আমরা জাতিগত নিধন সমর্থন করি না: খলিলুর রহমান
রোহিঙ্গা ছাড়া রাখাইনের প্রশাসন মানবে না বাংলাদেশ: আরাকান আর্মিকে সোজাসাপ্টা বার্তা
- আপডেট সময় : ০১:১৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ মে ২০২৫
- / 160
মিয়ানমারের রাখাইনে নতুন প্রশাসনিক কাঠামোতে রোহিঙ্গাদের অন্তর্ভুক্তি দেখতে চায় বাংলাদেশ। এ বিষয়ে আরাকান আর্মিকে সরাসরি জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার (৬ মে) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, “আমরা চেষ্টা করছি, যেন আর নতুন কোনো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে না আসে। এ কথা আমরা খুব জোরের সঙ্গে আরাকান আর্মিকে জানিয়েছি। জাতিসংঘের মাধ্যমে আমরা তাদের যেসব বার্তা দিয়েছি, তার মধ্যে অন্যতম হলো—রাখাইনে যে নতুন প্রশাসন গঠিত হচ্ছে, তার প্রতিটি স্তরে আমরা রোহিঙ্গাদের অংশগ্রহণ দেখতে চাই।”
রোহিঙ্গাদের বাদ দিলে সেটি হবে ‘জাতিগত নিধনের নিদর্শন’
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা আরও বলেন, “যদি তারা রোহিঙ্গাদের অন্তর্ভুক্ত না করে, তাহলে সেটিকে আমরা জাতিগত নিধনের একটি নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করব। এটি আমরা কোনোভাবেই সমর্থন করতে পারি না, করবও না। যদি তারা রোহিঙ্গাদের অন্তর্ভুক্ত না করে, তবে তাদের সঙ্গে আমাদের আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাওয়া খুবই কঠিন হবে।”
তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বের যেকোনো স্থানে জাতিগত নিধনের বিরোধিতা করি। এটি আরাকান আর্মির জন্য একটি প্রথম পরীক্ষা। আমরা এখন দেখছি তারা এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারে কিনা।”
আরাকান আর্মির সঙ্গে সরাসরি প্রশ্নোত্তর
খলিলুর রহমান জানান, আরাকান আর্মির কাছে সরাসরি প্রশ্ন রাখা হয়েছে—“আপনি জাতিগত নিধনের পক্ষে, না বিপক্ষে?” এ বিষয়ে কোনো রাখঢাকা নেই বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা তাদের জবাবের অপেক্ষায় আছি। আমরা সেই জবাব বিচার-বিবেচনা করে দেখব।”
মিয়ানমারের প্রতিক্রিয়া নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান
মিয়ানমারের প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বলেন, “আমরা একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র। আমরা যাদের প্রয়োজন মনে করি, তাদের সঙ্গেই কথা বলি। কে কী বলল, তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না। আমরা আমাদের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছি এবং বাস্তবায়ন করছি।”
তিনি বলেন, “মিয়ানমার আরাকান আর্মিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে। কিন্তু তারাও তো তাদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে কথা বলছে। বাস্তবতা হচ্ছে, এখন আমাদের সীমান্তের ওপারে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণ। আমাদের সার্বভৌম সীমান্ত আমাদেরকেই নিরাপদ রাখতে হবে। সেখানে যেই থাকুক, আমাদের তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে।”
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও মানবিক সহায়তা
মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাদের মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ আছে। সম্প্রতি ভূমিকম্পের সময় আমরা তাদের সাহায্য পাঠিয়েছি—তাদের অনুরোধের অপেক্ষা করিনি। বাণিজ্যিক সম্পর্ক আছে, রোহিঙ্গা ইস্যুতেও আলোচনা চলছে। বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনেও সর্বোচ্চ পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে।”
রাখাইনে বাংলাদেশ মানবিক সহায়তা পাঠাবে কিনা—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, “সব পক্ষ রাজি হলেই যে বাংলাদেশ সহায়তা পাঠাবে, এমন কোনো কথা নেই। আমাদের আরও কিছু বিষয় বিবেচনায় রাখতে হয়।”

























