টেবিল থেকে টাইমলাইনে: শিক্ষক রঞ্জিতের ফেসবুকে ১৮৭ স্কুলের প্রশ্ন ফাঁস
- আপডেট সময় : ১০:১৯:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ মে ২০২৫
- / 257
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির প্রথম সাময়িক পরীক্ষার ইংরেজি বিষয়ের প্রশ্নপত্র ফেসবুকে ফাঁস করে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন এক শিক্ষক। মঙ্গলবার এ ঘটনা সামনে আসার পর উপজেলায় চলছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা।
পরদিনই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল পরীক্ষা
বুধবার চতুর্থ শ্রেণির ইংরেজি বিষয়ের প্রথম সাময়িক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ঠিক তার আগের দিনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ায় অভিভাবকসহ সচেতন মহলে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
কীভাবে ফাঁস হলো প্রশ্নপত্র
জানা গেছে, উপজেলার রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের ১৭২নং খাগবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মানদা চাঁদ উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে ইংরেজি বিষয়ের প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে নিজের অফিসের টেবিলে রাখেন। ওই সময় সহকারী শিক্ষক রঞ্জিত কুমার ঘোষ প্রশ্নপত্র দেখার কথা বলে তা মোবাইলে ছবি তুলে নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করেন। মুহূর্তেই পোস্টটি ভাইরাল হয়ে যায় এবং প্রশ্নপত্র উপজেলাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
সচেতন মহলের উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া
উপজেলার কান্দি গ্রামের সমাজসেবক রফিকুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষক রঞ্জিত কুমার ঘোষ মোবাইলে প্রশ্নপত্রের ছবি তুলে তা ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। প্রশ্নপত্রের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা প্রশাসনের কাছে দোষীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য
প্রধান শিক্ষক মানদা চাঁদ বলেন, “মঙ্গলবার উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে প্রশ্নপত্র নিয়ে আমার অফিসের টেবিলে রাখি। সহকারী শিক্ষক রঞ্জিত কুমার ঘোষ তা দেখার কথা বলে মোবাইলে ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেন। পরে অনেকে বিষয়টি আমাকে জানালে আমি তাৎক্ষণিকভাবে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করি।”
অভিযুক্ত শিক্ষকের দাবি
অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক রঞ্জিত কুমার ঘোষ বলেন, “মোবাইলে প্রশ্নপত্রের ছবি তুলতে গিয়ে ভুলবশত আমার ফেসবুক আইডি থেকে তা পোস্ট হয়ে যায়। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে আমি তা ফেসবুক থেকে ডিলেট করে দিয়েছি।”
প্রশাসনের অবস্থান ও তদন্ত কমিটি
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মঈনুল হক বলেন, “যদি কেউ আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা প্রশাসন কোনো ধরনের দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয় না। এ ঘটনায় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।”





















