ঢাকা ১২:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরের ধানক্ষেতে কিশোরকে কুপিয়ে হত্যা: গ্যাং-সন্ত্রাসে কাঁপছে গ্রাম!

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৭:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ মে ২০২৫
  • / 658

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের থানমাত্তা গ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে ইয়াসিন খালাসী (১৬) নামে এক ওয়ার্কশপ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় রায়হান শেখ (১৮) ও সজীব মাতব্বর নামের দুই যুবক গুরুতর আহত হন। শনিবার (১০ মে) রাত ১০টার দিকে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে।

নিহত ইয়াসিন থানমাত্তা গ্রামের জাহাঙ্গীর খালাসীর ছেলে।

পুরনো বিরোধ থেকেই রক্তাক্ত পরিণতি

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, থানমাত্তা গ্রামের একটি পুরনো বটগাছকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বটগাছের নিচে একসময় গানবাজনার আসর বসাতেন স্থানীয় ব্যক্তি নুরা। তার মৃত্যুর পর তার স্ত্রী হালিমা সেখানে বসবাস শুরু করেন। কয়েক মাস আগে গাছের একটি ডাল একটি দোকানের ওপর পড়ে গেলে শরীফ গ্রুপের দোকানদাররা সেটি কেটে ফেলেন। হালিমার পক্ষ নিয়ে দাঁড়ান ইয়াসিনের বাবা জাহাঙ্গীর খালাসী। অন্যদিকে শরীফ গ্রুপের পক্ষে অবস্থান নেন বাদশা শরীফ ও আলমগীর শরীফ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।

পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে খুন

শনিবার রাত ১০টার দিকে থানমাত্তা বটতলা এলাকা থেকে ইয়াসিনকে ডেকে নেয় কালামৃধা ইউনিয়নের ফুলমাল্লিক গ্রামের আউয়াল বেপারীর ছেলে ইসমাইল বেপারী। পরে একটি নির্জন এলাকায় ব্রিজের নিচে ধানক্ষেতে নিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

আহতদের মধ্যে একজন কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধেও কথা বলেছিল

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আলমগীর সরদার জানান, নিহত ইয়াসিনকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হন ফকু শেখের ছেলে রায়হান শেখ ও তার আত্মীয় সজীব মাতব্বর। তারা খুনের মূল পরিকল্পনাকারীদের প্রতিবাদ করছিলেন বলেও জানান তিনি। আহতদের একজনের বাড়ি কাশেমপুর এলাকায়।

নিহতের বাবার আহাজারি

ইয়াসিনের বাবা জাহাঙ্গীর খালাসী বলেন, “পূর্ব শত্রুতার জেরে আমার ছেলেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে ওরা। কিশোর গ্যাংয়ের দুই সদস্য আহত হওয়ায় তাদের লোকজনই খবর দিয়ে আমাকে জানায়। না হলে ছেলের লাশটাও খুঁজে পাওয়া যেত না। আমি এর ন্যায়বিচার চাই।”

এলাকায় উত্তেজনা, ভাঙচুর ও লুট

ইয়াসিনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়। প্রতিপক্ষ বাদশা শরীফের বাড়িসহ অন্তত ১০-১২টি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

প্রশাসনের বক্তব্য

ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশরাফ হোসেন বলেন, “ঘটনাটি আমরা মৌখিকভাবে জেনেছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ব শত্রুতার জেরেই ইয়াসিনকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এখনো অফিসিয়ালি কোনো কাগজপত্র আসেনি। ঢাকা মেডিকেল থেকে মরদেহ আসার পর বিস্তারিত বলা যাবে।”

চেয়ারম্যানদের ভূমিকা

আজিমনগর ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাজাহান হাওলাদার বলেন, “আমার জানা মতে, ইয়াসিনের সঙ্গে কালামৃধা গ্রামের কিছু কিশোরের পুরনো শত্রুতা ছিল। সেই থেকেই এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।”

তবে কালামৃধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রেজাউল মাতুব্বরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ফরিদপুরের ধানক্ষেতে কিশোরকে কুপিয়ে হত্যা: গ্যাং-সন্ত্রাসে কাঁপছে গ্রাম!

আপডেট সময় : ০৩:৫৭:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ মে ২০২৫

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের থানমাত্তা গ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে ইয়াসিন খালাসী (১৬) নামে এক ওয়ার্কশপ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় রায়হান শেখ (১৮) ও সজীব মাতব্বর নামের দুই যুবক গুরুতর আহত হন। শনিবার (১০ মে) রাত ১০টার দিকে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে।

নিহত ইয়াসিন থানমাত্তা গ্রামের জাহাঙ্গীর খালাসীর ছেলে।

পুরনো বিরোধ থেকেই রক্তাক্ত পরিণতি

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, থানমাত্তা গ্রামের একটি পুরনো বটগাছকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বটগাছের নিচে একসময় গানবাজনার আসর বসাতেন স্থানীয় ব্যক্তি নুরা। তার মৃত্যুর পর তার স্ত্রী হালিমা সেখানে বসবাস শুরু করেন। কয়েক মাস আগে গাছের একটি ডাল একটি দোকানের ওপর পড়ে গেলে শরীফ গ্রুপের দোকানদাররা সেটি কেটে ফেলেন। হালিমার পক্ষ নিয়ে দাঁড়ান ইয়াসিনের বাবা জাহাঙ্গীর খালাসী। অন্যদিকে শরীফ গ্রুপের পক্ষে অবস্থান নেন বাদশা শরীফ ও আলমগীর শরীফ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।

পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে খুন

শনিবার রাত ১০টার দিকে থানমাত্তা বটতলা এলাকা থেকে ইয়াসিনকে ডেকে নেয় কালামৃধা ইউনিয়নের ফুলমাল্লিক গ্রামের আউয়াল বেপারীর ছেলে ইসমাইল বেপারী। পরে একটি নির্জন এলাকায় ব্রিজের নিচে ধানক্ষেতে নিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

আহতদের মধ্যে একজন কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধেও কথা বলেছিল

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আলমগীর সরদার জানান, নিহত ইয়াসিনকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হন ফকু শেখের ছেলে রায়হান শেখ ও তার আত্মীয় সজীব মাতব্বর। তারা খুনের মূল পরিকল্পনাকারীদের প্রতিবাদ করছিলেন বলেও জানান তিনি। আহতদের একজনের বাড়ি কাশেমপুর এলাকায়।

নিহতের বাবার আহাজারি

ইয়াসিনের বাবা জাহাঙ্গীর খালাসী বলেন, “পূর্ব শত্রুতার জেরে আমার ছেলেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে ওরা। কিশোর গ্যাংয়ের দুই সদস্য আহত হওয়ায় তাদের লোকজনই খবর দিয়ে আমাকে জানায়। না হলে ছেলের লাশটাও খুঁজে পাওয়া যেত না। আমি এর ন্যায়বিচার চাই।”

এলাকায় উত্তেজনা, ভাঙচুর ও লুট

ইয়াসিনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়। প্রতিপক্ষ বাদশা শরীফের বাড়িসহ অন্তত ১০-১২টি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

প্রশাসনের বক্তব্য

ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশরাফ হোসেন বলেন, “ঘটনাটি আমরা মৌখিকভাবে জেনেছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ব শত্রুতার জেরেই ইয়াসিনকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এখনো অফিসিয়ালি কোনো কাগজপত্র আসেনি। ঢাকা মেডিকেল থেকে মরদেহ আসার পর বিস্তারিত বলা যাবে।”

চেয়ারম্যানদের ভূমিকা

আজিমনগর ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাজাহান হাওলাদার বলেন, “আমার জানা মতে, ইয়াসিনের সঙ্গে কালামৃধা গ্রামের কিছু কিশোরের পুরনো শত্রুতা ছিল। সেই থেকেই এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।”

তবে কালামৃধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রেজাউল মাতুব্বরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।