ঢাকা ০১:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে সরকারি গুদামে নিয়মের তোয়াক্কা না করে ধান মজুত

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৫:১৯:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
  • / 250

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা খাদ্য গুদামে সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে বিপুল পরিমাণ ধান মজুতের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশিকুর রহমান মোল্যার বিরুদ্ধে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নির্বাচিত কৃষকের তালিকা প্রকাশ ও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ছাড়াই তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই ধান মজুত করেছেন বলে জানা গেছে।

এই অনিয়মের ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন খাদ্য পরিদর্শকের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন এবং এটি ‘বেআইনি’ বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা।

নিয়ম ভঙ্গ করে ধান মজুত

বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বিকেলে নসিমন-করিমনে বোঝাই করে বিপুল পরিমাণ ধান উপজেলা খাদ্যগুদামে প্রবেশ করে।

তড়িঘড়ি মজুত: প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গাড়ি ঢোকার পরপরই প্রবেশদ্বার বন্ধ করে দ্রুততার সঙ্গে ধান নামানোর দৃশ্য দেখা যায়।

গাড়ি ফিরে যাওয়া: সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে আরও কয়েকটি ধানবোঝাই গাড়ি গুদামে প্রবেশ না করে ফিরে যায়।

কৃষকের অভিযোগ: স্থানীয় কৃষক ও পরিবহন শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, এ ধরনের অনিয়ম নতুন নয়—রাতের আঁধারে দালালদের মাধ্যমে ধান মজুত করা হয়, যার ফলে প্রকৃত কৃষকরা সরকারের নির্ধারিত ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হন।

দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্য

অভিযুক্ত খাদ্য পরিদর্শক আশিকুর রহমান মোল্যা ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই অনিয়মের বিষয়ে কথা বলেছেন।

খাদ্য পরিদর্শকের দাবি: অভিযুক্ত আশিকুর রহমান মোল্যা জানান, “একজন পরিচিত কৃষকের ২ টন ধান ছিল, তিনি নিতে বলেছেন, তাই নিয়েছি।” তালিকা প্রকাশের আগেই ওই কৃষকের নাম কীভাবে নিশ্চিত হলেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, “তালিকায় না থাকলে ধান ফেরত দেবো।” তবে তালিকা ও উদ্বোধনের আগেই ব্যক্তিগত ধান সরকারি গুদামে মজুতের বৈধতা বিষয়ে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর দিতে পারেননি।

খাদ্য নিয়ন্ত্রকের মন্তব্য: উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা নিয়াজ মাহমুদ স্পষ্ট জানিয়েছেন, আমন ধান সংগ্রহ এখনও উদ্বোধন হয়নি এবং কৃষকের তালিকাও পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, “যদি (তালিকার আগেই ধান) করে থাকেন, এটি বেআইনি।”

ইউএনও’র ব্যাখ্যা তলব: উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বলেন, “এখনো তালিকা প্রস্তুত হয়নি, তাই সরকারি ধান সংগ্রহ শুরু হয়নি। ব্যক্তিগত ধান সরকারি গুদামে মজুতের নিয়ম নেই। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা খাদ্য পরিদর্শকই দেবেন।”

ফরিদপুরে সরকারি গুদামে নিয়মের তোয়াক্কা না করে ধান মজুত

আপডেট সময় : ০৫:১৯:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা খাদ্য গুদামে সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে বিপুল পরিমাণ ধান মজুতের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশিকুর রহমান মোল্যার বিরুদ্ধে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নির্বাচিত কৃষকের তালিকা প্রকাশ ও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ছাড়াই তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই ধান মজুত করেছেন বলে জানা গেছে।

এই অনিয়মের ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন খাদ্য পরিদর্শকের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন এবং এটি ‘বেআইনি’ বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা।

নিয়ম ভঙ্গ করে ধান মজুত

বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বিকেলে নসিমন-করিমনে বোঝাই করে বিপুল পরিমাণ ধান উপজেলা খাদ্যগুদামে প্রবেশ করে।

তড়িঘড়ি মজুত: প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গাড়ি ঢোকার পরপরই প্রবেশদ্বার বন্ধ করে দ্রুততার সঙ্গে ধান নামানোর দৃশ্য দেখা যায়।

গাড়ি ফিরে যাওয়া: সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে আরও কয়েকটি ধানবোঝাই গাড়ি গুদামে প্রবেশ না করে ফিরে যায়।

কৃষকের অভিযোগ: স্থানীয় কৃষক ও পরিবহন শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, এ ধরনের অনিয়ম নতুন নয়—রাতের আঁধারে দালালদের মাধ্যমে ধান মজুত করা হয়, যার ফলে প্রকৃত কৃষকরা সরকারের নির্ধারিত ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হন।

দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্য

অভিযুক্ত খাদ্য পরিদর্শক আশিকুর রহমান মোল্যা ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই অনিয়মের বিষয়ে কথা বলেছেন।

খাদ্য পরিদর্শকের দাবি: অভিযুক্ত আশিকুর রহমান মোল্যা জানান, “একজন পরিচিত কৃষকের ২ টন ধান ছিল, তিনি নিতে বলেছেন, তাই নিয়েছি।” তালিকা প্রকাশের আগেই ওই কৃষকের নাম কীভাবে নিশ্চিত হলেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, “তালিকায় না থাকলে ধান ফেরত দেবো।” তবে তালিকা ও উদ্বোধনের আগেই ব্যক্তিগত ধান সরকারি গুদামে মজুতের বৈধতা বিষয়ে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর দিতে পারেননি।

খাদ্য নিয়ন্ত্রকের মন্তব্য: উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা নিয়াজ মাহমুদ স্পষ্ট জানিয়েছেন, আমন ধান সংগ্রহ এখনও উদ্বোধন হয়নি এবং কৃষকের তালিকাও পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, “যদি (তালিকার আগেই ধান) করে থাকেন, এটি বেআইনি।”

ইউএনও’র ব্যাখ্যা তলব: উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বলেন, “এখনো তালিকা প্রস্তুত হয়নি, তাই সরকারি ধান সংগ্রহ শুরু হয়নি। ব্যক্তিগত ধান সরকারি গুদামে মজুতের নিয়ম নেই। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা খাদ্য পরিদর্শকই দেবেন।”