ঢাকা ০৩:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রৌমারী ও ভুরুঙ্গামারী সীমান্তে ৪৪ জন আটক

খাগড়াছি সীমান্তে ৭৯ ভারতীয় মুসলিমের জোরপূর্বক অনুপ্রবেশ

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০১:২৬:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ মে ২০২৫
  • / 286

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে ভারতীয় মুসলিম নাগরিকদের জোরপূর্বক অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল ভোর আনুমানিক ৫টায় পুশইনের এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, মাটিরাঙ্গা উপজেলাধীন ৪০ বিজিবি খেদাছড়া ব্যাটালিয়নের আওতাধীন বেলছড়ি বিওপি ও শান্তিপুর বিওপির মাঝামাঝি স্থান দিয়ে ২৭ জন ভারতীয় মুসলিম (গুজরাট রাজ্যের) নাগরিক উপজেলার গোমতি ইউনিয়নের শান্তিপুর ও হাজীপাড়া এলাকায় প্রবেশ করে এবং স্থানীয় আবুল হোসেন মেম্বারের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। পরে বিজিবি সদস্যরা এসে তাদের নিজেদের হেফাজতে নেয়।

অন্যদিকে, মাটিরাঙ্গা উপজেলার যামিনীপাড়া সীমান্তবর্তী তাইন্দং বিওপি (২৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন) এলাকা দিয়ে আরও ২২ জন ভারতীয় মুসলিম পুশইন হয়েছে। একইভাবে খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার রুপসেনপাড়া বিওপি (৩২ বিজিবি ব্যাটালিয়ন) সীমান্ত দিয়ে ৩০ জন ভারতীয় মুসলিম নাগরিক বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে বলে জানা গেছে।

পুরোনো বংশপরিচয়ের অজুহাতে অনুপ্রবেশ

অনুপ্রবেশকারীরা দাবি করেছে, তাদের পূর্বপুরুষরা বাংলাদেশি ছিলেন, সেই অজুহাতেই তাদের বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, গুজরাট রাজ্য থেকে বিমানযোগে তাদের ত্রিপুরা রাজ্যে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখান থেকে বিএসএফ-এর সহায়তায় সীমান্তবর্তী এলাকায় এনে বাংলাদেশে পুশইন করা হয়।

সূত্রে আরও জানা যায়, এই অনুপ্রবেশকারীদের সঙ্গে আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জন ভারতীয় মুসলিম বিএসএফ-এর তত্ত্বাবধানে রয়েছে, যাদেরকে পর্যায়ক্রমে খেদাছড়া, যামিনীপাড়া, খাগড়াছড়ি এবং পানছড়ি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশইন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

কুড়িগ্রাম সীমান্তে রোহিঙ্গাসহ ৪৪ জন আটক

এদিকে কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী ও ভূরুঙ্গামারী সীমান্ত দিয়েও একই ধরনের পুশইনের ঘটনা ঘটেছে। সেখানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৪৪ জন অনুপ্রবেশকারীকে আটক করেছে। তাদের মধ্যে ৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকি ৩৬ জনের মধ্যে ২২ জন রোহিঙ্গা বলে ধারণা করা হচ্ছে, যাদের পরিচয় যাচাই-বাছাই করছে বিজিবি।

বিজিবি জানায়, গতকাল ভোরে রৌমারী উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা এবং ভূরুঙ্গামারীর ভাওয়ালকুরি সীমান্ত দিয়ে এসব ব্যক্তি বাংলাদেশে প্রবেশ করে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের আটক করে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

রৌমারী সীমান্ত এলাকা থেকে ৩০ জন এবং ভূরুঙ্গামারী সীমান্ত এলাকা থেকে নারী ও শিশুসহ ১৪ জনকে আটক করা হয়। কুড়িগ্রাম-২২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুব উল হক নিশ্চিত করেছেন যে, ভূরুঙ্গামারীতে আটক ১৪ জনই রোহিঙ্গা নাগরিক।

স্থানীয়দের সহযোগিতায় বিজিবির তৎপরতা

স্থানীয়রা জানান, বুধবার সকালে সীমান্ত এলাকার বাজারে ঘোরাফেরার সময় অনুপ্রবেশকারীদের কথাবার্তা সন্দেহজনক মনে হলে তারা বিজিবিকে খবর দেন। রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লুৎফর রহমান জানান, সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে ৩০ জনকে পুশইন করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ২২ জন রোহিঙ্গা বলে ধারণা করা হচ্ছে। আটককৃতদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

রৌমারী ও ভুরুঙ্গামারী সীমান্তে ৪৪ জন আটক

খাগড়াছি সীমান্তে ৭৯ ভারতীয় মুসলিমের জোরপূর্বক অনুপ্রবেশ

আপডেট সময় : ০১:২৬:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ মে ২০২৫

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে ভারতীয় মুসলিম নাগরিকদের জোরপূর্বক অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল ভোর আনুমানিক ৫টায় পুশইনের এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, মাটিরাঙ্গা উপজেলাধীন ৪০ বিজিবি খেদাছড়া ব্যাটালিয়নের আওতাধীন বেলছড়ি বিওপি ও শান্তিপুর বিওপির মাঝামাঝি স্থান দিয়ে ২৭ জন ভারতীয় মুসলিম (গুজরাট রাজ্যের) নাগরিক উপজেলার গোমতি ইউনিয়নের শান্তিপুর ও হাজীপাড়া এলাকায় প্রবেশ করে এবং স্থানীয় আবুল হোসেন মেম্বারের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। পরে বিজিবি সদস্যরা এসে তাদের নিজেদের হেফাজতে নেয়।

অন্যদিকে, মাটিরাঙ্গা উপজেলার যামিনীপাড়া সীমান্তবর্তী তাইন্দং বিওপি (২৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন) এলাকা দিয়ে আরও ২২ জন ভারতীয় মুসলিম পুশইন হয়েছে। একইভাবে খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার রুপসেনপাড়া বিওপি (৩২ বিজিবি ব্যাটালিয়ন) সীমান্ত দিয়ে ৩০ জন ভারতীয় মুসলিম নাগরিক বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে বলে জানা গেছে।

পুরোনো বংশপরিচয়ের অজুহাতে অনুপ্রবেশ

অনুপ্রবেশকারীরা দাবি করেছে, তাদের পূর্বপুরুষরা বাংলাদেশি ছিলেন, সেই অজুহাতেই তাদের বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, গুজরাট রাজ্য থেকে বিমানযোগে তাদের ত্রিপুরা রাজ্যে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখান থেকে বিএসএফ-এর সহায়তায় সীমান্তবর্তী এলাকায় এনে বাংলাদেশে পুশইন করা হয়।

সূত্রে আরও জানা যায়, এই অনুপ্রবেশকারীদের সঙ্গে আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জন ভারতীয় মুসলিম বিএসএফ-এর তত্ত্বাবধানে রয়েছে, যাদেরকে পর্যায়ক্রমে খেদাছড়া, যামিনীপাড়া, খাগড়াছড়ি এবং পানছড়ি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশইন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

কুড়িগ্রাম সীমান্তে রোহিঙ্গাসহ ৪৪ জন আটক

এদিকে কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী ও ভূরুঙ্গামারী সীমান্ত দিয়েও একই ধরনের পুশইনের ঘটনা ঘটেছে। সেখানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৪৪ জন অনুপ্রবেশকারীকে আটক করেছে। তাদের মধ্যে ৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকি ৩৬ জনের মধ্যে ২২ জন রোহিঙ্গা বলে ধারণা করা হচ্ছে, যাদের পরিচয় যাচাই-বাছাই করছে বিজিবি।

বিজিবি জানায়, গতকাল ভোরে রৌমারী উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা এবং ভূরুঙ্গামারীর ভাওয়ালকুরি সীমান্ত দিয়ে এসব ব্যক্তি বাংলাদেশে প্রবেশ করে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের আটক করে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

রৌমারী সীমান্ত এলাকা থেকে ৩০ জন এবং ভূরুঙ্গামারী সীমান্ত এলাকা থেকে নারী ও শিশুসহ ১৪ জনকে আটক করা হয়। কুড়িগ্রাম-২২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুব উল হক নিশ্চিত করেছেন যে, ভূরুঙ্গামারীতে আটক ১৪ জনই রোহিঙ্গা নাগরিক।

স্থানীয়দের সহযোগিতায় বিজিবির তৎপরতা

স্থানীয়রা জানান, বুধবার সকালে সীমান্ত এলাকার বাজারে ঘোরাফেরার সময় অনুপ্রবেশকারীদের কথাবার্তা সন্দেহজনক মনে হলে তারা বিজিবিকে খবর দেন। রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লুৎফর রহমান জানান, সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে ৩০ জনকে পুশইন করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ২২ জন রোহিঙ্গা বলে ধারণা করা হচ্ছে। আটককৃতদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।