ফরিদপুরে বিএনপির কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর: আহত ২০
- আপডেট সময় : ০১:০২:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
- / 405
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে বিএনপির একটি অস্থায়ী কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের কমলেশ্বরদী চরপাড়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে নারীসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
ঘটনার পটভূমি:
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কমলেশ্বরদী চরপাড়া গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ২১ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি নিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন মুশার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২০ সালে ওই জমির একটি অংশ জোরপূর্বক দখল করে কংক্রিটের স্থাপনা নির্মাণ করেন চেয়ারম্যান ও তার সহযোগীরা। এ নিয়ে উচ্চ আদালতের রায় থাকলেও জমির দখল পাননি বিল্লাল হোসেন। শুক্রবার ওই বিরোধ মীমাংসার জন্য সালিস ডাকার কথা থাকলেও চেয়ারম্যানপক্ষ উপস্থিত না হওয়ায় স্থানীয়রা বিতর্কিত ওই স্থাপনায় তালা ঝুলিয়ে দেন।
হামলা ও ভাঙচুর:
এরই জেরে শনিবার সন্ধ্যায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, চেয়ারম্যানপক্ষের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চরপাড়া বাজারে এসে বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে হামলা চালায়। এ সময় ছিরু মাতুব্বরের সারের দোকান, জাহিদুল ইসলামের বাড়ি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা নেতা এনামুল চৌধুরীর বাড়িতেও ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। হামলায় অন্তত ২০ জন আহত হন, যাদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পাল্টা অভিযোগ:
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন মুশা। তিনি দাবি করেন, বিএনপির কার্যালয় ভাঙচুরের খবর সঠিক নয়; বরং তার প্রতিপক্ষের লোকজনই ভাঙচুর করে দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে। তিনি জানান, তার নিজের দোকানেও তালা লাগানো হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য:
বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা-মধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আজম খান জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।




















