ঢাকা ১২:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুর: ৬ মামলা নিয়েই মারা গেলেন আলোচিত ইউপি চেয়ারম্যান সোনা মিয়া

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৭:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
  • / 510

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার রূপাপাত ইউনিয়ন পরিষদের আলোচিত চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান ওরফে সোনা মিয়া (৫০) ছয়টি বিচারাধীন মামলা এবং একাধিক আইনি জটিলতা নিয়ে মারা গেছেন। শনিবার দিবাগত রাত পৌনে ১১টার দিকে ঢাকার আনোয়ার খান নামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়।

রবিবার (৩০ আগস্ট) নিজবাড়ি কদমী গ্রাম সংলগ্ন খেলার মাঠে নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়েছে। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

ইউপি চেয়ারম্যানের অসুস্থতা ও মৃত্যু

অসুস্থতা: রূপাপাত ইউনিয়ন পরিষদের স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান সোনা প্রায় তিন মাস আগে একবার হার্ট এটাকে আক্রান্ত হয়েছিলেন। সেই সময় চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারত বা চীনে যাওয়ার চেষ্টায় ছিলেন।

শেষ অবস্থা: এর মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত তাঁকে ঢাকার আনোয়ার খান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

রাজনৈতিক উত্থান ও আইনি জটিলতা

সোনা মিয়া তাঁর রাজনৈতিক জীবনের উত্থান এবং বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকায় বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন।

আলোচিত উত্থান: গত সরকারের আমলে সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশিদ গাজীপুরের এসপি থাকাকালীন মিজানুর রহমান সোনা বিভিন্ন ব্যবসা করে আলোচনায় আসেন এবং অল্প সময়ে বিত্ত-বৈভবের মালিক হন।

নির্বাচনী জয়: ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীক নিয়ে রূপাপাত ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

দলীয় সখ্যতা পরিবর্তন: চেয়ারম্যান হওয়ার আগে থেকেই তাঁর আওয়ামী লীগের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে ওঠে। তবে গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর তিনি কিছুটা বিপাকে পড়লেও দ্রুতই বিএনপির সঙ্গে সখ্যতা গড়ে এলাকায় বহাল তবিয়তে চলতে থাকেন।

মামলা ও প্রভাব: তাঁর নামে বিচারাধীন দুদকের মামলাসহ মোট ছয়টি মামলা ছিল। এতগুলো মামলা থাকা সত্ত্বেও তাঁকে কখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হতে দেখা যায়নি। তাঁর এই কর্মকাণ্ডগুলো এলাকায় নানা আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দেয়।

এসব রাজনৈতিক ও আইনি আলোচনার মধ্যেই শেষ পর্যন্ত তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন।

ফরিদপুর: ৬ মামলা নিয়েই মারা গেলেন আলোচিত ইউপি চেয়ারম্যান সোনা মিয়া

আপডেট সময় : ০৭:৪৭:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার রূপাপাত ইউনিয়ন পরিষদের আলোচিত চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান ওরফে সোনা মিয়া (৫০) ছয়টি বিচারাধীন মামলা এবং একাধিক আইনি জটিলতা নিয়ে মারা গেছেন। শনিবার দিবাগত রাত পৌনে ১১টার দিকে ঢাকার আনোয়ার খান নামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়।

রবিবার (৩০ আগস্ট) নিজবাড়ি কদমী গ্রাম সংলগ্ন খেলার মাঠে নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়েছে। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

ইউপি চেয়ারম্যানের অসুস্থতা ও মৃত্যু

অসুস্থতা: রূপাপাত ইউনিয়ন পরিষদের স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান সোনা প্রায় তিন মাস আগে একবার হার্ট এটাকে আক্রান্ত হয়েছিলেন। সেই সময় চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারত বা চীনে যাওয়ার চেষ্টায় ছিলেন।

শেষ অবস্থা: এর মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত তাঁকে ঢাকার আনোয়ার খান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

রাজনৈতিক উত্থান ও আইনি জটিলতা

সোনা মিয়া তাঁর রাজনৈতিক জীবনের উত্থান এবং বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকায় বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন।

আলোচিত উত্থান: গত সরকারের আমলে সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশিদ গাজীপুরের এসপি থাকাকালীন মিজানুর রহমান সোনা বিভিন্ন ব্যবসা করে আলোচনায় আসেন এবং অল্প সময়ে বিত্ত-বৈভবের মালিক হন।

নির্বাচনী জয়: ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীক নিয়ে রূপাপাত ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

দলীয় সখ্যতা পরিবর্তন: চেয়ারম্যান হওয়ার আগে থেকেই তাঁর আওয়ামী লীগের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে ওঠে। তবে গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর তিনি কিছুটা বিপাকে পড়লেও দ্রুতই বিএনপির সঙ্গে সখ্যতা গড়ে এলাকায় বহাল তবিয়তে চলতে থাকেন।

মামলা ও প্রভাব: তাঁর নামে বিচারাধীন দুদকের মামলাসহ মোট ছয়টি মামলা ছিল। এতগুলো মামলা থাকা সত্ত্বেও তাঁকে কখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হতে দেখা যায়নি। তাঁর এই কর্মকাণ্ডগুলো এলাকায় নানা আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দেয়।

এসব রাজনৈতিক ও আইনি আলোচনার মধ্যেই শেষ পর্যন্ত তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন।