ফরিদপুরে ক্যানসারের অস্ত্রোপচার করলেন ‘ওটিবয়’ নারীর অঙ্গহানি!
- আপডেট সময় : ১১:৪৮:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 464
ফরিদপুর শহরের পশ্চিম খাবাসপুর এলাকার সুরক্ষা প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসার নামে এক ভয়াবহ প্রতারণা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালটির অপারেশন থিয়েটারের কর্মচারী (ওটিবয়) শেখ নিয়ামুল (২৬) কর্তৃক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে স্তন ক্যান্সার বা টিস্যু সংক্রামক পরীক্ষার (বায়োপসি) জন্য টিস্যু সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে। এর ফলস্বরূপ, মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে মাত্রাতিরিক্ত সংক্রমণের কারণে ভুক্তভোগী নারী ববিতা বেগমের (২৮) একটি স্তন (অঙ্গ) অস্ত্রোপচার করে কেটে ফেলতে হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারী বর্তমানে শহরের ঝিলটুলী এলাকার সেন্ট্রাল স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
ঘটনার সূত্রপাত: নিয়ামুলের প্রতারণা ও ভুল চিকিৎসা
ভুক্তভোগী ববিতা বেগম তাঁর মা ময়না বেগমকে নিয়ে গত ১৮ নভেম্বর পূর্ব পরিচিত ওটিবয় নিয়ামুলের শরণাপন্ন হয়ে সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. আতিকুর আহসানের কাছে যান।
চিকিৎসকের নির্দেশ: ডা. আহসান তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মাধ্যমে বায়োপসি পরীক্ষার জন্য নির্দেশনা দেন।
ওটিবয়ের ভুল ব্যাখ্যা: বুক্তভোগীর অভিযোগ, চিকিৎসকের কক্ষ থেকে বের হওয়ার পরই ওটিবয় নিয়ামুল তাঁকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে না যাওয়ার জন্য ভুল ব্যাখ্যা দেন। তিনি অল্প খরচে নিজেই এই কাজ করে দেবেন বলে আশ্বস্ত করেন।
অস্ত্রোপচার: ববিতা বেগম জানান, নিয়ামুলকে নিজের দুই দুগ্ধপানের ছেলে সন্তানের কথা জানিয়ে কোনো ক্ষতি যেন না হয়, সেই অনুরোধ করার পরও তিনি ওটি রুমে নিয়ে একাই অস্ত্রোপচার করেন এবং চারটি সেলাই দেন। অস্ত্রোপচার শেষে নিয়ামুল নিজেই প্রেসক্রিপশন লিখে তাঁকে বাড়ি পাঠিয়ে দেন।
সংক্রমণ ও অঙ্গহানি
অস্ত্রোপচারের ১৫ দিন পর বায়োপসি রিপোর্ট হাতে পেলেও ততদিনে অস্ত্রোপচারস্থলে মাত্রাতিরিক্ত সংক্রমণ দেখা দেয়।
পুনরায় ডাক্তারের শরণাপন্ন: গত মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) তিনি পুনরায় চিকিৎসক আতিকুর আহসানের শরণাপন্ন হন এবং ঘটনা খুলে বলেন।
দ্বিতীয় অস্ত্রোপচার: সংক্রমণের ভয়াবহ মাত্রা দেখে চিকিৎসক তাঁকে বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) ফরিদপুর সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন এবং একই দিনে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর সংক্রামক স্তনটি কেটে ফেলা হয়।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের ইউনিট প্রধান ডা. আতিকুর আহসান নিশ্চিত করেন যে, ওই ওটিবয় নিয়ামুল এসব নিয়মের তোয়াক্কা না করেই অস্ত্রোপচার করে টিস্যু সংগ্রহ করেছেন। তিনি বলেন, “এ ধরনের অস্ত্রোপচার করার জন্য ওটিবয়ের অধিকার নেই। পুরো স্তন্য নয়, সংক্রমিত অংশ কেটে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনার জন্য ওই ওটিবয় দায়ী।”
নিয়ামুলের স্বীকারোক্তি ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
বায়োপসিতে প্রতারণা: বায়োপসি পরীক্ষার রিপোর্টে দেখা যায়, নিয়ামুল আরেক প্রতারণা করেছেন। পরীক্ষাটি করানো হয় ঢাকার এনএন ল্যাব থেকে, কিন্তু সেখানে নমুনাটি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পাঠানো হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে।
ওটিবয়ের স্বীকারোক্তি: অভিযুক্ত ওটিবয় শেখ নিয়ামুল দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ভুল করেছেন বলে স্বীকার করেন।
হাসপাতালের এমডি: সুরক্ষা প্রাইভেট হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাজেদুর রহমান বলেছেন, “প্রতিষ্ঠানের সকলের অজানায় সে এই কাজটি করেছে, তাঁর বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব।”
এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া না গেলেও, ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহামুদুল হাসান জানান, অভিযোগ ও অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি ঘটনার খোঁজখবর নিতে তিনি দ্রুত হাসপাতালে লোক পাঠানোর কথা জানিয়েছেন।











