপ্তর, জেলা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক এবং বাংলাদেশ আনসারের একটি চৌকস দল সহযোগিতা করে।

ফরিদপুর: ভেজাল গুড় কারখানায় অভিযান, সাড়ে ৬ হাজার কেজি ধ্বংস

আপডেট সময় : ১২:৩২:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫

ফরিদপুর সদরের শিবরামপুরের ছোট বটতলা এলাকায় একটি ভেজাল গুড়ের কারখানায় যৌথ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভেজাল গুড় ও ক্ষতিকর কেমিক্যাল জব্দ করে ধ্বংস করেছে প্রশাসন ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। এছাড়া কারখানাটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) দিনগত রাতে স্বপন কুমার শীল নামের এক ব্যক্তির মালিকানাধীন এই কারখানায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে যা জব্দ ও ধ্বংস হলো

ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে এই অভিযান চালানো হয়।

জব্দ ও ধ্বংস: অভিযানে কারখানায় মালিক পক্ষের কেউ উপস্থিত না থাকায়, প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কেজি ভেজাল গুড় এবং শিল্পে ব্যবহার্য ক্ষতিকর কেমিক্যাল জব্দ করা হয় এবং জনসম্মুখে তা ধ্বংস করা হয়।

সিলগালা ও মামলা: কারখানাটি সিলগালা করার পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য আইনে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে মামলা দায়েরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও জানান এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট।

ভেজাল তৈরির পদ্ধতি ও নোংরা পরিবেশ

তদন্তে কারখানাটির ভেজাল গুড় তৈরির ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে:

নোংরা পরিবেশ: কারখানাটি ছিল অত্যন্ত নোংরা, স্যাঁতস্যাঁতে, অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশের কোনো বালাই ছিল না।

উপাদান: তারা ভারত থেকে আমদানি করা নিম্নমানের টিনজাত চিটাগুড় (যা গো-খাদ্যে ব্যবহৃত হয়) এর সাথে নিষিদ্ধ হাইড্রোজ, ফিটকিরি, ননফুড গ্রেড ক্ষতিকর রঙ ও ফ্লেভার, পচা মিষ্টি, মিষ্টির নষ্ট গাদ, ময়দা, সোডা, চিনি ব্যবহার করে খেজুর ও আখের গুড় তৈরি করত।

সরবরাহ: কারখানাটি সাধারণত রাতের অন্ধকারে ভেজাল গুড় উৎপাদন করে বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলসহ ঢাকা ও রাজশাহীর বাজারে সরবরাহ করত।

অভিযানে ফরিদপুরের নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, ভোক্তা অধিকার ও সংরক্ষণ অধিদপ্তর, জেলা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক এবং বাংলাদেশ আনসারের একটি চৌকস দল সহযোগিতা করে।