ঢাকা ০১:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুষ্টিয়া থেকে নিখোঁজ শ্রমিকনেতার লাশ মিলল ফরিদপুরে

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০২:২৯:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫
  • / 361

কুষ্টিয়া জেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম সম্পাদক আবেদুর রহমান আন্নুর (৫৩) মরদেহ পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। গত ১৬ নভেম্বর কুষ্টিয়ায় নিখোঁজ হওয়ার আট দিন পর তাঁর অর্ধগলিত মরদেহ সোমবার (২৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ফরিদপুর জেলার পদ্মা নদীসংলগ্ন ডিক্রির চর ইউনিয়নের কবিরপুর এলাকা থেকে উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ।

মরদেহ উদ্ধারের পর রাতেই পরিবারের সদস্যরা ছবি দেখে আন্নুর পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। ফরিদপুর অঞ্চলের কোতোয়ালি নৌ ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক নাসিম আহম্মেদ আজ সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

নিখোঁজ ও দুর্ঘটনার বিবরণ

মৃত আবেদুর রহমান আন্নু কুষ্টিয়া জেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম সম্পাদক এবং সদর থানা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন।

নিখোঁজ: গত ১৬ নভেম্বর বেলা পৌনে ১২টার দিকে তিনি কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন এলাকার পদ্মা নদী থেকে নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় পরদিন তাঁর স্ত্রী জিয়াসমিন আরা রুমা কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেন।

দুর্ঘটনা: জিডি সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে আন্নু পদ্মা নদীর হাটশ হরিপুর মোহনায় মাছ কেনার জন্য ডিঙি নৌকায় যান। বেলা ১১টার দিকে চর ভবানীপুর এলাকায় যাওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবোঝাই বাল্কহেড ট্রলারের সঙ্গে তাঁর নৌকার ধাক্কা লাগে।

উদ্ধার অভিযান: ধাক্কার ফলে আন্নু ও নৌকার মাঝি দুজনেই পানিতে পড়ে যান। স্থানীয় জেলেরা নৌকার মাঝিকে উদ্ধার করতে পারলেও আন্নুর আর খোঁজ পাওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিস ও খুলনা থেকে আসা ডুবুরি দল টানা দুই দিন উদ্ধার অভিযান চালিয়েও তাঁকে খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়।

মরদেহ উদ্ধার ও হস্তান্তর প্রক্রিয়া

শনাক্তকরণ: নিহত আন্নুর ভাইয়ের ছেলে অর্ণব হাসান নিশ্চিত করেছেন, “রাতেই লাশের ছবি দেখে আমরা নিশ্চিত হয়েছি উদ্ধার হওয়া লাশ আমার চাচার।”

নৌ-পুলিশের বক্তব্য: নৌ ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক নাসিম আহম্মেদ জানান, মরদেহের শরীরে আঘাতের তেমন কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

কুষ্টিয়া পুলিশের বক্তব্য: কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন জানান, নৌ-পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে এবং আন্নু নিখোঁজের ঘটনায় তাঁর স্ত্রী থানায় জিডি করেছিলেন।

কুষ্টিয়া থেকে নিখোঁজ শ্রমিকনেতার লাশ মিলল ফরিদপুরে

আপডেট সময় : ০২:২৯:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫

কুষ্টিয়া জেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম সম্পাদক আবেদুর রহমান আন্নুর (৫৩) মরদেহ পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। গত ১৬ নভেম্বর কুষ্টিয়ায় নিখোঁজ হওয়ার আট দিন পর তাঁর অর্ধগলিত মরদেহ সোমবার (২৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ফরিদপুর জেলার পদ্মা নদীসংলগ্ন ডিক্রির চর ইউনিয়নের কবিরপুর এলাকা থেকে উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ।

মরদেহ উদ্ধারের পর রাতেই পরিবারের সদস্যরা ছবি দেখে আন্নুর পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। ফরিদপুর অঞ্চলের কোতোয়ালি নৌ ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক নাসিম আহম্মেদ আজ সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

নিখোঁজ ও দুর্ঘটনার বিবরণ

মৃত আবেদুর রহমান আন্নু কুষ্টিয়া জেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম সম্পাদক এবং সদর থানা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন।

নিখোঁজ: গত ১৬ নভেম্বর বেলা পৌনে ১২টার দিকে তিনি কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন এলাকার পদ্মা নদী থেকে নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় পরদিন তাঁর স্ত্রী জিয়াসমিন আরা রুমা কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেন।

দুর্ঘটনা: জিডি সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে আন্নু পদ্মা নদীর হাটশ হরিপুর মোহনায় মাছ কেনার জন্য ডিঙি নৌকায় যান। বেলা ১১টার দিকে চর ভবানীপুর এলাকায় যাওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবোঝাই বাল্কহেড ট্রলারের সঙ্গে তাঁর নৌকার ধাক্কা লাগে।

উদ্ধার অভিযান: ধাক্কার ফলে আন্নু ও নৌকার মাঝি দুজনেই পানিতে পড়ে যান। স্থানীয় জেলেরা নৌকার মাঝিকে উদ্ধার করতে পারলেও আন্নুর আর খোঁজ পাওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিস ও খুলনা থেকে আসা ডুবুরি দল টানা দুই দিন উদ্ধার অভিযান চালিয়েও তাঁকে খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়।

মরদেহ উদ্ধার ও হস্তান্তর প্রক্রিয়া

শনাক্তকরণ: নিহত আন্নুর ভাইয়ের ছেলে অর্ণব হাসান নিশ্চিত করেছেন, “রাতেই লাশের ছবি দেখে আমরা নিশ্চিত হয়েছি উদ্ধার হওয়া লাশ আমার চাচার।”

নৌ-পুলিশের বক্তব্য: নৌ ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক নাসিম আহম্মেদ জানান, মরদেহের শরীরে আঘাতের তেমন কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

কুষ্টিয়া পুলিশের বক্তব্য: কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন জানান, নৌ-পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে এবং আন্নু নিখোঁজের ঘটনায় তাঁর স্ত্রী থানায় জিডি করেছিলেন।