ঢাকা ০৭:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছেলেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মাকে গণধর্ষণ

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১১:৫৫:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 440

রাতের অন্ধকারের সুবিধা নিয়ে নিঝুম প্রবাসীর দরজায় এসে কড়া নেড়েছিল তারা। তৃষ্ণা মেটাতে চেয়েছিল এক ঘটি পানি আর একটি কুড়াল। দরজার ওপাশ থেকে পানি হাতে নিয়ে অবোধ নবম শ্রেণির ছেলেটি আসতেই মুহূর্তে খসে পড়েছিল ছদ্মবেশ! চকচকে অস্ত্রের ফলায় অবরুদ্ধ করা হয় কিশোরকে, আর তার চোখের সামনেই শুরু হয় এক নারকীয় তাণ্ডব।

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দলবদ্ধ ধর্ষণ, ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও প্রায় পাঁচ লাখ টাকাসহ স্বর্ণালঙ্কার লুটের এক কদর্য ও লোমহর্ষক অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত আটটার দিকে গফরগাঁও উপজেলার একটি প্রত্যন্ত গ্রামের প্রবাসীর বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। পৈশাচিক এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রাজীব (২৩) নামে এক অভিযুক্তকে রাতেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

কুড়াল চাওয়ার ছলে ঘরে ঢুকে তাণ্ডব ও ব্ল্যাকমেইল

পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শরীফ মিয়া (২৩) ও আরিফ মিয়া (২১)-সহ পাঁচ যুবকের একটি দল রাত আটটার দিকে প্রবাসীর বাড়ির দরজায় গিয়ে পানি ও কুড়াল চায়। নবম শ্রেণির ছেলেটি দরজার কাছে আসতেই তাকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করা হয়।

এরপর দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে তাণ্ডব ও ভাঙচুর চালায়। ঘর নির্মাণের জন্য আলমারিতে রাখা নগদ প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নেয় তারা। এরপর গৃহবধূকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ।

পৈশাচিকতার চরম রূপ প্রকাশ পায় যখন আটক অভিযুক্ত রাজীব নিজের মুঠোফোনে ওই নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে। ঘটনা কাউকে জানালে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় এবং আগামী তিন দিনের মধ্যে আরও দুই লাখ টাকা দাবি করে দুর্বৃত্তরা।

দুর্বৃত্তরা চলে যাওয়ার পর ভুক্তভোগীদের আর্তচিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে পুলিশে খবর দেয়। রাত তিনটার দিকে ঘটনাস্থল থেকে এক কিলোমিটার দূরের এক নির্জন এলাকা থেকে রাজীবকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ডিবির তাড়া খেয়ে রাজীব আলামত ধ্বংসের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত ফোনটি পানিতে ফেলে দিলেও পরে তা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

পুলিশের তৎপরতা ও আইনি পদক্ষেপ

ভুক্তভোগী নারীর দেবর জানান, বড় মেয়ের বিয়ের পর নবম শ্রেণিপড়ুয়া একমাত্র ছেলেকে নিয়ে বাড়িতে একা থাকতেন তাঁর ভাবি। এই সুযোগেই দুর্বৃত্তরা প্রবাসীর পরিবারটির ওপর হামলা চালায়। শুক্রবার বিকেলে এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গফরগাঁও সার্কেল) মনতোষ বিশ্বাস পুরো বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান—

“ভুক্তভোগী নারী পাঁচজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী দুজন সরাসরি পাশবিক নির্যাতনে জড়িত ছিলেন এবং বাকিরা বাইরে পাহারা দিচ্ছিলেন। আমরা ঘটনাস্থল থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করেছি এবং পানিতে ফেলে দেওয়া ফোন উদ্ধার করেছি। মেডিকেল পরীক্ষা ও প্রযুক্তিগত উপাত্ত বিশ্লেষণ করে তদন্ত এগিয়ে চলছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

ছেলেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মাকে গণধর্ষণ

আপডেট সময় : ১১:৫৫:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাতের অন্ধকারের সুবিধা নিয়ে নিঝুম প্রবাসীর দরজায় এসে কড়া নেড়েছিল তারা। তৃষ্ণা মেটাতে চেয়েছিল এক ঘটি পানি আর একটি কুড়াল। দরজার ওপাশ থেকে পানি হাতে নিয়ে অবোধ নবম শ্রেণির ছেলেটি আসতেই মুহূর্তে খসে পড়েছিল ছদ্মবেশ! চকচকে অস্ত্রের ফলায় অবরুদ্ধ করা হয় কিশোরকে, আর তার চোখের সামনেই শুরু হয় এক নারকীয় তাণ্ডব।

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দলবদ্ধ ধর্ষণ, ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও প্রায় পাঁচ লাখ টাকাসহ স্বর্ণালঙ্কার লুটের এক কদর্য ও লোমহর্ষক অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত আটটার দিকে গফরগাঁও উপজেলার একটি প্রত্যন্ত গ্রামের প্রবাসীর বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। পৈশাচিক এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রাজীব (২৩) নামে এক অভিযুক্তকে রাতেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

কুড়াল চাওয়ার ছলে ঘরে ঢুকে তাণ্ডব ও ব্ল্যাকমেইল

পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শরীফ মিয়া (২৩) ও আরিফ মিয়া (২১)-সহ পাঁচ যুবকের একটি দল রাত আটটার দিকে প্রবাসীর বাড়ির দরজায় গিয়ে পানি ও কুড়াল চায়। নবম শ্রেণির ছেলেটি দরজার কাছে আসতেই তাকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করা হয়।

এরপর দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে তাণ্ডব ও ভাঙচুর চালায়। ঘর নির্মাণের জন্য আলমারিতে রাখা নগদ প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নেয় তারা। এরপর গৃহবধূকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ।

পৈশাচিকতার চরম রূপ প্রকাশ পায় যখন আটক অভিযুক্ত রাজীব নিজের মুঠোফোনে ওই নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে। ঘটনা কাউকে জানালে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় এবং আগামী তিন দিনের মধ্যে আরও দুই লাখ টাকা দাবি করে দুর্বৃত্তরা।

দুর্বৃত্তরা চলে যাওয়ার পর ভুক্তভোগীদের আর্তচিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে পুলিশে খবর দেয়। রাত তিনটার দিকে ঘটনাস্থল থেকে এক কিলোমিটার দূরের এক নির্জন এলাকা থেকে রাজীবকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ডিবির তাড়া খেয়ে রাজীব আলামত ধ্বংসের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত ফোনটি পানিতে ফেলে দিলেও পরে তা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

পুলিশের তৎপরতা ও আইনি পদক্ষেপ

ভুক্তভোগী নারীর দেবর জানান, বড় মেয়ের বিয়ের পর নবম শ্রেণিপড়ুয়া একমাত্র ছেলেকে নিয়ে বাড়িতে একা থাকতেন তাঁর ভাবি। এই সুযোগেই দুর্বৃত্তরা প্রবাসীর পরিবারটির ওপর হামলা চালায়। শুক্রবার বিকেলে এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গফরগাঁও সার্কেল) মনতোষ বিশ্বাস পুরো বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান—

“ভুক্তভোগী নারী পাঁচজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী দুজন সরাসরি পাশবিক নির্যাতনে জড়িত ছিলেন এবং বাকিরা বাইরে পাহারা দিচ্ছিলেন। আমরা ঘটনাস্থল থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করেছি এবং পানিতে ফেলে দেওয়া ফোন উদ্ধার করেছি। মেডিকেল পরীক্ষা ও প্রযুক্তিগত উপাত্ত বিশ্লেষণ করে তদন্ত এগিয়ে চলছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”