ঢাকা ১২:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যে শহীদ মিনারে দুই যুগেও ফুল দিতে যায়নি কেউ

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৪:১৬:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • / 186

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে ২০০১ সালে নির্মিত একটি শহীদ মিনার অযত্ন আর অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে। দুই যুগ পার হলেও শহীদ মিনারটিতে কখনো কাউকে ফুল দিতে দেখা যায়নি।

নির্মাণের ইতিহাস

উপজেলা পরিষদের পূর্বপাশে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ধারে ছিল দুটি বিশাল পুকুর। মাঝ দিয়ে ছিল উপজেলা পরিষদে যাওয়ার প্রবেশ পথ। ২০০১ সালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উদ্যোগে ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় পুকুর দুটি ভরাট করা হয়। পুকুরের জায়গায় এক পাশে স্মৃতিসৌধ আর অন্য পাশে একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়। বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবসে স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করলেও শহীদ মিনারটিতে কেউ কখনো ফুল দেয়নি।

বর্তমান অবস্থা

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শহীদ মিনারটির মূল ফটক সব সময় থাকে তালাবদ্ধ। পরিষ্কার না করায় এর চারপাশে জমেছে ময়লার স্তূপ। মিনারটি ঢাকা পড়ছে জঙ্গলে। ধ্বসে পড়ছে মিনারের বিভিন্ন অংশ।

স্থানীয়দের বক্তব্য

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী মিশন আলী বলেন, “বছরের পর বছর যায়, কিন্তু এ শহীদ মিনারটিতে কেউ ফুল দেয় না। স্থানীয় প্রশাসনও কোনো উদ্যোগ নয় না। তাহলে সরকারের টাকা খরচ করে এটি কেন নির্মাণ করা হলো? বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলেও প্রশাসনের টনক নড়েনি।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক শিক্ষক বলেন, “এ শহীদ মিনার রেখেই সবাই সরকারি মাহতাব উদ্দিন কলেজ চত্ত্বরে নির্মিত শহীদ মিনারে ফুল দিতে যায়। কিন্তু এটি পড়েই আছে। কোনদিন কাউকে ফুল দিতে দেখিনি।”

প্রশাসনের বক্তব্য

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. দেদারুল ইসলাম বলেন, “আমি কিছুদিন আগে এসেছি। বিষয়টি নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই ঘটনায় শহীদ মিনারের নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার চিত্র ফুটে উঠেছে।

যে শহীদ মিনারে দুই যুগেও ফুল দিতে যায়নি কেউ

আপডেট সময় : ০৪:১৬:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে ২০০১ সালে নির্মিত একটি শহীদ মিনার অযত্ন আর অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে। দুই যুগ পার হলেও শহীদ মিনারটিতে কখনো কাউকে ফুল দিতে দেখা যায়নি।

নির্মাণের ইতিহাস

উপজেলা পরিষদের পূর্বপাশে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ধারে ছিল দুটি বিশাল পুকুর। মাঝ দিয়ে ছিল উপজেলা পরিষদে যাওয়ার প্রবেশ পথ। ২০০১ সালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উদ্যোগে ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় পুকুর দুটি ভরাট করা হয়। পুকুরের জায়গায় এক পাশে স্মৃতিসৌধ আর অন্য পাশে একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়। বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবসে স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করলেও শহীদ মিনারটিতে কেউ কখনো ফুল দেয়নি।

বর্তমান অবস্থা

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শহীদ মিনারটির মূল ফটক সব সময় থাকে তালাবদ্ধ। পরিষ্কার না করায় এর চারপাশে জমেছে ময়লার স্তূপ। মিনারটি ঢাকা পড়ছে জঙ্গলে। ধ্বসে পড়ছে মিনারের বিভিন্ন অংশ।

স্থানীয়দের বক্তব্য

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী মিশন আলী বলেন, “বছরের পর বছর যায়, কিন্তু এ শহীদ মিনারটিতে কেউ ফুল দেয় না। স্থানীয় প্রশাসনও কোনো উদ্যোগ নয় না। তাহলে সরকারের টাকা খরচ করে এটি কেন নির্মাণ করা হলো? বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলেও প্রশাসনের টনক নড়েনি।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক শিক্ষক বলেন, “এ শহীদ মিনার রেখেই সবাই সরকারি মাহতাব উদ্দিন কলেজ চত্ত্বরে নির্মিত শহীদ মিনারে ফুল দিতে যায়। কিন্তু এটি পড়েই আছে। কোনদিন কাউকে ফুল দিতে দেখিনি।”

প্রশাসনের বক্তব্য

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. দেদারুল ইসলাম বলেন, “আমি কিছুদিন আগে এসেছি। বিষয়টি নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই ঘটনায় শহীদ মিনারের নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার চিত্র ফুটে উঠেছে।