ঢাকা ০৩:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তৃতীয় স্ত্রীকে নিয়ে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় স্বামীর ঘরে পেট্রল ঢেলে আগুন দিল প্রথম স্ত্রী

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১০:৫৮:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 447

মাগুরা সদর উপজেলার শ্রীমন্তপুর গ্রামে বহুবিবাহের জেরে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। তৃতীয় স্ত্রীকে নিয়ে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় স্বামী বাহারুল ইসলামের (৫০) ঘরে পেট্রল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন তার প্রথম স্ত্রী। এই ঘটনায় বাহারুল ইসলাম, তার তৃতীয় স্ত্রী লাভলী খাতুন (৩০) এবং তাদের ১০ মাস বয়সী শিশু সন্তান রোহান মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছেন।

পেট্রল ঢেলে আগুন, এরপর আত্মসমর্পণ

শনিবার ভোররাতে এই অগ্নিসংযোগের ঘটনাটি ঘটে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রথম স্ত্রী সুমি খাতুন রাত ১টার দিকে বাহারুল, লাভলী এবং শিশু সন্তানকে নিয়ে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় ঘরের বাইরে থেকে দরজা আটকে দেন। এরপর দরজার নিচ দিয়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। আগুন জ্বলে ওঠার সাথে সাথেই সুমি খাতুন স্থানীয় হাজিপুর পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন।

প্রতিবেশীরা চিৎকারে ছুটে এসে গুরুতর দগ্ধ তিনজনকে উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যান।

পারিবারিক কলহ থেকেই এই হামলা

জানা গেছে, ব্যবসায়ী বাহারুল ইসলাম তার প্রথম স্ত্রী সুমি খাতুন থাকা অবস্থায় পাঁচ বছর আগে দ্বিতীয় বিয়ে করেন, যা বেশিদিন টেকেনি। এরপর তিনি লাভলী খাতুনকে তৃতীয় স্ত্রী হিসেবে ঘরে তুলে আনেন। এ ঘটনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রথম স্ত্রী সুমির সঙ্গে তাদের পারিবারিক অশান্তি চলছিল। সেই ক্ষোভ থেকেই সুমি এই ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দগ্ধ তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. এহসানুল হক মাসুম জানান, পেট্রলের আগুনে দগ্ধ তিনজনেরই অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের প্রত্যেকের শরীরের ৩০ শতাংশের বেশি পুড়ে যাওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদেরকে শনিবার দুপুরে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।

মাগুরা সদর থানার ওসি আইয়ুব আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রথম স্ত্রী সুমি নিজেই পুলিশের কাছে এসে ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

তৃতীয় স্ত্রীকে নিয়ে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় স্বামীর ঘরে পেট্রল ঢেলে আগুন দিল প্রথম স্ত্রী

আপডেট সময় : ১০:৫৮:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

মাগুরা সদর উপজেলার শ্রীমন্তপুর গ্রামে বহুবিবাহের জেরে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। তৃতীয় স্ত্রীকে নিয়ে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় স্বামী বাহারুল ইসলামের (৫০) ঘরে পেট্রল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন তার প্রথম স্ত্রী। এই ঘটনায় বাহারুল ইসলাম, তার তৃতীয় স্ত্রী লাভলী খাতুন (৩০) এবং তাদের ১০ মাস বয়সী শিশু সন্তান রোহান মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছেন।

পেট্রল ঢেলে আগুন, এরপর আত্মসমর্পণ

শনিবার ভোররাতে এই অগ্নিসংযোগের ঘটনাটি ঘটে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রথম স্ত্রী সুমি খাতুন রাত ১টার দিকে বাহারুল, লাভলী এবং শিশু সন্তানকে নিয়ে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় ঘরের বাইরে থেকে দরজা আটকে দেন। এরপর দরজার নিচ দিয়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। আগুন জ্বলে ওঠার সাথে সাথেই সুমি খাতুন স্থানীয় হাজিপুর পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন।

প্রতিবেশীরা চিৎকারে ছুটে এসে গুরুতর দগ্ধ তিনজনকে উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যান।

পারিবারিক কলহ থেকেই এই হামলা

জানা গেছে, ব্যবসায়ী বাহারুল ইসলাম তার প্রথম স্ত্রী সুমি খাতুন থাকা অবস্থায় পাঁচ বছর আগে দ্বিতীয় বিয়ে করেন, যা বেশিদিন টেকেনি। এরপর তিনি লাভলী খাতুনকে তৃতীয় স্ত্রী হিসেবে ঘরে তুলে আনেন। এ ঘটনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রথম স্ত্রী সুমির সঙ্গে তাদের পারিবারিক অশান্তি চলছিল। সেই ক্ষোভ থেকেই সুমি এই ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দগ্ধ তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. এহসানুল হক মাসুম জানান, পেট্রলের আগুনে দগ্ধ তিনজনেরই অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের প্রত্যেকের শরীরের ৩০ শতাংশের বেশি পুড়ে যাওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদেরকে শনিবার দুপুরে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।

মাগুরা সদর থানার ওসি আইয়ুব আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রথম স্ত্রী সুমি নিজেই পুলিশের কাছে এসে ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।