ঢাকা ০১:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে ধানখেত থেকে মেছো বিড়ালের ৩ শাবক উদ্ধার

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৮:০০:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫
  • / 467

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় একটি ধানখেত থেকে মেছো বিড়ালের তিনটি শাবক উদ্ধার করা হয়েছে। এক কৃষক ধান কাটার সময় শাবকগুলো দেখতে পান এবং পরে সেগুলো বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেন। বন বিভাগ জানিয়েছে, শাবকগুলোকে লালন-পালন করার পর বড় হলে নিরাপদ স্থানে অবমুক্ত করা হবে।

গত রোববার বিকেলে সালথা উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের নটখোলা গ্রামের কৃষক রাসেল মাতুব্বর তাঁর ধানখেত থেকে আনুমানিক এক মাস বয়সী শাবক তিনটি উদ্ধার করেন। পরদিন সোমবার দুপুরে তিনি শাবকগুলো ফরিদপুর বন বিভাগের কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করেন। বর্তমানে শাবকগুলো বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

উদ্ধার ও কৃষকের তৎপরতা

উদ্ধারের স্থান: কৃষক রাসেল মাতুব্বর নটখোলা মাঠে ধান কাটার সময় খেতের মাঝে শাবকগুলো দেখতে পান। এ সময় তাদের মা মেছো বিড়ালটি দৌড়ে পালিয়ে যায়।

নিরাপত্তা নিশ্চিত: রাসেল মাতুব্বর বলেন, ফাঁকা জায়গায় শাবকগুলো নিরাপদ মনে না হওয়ায় তিনি সেগুলোকে বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং পরে বন বিভাগকে খবর দেন।

বন বিভাগের তত্ত্বাবধান ও মেছো বিড়ালের তথ্য

ফরিদপুর শহরতলির পূর্বগঙ্গাবর্দী সামাজিক বন বিভাগের ফরেস্ট রেঞ্জার তাওহীদ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

যত্ন ও পরিচর্যা: তাওহীদ হোসেন জানান, “বড় আকৃতির একটি খাঁচায় মোটা কাগজের কার্টনের মধ্যে খড় দিয়ে শাবক তিনটি রাখা হয়েছে। শাবকগুলো খুব ছোট, এ অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া হলে বাঁচবে না।”

খাবার: প্রথমে মাছ দেওয়া হলেও তারা তা খায়নি। এখন থেকে তাদের দুধ খাওয়ানো হচ্ছে।

পরবর্তী পদক্ষেপ: তিনি নিশ্চিত করেন, “কিছুটা বড় না হওয়া পর্যন্ত শাবক তিনটি অবমুক্ত করার সুযোগ নেই। বেশ কিছুদিন লালন-পালন করার পর নিরাপদ স্থানে এদের অবমুক্ত করা হবে।”

মেছো বিড়ালের পরিচিতি

ফরিদপুর বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মেছো বিড়াল সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

দৈহিক বৈশিষ্ট্য: এটি একটি ছোট প্রজাতির বিড়াল, ওজন ৫-১৬ কেজি। এদের লেজ খাটো এবং সাঁতারের সুবিধার জন্য পায়ের আঙুলের মাঝে আংশিকভাবে পাতলা ত্বকের সংযোগ (ব্যাঙের পায়ের মতো) থাকে।

বাসস্থান: এরা প্রধানত দক্ষিণ এশিয়ার জলাভূমি এলাকায় বসবাস করে।

খাবার: এদের প্রধান খাবার হলো মাছ, জলাভূমির পাখি ও অন্যান্য ছোট জলজ প্রাণী।

রং: এদের শরীরের রং ধূসর ও হলুদের মাঝে ছোট ছোট কালো ছোপযুক্ত।

ফরিদপুরে ধানখেত থেকে মেছো বিড়ালের ৩ শাবক উদ্ধার

আপডেট সময় : ০৮:০০:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় একটি ধানখেত থেকে মেছো বিড়ালের তিনটি শাবক উদ্ধার করা হয়েছে। এক কৃষক ধান কাটার সময় শাবকগুলো দেখতে পান এবং পরে সেগুলো বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেন। বন বিভাগ জানিয়েছে, শাবকগুলোকে লালন-পালন করার পর বড় হলে নিরাপদ স্থানে অবমুক্ত করা হবে।

গত রোববার বিকেলে সালথা উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের নটখোলা গ্রামের কৃষক রাসেল মাতুব্বর তাঁর ধানখেত থেকে আনুমানিক এক মাস বয়সী শাবক তিনটি উদ্ধার করেন। পরদিন সোমবার দুপুরে তিনি শাবকগুলো ফরিদপুর বন বিভাগের কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করেন। বর্তমানে শাবকগুলো বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

উদ্ধার ও কৃষকের তৎপরতা

উদ্ধারের স্থান: কৃষক রাসেল মাতুব্বর নটখোলা মাঠে ধান কাটার সময় খেতের মাঝে শাবকগুলো দেখতে পান। এ সময় তাদের মা মেছো বিড়ালটি দৌড়ে পালিয়ে যায়।

নিরাপত্তা নিশ্চিত: রাসেল মাতুব্বর বলেন, ফাঁকা জায়গায় শাবকগুলো নিরাপদ মনে না হওয়ায় তিনি সেগুলোকে বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং পরে বন বিভাগকে খবর দেন।

বন বিভাগের তত্ত্বাবধান ও মেছো বিড়ালের তথ্য

ফরিদপুর শহরতলির পূর্বগঙ্গাবর্দী সামাজিক বন বিভাগের ফরেস্ট রেঞ্জার তাওহীদ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

যত্ন ও পরিচর্যা: তাওহীদ হোসেন জানান, “বড় আকৃতির একটি খাঁচায় মোটা কাগজের কার্টনের মধ্যে খড় দিয়ে শাবক তিনটি রাখা হয়েছে। শাবকগুলো খুব ছোট, এ অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া হলে বাঁচবে না।”

খাবার: প্রথমে মাছ দেওয়া হলেও তারা তা খায়নি। এখন থেকে তাদের দুধ খাওয়ানো হচ্ছে।

পরবর্তী পদক্ষেপ: তিনি নিশ্চিত করেন, “কিছুটা বড় না হওয়া পর্যন্ত শাবক তিনটি অবমুক্ত করার সুযোগ নেই। বেশ কিছুদিন লালন-পালন করার পর নিরাপদ স্থানে এদের অবমুক্ত করা হবে।”

মেছো বিড়ালের পরিচিতি

ফরিদপুর বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মেছো বিড়াল সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

দৈহিক বৈশিষ্ট্য: এটি একটি ছোট প্রজাতির বিড়াল, ওজন ৫-১৬ কেজি। এদের লেজ খাটো এবং সাঁতারের সুবিধার জন্য পায়ের আঙুলের মাঝে আংশিকভাবে পাতলা ত্বকের সংযোগ (ব্যাঙের পায়ের মতো) থাকে।

বাসস্থান: এরা প্রধানত দক্ষিণ এশিয়ার জলাভূমি এলাকায় বসবাস করে।

খাবার: এদের প্রধান খাবার হলো মাছ, জলাভূমির পাখি ও অন্যান্য ছোট জলজ প্রাণী।

রং: এদের শরীরের রং ধূসর ও হলুদের মাঝে ছোট ছোট কালো ছোপযুক্ত।