পোড়া মাটির রাস্তা’ বানিয়ে গেল ঠিকাদার! ফরিদপুরে ৬৩ লাখ টাকার নির্মম তামাশা
- আপডেট সময় : ০৯:৫৯:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ মে ২০২৫
- / 613
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় সদ্য মেরামত হওয়া এক কিলোমিটার সড়কে হাতের টানেই উঠে যাচ্ছে পাথর ও পিচের কার্পেটিং। মেরামতের কাজ শেষ হওয়ার একদিন পরই এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, যা নিয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা বলছেন, কাজের মান অত্যন্ত নিম্নমানের, কোথাও কোথাও ময়লা ও ধুলার ওপরেই পিচ ঢালাই করা হয়েছে।
৬৩ লাখ টাকার প্রকল্পেও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তথ্য অনুযায়ী, চরভদ্রাসন সদর ইউনিয়নের পাইচার মোড় থেকে মৃধা ডাঙ্গী (গোপালপুর লঞ্চঘাট মোড় থেকে মাথাভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত) ২ কিলোমিটার সড়ক ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে মেরামত করা হচ্ছে। এর মধ্যে এক কিলোমিটার সড়কে কার্পেটিং এবং বাকি অংশে সিলকোর্ট করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে এলজিইডি।
স্থানে স্থানে উঠে যাচ্ছে পিচ, গায়ে লেগে যাচ্ছে পথচারীদের
স্থানীয়দের অভিযোগ, এত বড় ব্যয়ের কাজেও মান বজায় রাখা হয়নি। পিচ ঢালাইয়ের নিচে প্রয়োজনীয় স্তর (খোয়া) না দিয়ে কোথাও পোড়া মাটি দেওয়া হয়েছে। ফলে কার্পেটিং উঠে গিয়ে রাস্তায় পিচ ছড়িয়ে পড়ছে। পথচারীদের পায়ে ও যানবাহনের চাকায় পিচ আটকে যাচ্ছে।
জনগণের প্রধান যাতায়াতপথেই এমন ভোগান্তি
স্থানীয় বাসিন্দা মো. মুরাদ হোসেন বলেন, “এটি তিনটি গ্রামের মানুষের মূল যাতায়াতপথ। অথচ ট্যাককোর্ট ঠিকমতো ব্যবহার না করায় কাজের মান খুবই বাজে হয়েছে।”
চেয়ারম্যানের অভিযোগ: পোড়া মাটির ওপর পিচ ঢালাই
চরভদ্রাসন সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজাদ খান বলেন, “প্রায় ৭-৮ মাস আগে কাজ শুরু করে ফেলে রাখা হয়। পরে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগের পর মেরামতের কাজ শুরু হলেও একদিন না যেতেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং। খোয়ার পরিবর্তে পোড়া মাটি ব্যবহার করা হয়েছে। কাজের মান খুবই নিম্নমানের। এর সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন।”
ঠিকাদারের বক্তব্য: সমস্যা ছিল, কিছুটা ঠিক করা হয়েছে
ঠিকাদার নিজাম উদ্দিন জানান, কাজটি তার ছেলে নাসিম আহমেদ মূল ঠিকাদারের কাছ থেকে কিনে সম্পন্ন করছেন। তিনি বলেন, “কাজে কিছু সমস্যা হয়েছিল, যেসব জায়গায় সমস্যা ছিল, তা ঠিক করে দেওয়া হয়েছে।”
প্রকৌশলীর বক্তব্য: গাড়ি চলাচলের চাপেই এমনটা হতে পারে
উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাবির হোসেন জানান, “এক কিলোমিটার কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে, বাকি অংশে সিলকোর্ট চলছে। কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি চলাচল করায় এমনটা হতে পারে। তবে এখনো বিল পরিশোধ হয়নি, কোনো ত্রুটি থাকলে ঠিকাদার দিয়ে তা ঠিক করানো হবে।”
উপজেলা প্রকৌশলী বললেন, কিছুদিন গেলে ঠিক হয়ে যাবে
উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুস ছাত্তার বলেন, “কার্পেটিংয়ের পরপরই পিচ তুলতে গেলে কিছুটা উঠতেই পারে, এটা স্বাভাবিক। কয়েকদিন পরে আর উঠবে না। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে উপসহকারী প্রকৌশলীকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।”
ইউএনওর হস্তক্ষেপ: তদন্তের নির্দেশনা
চরভদ্রাসন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিরা খাতুন বলেন, “এমন অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”





















