ফরিদপুরে অসহায় নারীর সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে
- আপডেট সময় : ১০:১৯:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫
- / 451
ফরিদপুর সদর উপজেলার ১০ নং কৈজুরী ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সোমা ইসলামের বিরুদ্ধে এক অসহায় নারী সামেলা বেগমের সম্পত্তি কূটকৌশলে আত্মসাৎ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। জমির মিউটেশন করে দেওয়ার নাম করে কৌশলে বাড়ির সংলগ্ন পনে দুই শতাংশ জমি নিজের নামে লিখে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী সামেলা বেগম।
দীর্ঘদিন গোপনে থাকা এই ঘটনাটি সম্প্রতি সামেলা বেগম তাঁর জমি বিক্রির উদ্যোগ নিলে কাগজপত্র যাচাইয়ের সময় প্রকাশ পায়। এই ঘটনা ফরিদপুর সদর উপজেলার জনগণের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
কৌশলে জমি আত্মসাতের অভিযোগ
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কৈজুরী ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সোমা ইসলাম তাঁর ক্ষমতা ও প্রভাব খাটিয়ে সামেলা বেগমের সম্পত্তি আত্মসাৎ করেছেন:
মিউটেশনের আশ্বাস: সোমা ইসলাম সামেলা বেগমকে জমির মিউটেশন (নামজারি) করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।
কৌশল: এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি কূটকৌশলে ভুক্তভোগী সামেলা বেগমের বাড়ির সংলগ্ন প্রায় পনে দুই শতাংশ জমি নিজের নামে লিখে নেন।
প্রকাশ: সামেলা বেগম সম্প্রতি জমিটি বিক্রির উদ্যোগ নিলে কাগজপত্র যাচাই করতে গিয়ে এই আত্মসাতের সত্যতা জানতে পারেন।
সালিশ বৈঠকে অঙ্গীকার, পরে অস্বীকার
ঘটনাটি জানার পর সামেলা বেগম স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের শরণাপন্ন হন।
স্বীকারোক্তি: উভয় পক্ষের মধ্যে এক সালিশ বৈঠক বসলে সোমা ইসলাম প্রাথমিকভাবে বিষয়টি স্বীকার করেন।
প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ: তিনি সামেলা বেগমকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তবে, পরবর্তীতে তিনি সেই টাকা দিতে অস্বীকার করেন।
জনপ্রতিনিধির নীরবতা ও এলাকাবাসীর ক্ষোভ
সোমা ইসলামের বিরুদ্ধে স্থানীয় এলাকাবাসীরও রয়েছে নানা অভিযোগ।
মন্তব্যে অনীহা: এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাংবাদিকরা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সোমা ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে রাজি হননি এবং বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করেন।
ক্ষমতার অপব্যবহার: স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, সোমা ইসলাম দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে আসছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তাঁর প্রভাবে কেউ মুখ খুলতে সাহস পেত না।
দাবি: এলাকাবাসীর এখন দাবি—অভিযোগের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করে হয় সামেলা বেগমের জমি ফিরিয়ে দেওয়া হোক, নতুবা জমির ন্যায্য মূল্য পরিশোধ করা হোক।
পদত্যাগ দাবি: একজন জনপ্রতিনিধির এমন প্রতারণামূলক আচরণকে অনৈতিক আখ্যা দিয়ে ক্ষুব্ধ জনতা সোমা ইসলামের পদত্যাগ দাবি করেছেন।
স্থানীয় জনসাধারণ এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের ত্বরিত তদন্ত ও পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছে।




















