রংপুরে ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষক আটক
- আপডেট সময় : ১০:৩৪:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ নভেম্বর ২০২৩
- / 168
রংপুরে ৭ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে মাদরাসার ভেতরে আটকে রেখে ৩৩ দিন ধরে ধর্ষণ করার অভিযোগে হাফেজ আনোয়ার হোসেন (৩০) নামে এক মাদরাসা শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ।
অভিযুক্ত শিক্ষক রংপুরের মিঠাপুকুরে একটি মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও একই সঙ্গে একটি মক্তবের দায়িত্বে রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২ নভেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে মিঠাপুকুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজার রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আটক আনোয়ার হোসেন মিঠাপুকুর উপজেলার ৩ নম্বর পায়রাবন্দ ইউনিয়নের ইসলামপুর বিন্নাপাড়া গ্রামের সামছুল ইসলামের ছেলে।
ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রী ও পরিবারের সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত হাফেজ আনোয়ার হোসেন নিজ এলাকায় ইসলামপুর বেলবাড়ি দারুস ছালাম একাডেমি নুরানি হাফেজিয়া মাদরাসার
নামে একটি আবাসিক মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। মাদরাসায় নিজেই পরিচালক ও শিক্ষক হিসেবে আবাসিক ছাত্রদের পড়াশোনা করার পাশাপাশি ইসলামপুর ভাংগার পাড়া মসজিদে ইমাম এবং মক্তব পড়ার দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
এসময় তার মক্তবে পড়তেন ইসলামপুর ভাংগার পাড়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের নাবালিকা কন্যা, চূহড় দ্বী-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ওই ছাত্রী (১৪)। মক্তব পড়ার সময় অভিযুক্ত হুজুর আনোয়ার হোসেন ফুসলিয়ে ওই ছাত্রীকে তার নিজের প্রতিষ্ঠিত মাদরাসায় গত-২৮ সেপ্টেম্বর রাতে কৌশলে বিয়ের প্রলোভণে নিয়ে গিয়ে একটানা ৩৩ দিন আটক রেখে ধর্ষণ করে আসছিলেন।
ওই ছাত্রীর খবর না পেয়ে বাবা সাইফুল ইসলাম মিঠাপুকুর থানায় একটি নিখোঁজ জিডি করেন। পরে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে স্থানীয় কিছু ছেলে ওই হুজুরের মাদরাসায় গিয়ে নিখোঁজ ছাত্রী কোথায় আছে জানতে চেয়ে হুমকি দিলে অভিযুক্ত শিক্ষক আনোয়ার হোসেন তার মাদরাসা থেকে ছাত্রীকে বুধবার (১ নভেম্বর) রাতে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।
এসময় ওই ছাত্রীকে তার পরিবারের লোকজন জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানান।
ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রী জানান, আনোয়ার হুজুর আমাকে তার প্রতিষ্ঠিত মাদরাসার অফিস কক্ষে রাখতেন। বিয়ের প্রলোভনে নিয়মিত ধর্ষণ করতেন। তার অফিসে কেউ গেলে তাকে আলমারির ভিতরে লুকিয়ে রেখে স্বাভাবিক কাজকর্ম করতেন।
এ বিষয়ে মিঠাপুকুর থানার (ওসি) মোস্তাফিজার রহমান জানান, অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ভিকটিমের পরিবার থানায় এসেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।












