জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারীরা শুধু নারীদের সামনে নাচবে: কবির আহমেদ
- আপডেট সময় : ০৪:৫৮:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 291
জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে দেশে শরিয়া আইন কায়েম করা হবে এবং সেই আইন অনুযায়ী নারীরা তাদের পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করবেন—সম্প্রতি এক বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে অংশ নিয়ে এমনটাই মন্তব্য করেছেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি কবির আহমদ। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থায় নারীদের জন্য বোরকা পরা বাধ্যতামূলক হবে না।
তাঁর মন্তব্যগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনা তৈরি করেছে নারী স্বাধীনতা ও বিনোদন সংক্রান্ত বক্তব্য।
নাচ, পর্দা ও নারী স্বাধীনতা
কবির আহমদের বক্তব্যে নারী স্বাধীনতা এবং শালীনতার বিষয়টি বারবার উঠে এসেছে। তাঁর মূল বক্তব্যগুলো নিম্নরূপ:
নাচ প্রসঙ্গে: তিনি বলেছেন, “জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারীরা শুধু নারীদের সামনে নাচবে। নারীদের নাচ পুরুষদের হয়তো দেখার সুযোগ সেভাবে থাকবে না। নারীরা নারীদের মাঝে নাচবে, কোনো সমস্যা নেই।” তাঁর মতে, নারীরা শালীনতার সঙ্গে নারীদের মাঝে যতটুকু সম্ভব ততটুকু বিনোদন করতে পারবে।
পর্দা ও বোরকা: তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা হলে বাংলাদেশে সব নারীকে বোরকা পড়তে হবে—এরকম কোনো বাধ্যবাধকতা থাকবে না।
শাস্তি নয়: ইসলামী শরীয়তের বিধান নারীদের জানানো হবে, কিন্তু কেউ যদি ব্যক্তিগতভাবে বোরকা পরার ইচ্ছা পোষণ না করে, তবে তাকে শাস্তিও দেওয়া হবে না। অন্য ধর্মাবলম্বীদের জন্যও বোরকা পরা বাধ্যতামূলক করা হবে না।
শরিয়া আইন ও নাগরিক অধিকার
কবির আহমদ আরও দাবি করেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে অবশ্যই শরীয়া আইন কায়েম করবে এবং তখন দেশের বিদ্যমান আইনের প্রয়োজন থাকবে না।
তিনি বলেন, “ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থা হলে দেশে যে বিদ্যমান আইন আছে, সে বিদ্যমান আইন থেকে একজন নাগরিক অনেক বেশি অধিকার পাবে।”
ভ্রান্ত ধারণা খণ্ডন: তিনি বলেন, “ইসলাম নারীদেরকে ঘরের মধ্যে অথবা কোনো কোঠার মধ্যে রেখে বদ্ধ করে রাখবে। এটা ইসলাম না। ইসলাম সবচাইতে বেশি নারী স্বাধীনতা দিয়েছে।” তিনি তাঁর ব্যক্তিগত উদাহরণ টেনে দেখান যে, তাঁর মেয়েও কাজ করেন, চেম্বার করেন—যা ইসলাম নিষেধ করেনি।
কবির আহমদের মতে, ‘আগামীকাল ভোর থেকে কোনো নারী আর ঘর থেকে বের হতে পারবে না’—এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভ্রান্ত।





















