ঢাকা ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে চাঁদা না দেওয়ায় চিকিৎসকের উপর হামলা, ছাত্রদলের ৫ নেতাকে আসামী করে মামলা

মধুখালি প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১০:২৯:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ মে ২০২৫
  • / 1463

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. ইমতিয়াজ হোসেন অর্ক মধুখালীতে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনা ঘটেছে গত ১১ মে (রবিবার) সন্ধ্যায় মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত একতা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভেতরে।

অর্ক, যিনি মধুখালীর রামদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও একজন জনপ্রিয় চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত, একতা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চেম্বার করে আসছিলেন।

চাঁদাবাজির অভিযোগ ও হামলার বিবরণ

অর্ক অভিযোগ করেন, মধুখালী পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক রজব ইসলাম রনির নেতৃত্বে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাকে তাদের নির্ধারিত ক্লিনিকে বসতে বাধ্য করার চেষ্টা করে। তিনি তা অস্বীকার করলে, রজব, অপু, মিকাইল, টুটুল ও নয়ন তার কাছে চাঁদা দাবি করে।

চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা একতা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চেম্বারে ঢুকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে মারধর করে গুরুতর জখম করে। হামলার সময় সেন্টারের মালিক তানভীর রহমান শুভ তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়।

মামলার বিস্তারিত ও পুলিশি পদক্ষেপ

এই ঘটনায় গত ১৭ মে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় মধুখালী উপজেলা ছাত্রদলের পাঁচ নেতার নাম এবং আরও ১৫-২০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

মধুখালী থানার ওসি এস এম নুরুজ্জামান জানান, আদালতের নির্দেশে মামলাটি রুজু করা হয়েছে এবং ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় তদন্ত চলছে। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


আসামিদের পরিচয়

নাম প্রকাশিত আসামিরা হলেন—

  • রজব ইসলাম রনি, আহ্বায়ক, মধুখালী পৌর ছাত্রদল

  • মিকাইল বিশ্বাস, যুগ্ম আহ্বায়ক, মধুখালী উপজেলা ছাত্রদল

  • রিয়ান রহমান নয়ন, যুগ্ম আহ্বায়ক

  • টুটুল বিশ্বাস, সদস্য

  • নাহিদুর রহমান অপু, ছাত্রদল কর্মী


চিকিৎসক অর্কের বক্তব্য

ডা. ইমতিয়াজ জানান, ছাত্রদলের নেতারা দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবি করে আসছিল। তিনি বলেন, “আমি স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছি। বারবার চাঁদা চাওয়া ও হুমকির পর অবশেষে তারা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। স্থানীয়দের সহায়তায় বেঁচে যাই এবং ফরিদপুর মেডিকেলে চিকিৎসা নেই।”

সুশীল সমাজের প্রতিক্রিয়া

এই ঘটনায় মধুখালীর সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে জানিয়েছে, “এই হামলা সম্পূর্ণ অমানবিক ও বর্বরোচিত। দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার না হলে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে।”

ছাত্রদল নেতাদের প্রতিক্রিয়া ও অভ্যন্তরীণ বিভেদ

মধুখালী উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ওমর ফারুক এবং সদস্য সচিব মো. সাদ্দাম বিশ্বাস জানান, বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযুক্ত মিকাইল বিশ্বাস বলেন, “আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম, কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছি।” রজব ইসলাম রনি বলেন, “আমি দুই পক্ষের ঝামেলা মীমাংসা করতে গিয়েছিলাম, অথচ আমাকে আসামি করা হয়েছে।”

জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক তানজিমুল হাসান কায়েস বলেন, “এটি রাজনৈতিক হিংসার ফল। মামলায় রজবকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে জড়ানো হয়েছে।”

ফরিদপুরে চাঁদা না দেওয়ায় চিকিৎসকের উপর হামলা, ছাত্রদলের ৫ নেতাকে আসামী করে মামলা

আপডেট সময় : ১০:২৯:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ মে ২০২৫

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. ইমতিয়াজ হোসেন অর্ক মধুখালীতে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনা ঘটেছে গত ১১ মে (রবিবার) সন্ধ্যায় মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত একতা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভেতরে।

অর্ক, যিনি মধুখালীর রামদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও একজন জনপ্রিয় চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত, একতা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চেম্বার করে আসছিলেন।

চাঁদাবাজির অভিযোগ ও হামলার বিবরণ

অর্ক অভিযোগ করেন, মধুখালী পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক রজব ইসলাম রনির নেতৃত্বে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাকে তাদের নির্ধারিত ক্লিনিকে বসতে বাধ্য করার চেষ্টা করে। তিনি তা অস্বীকার করলে, রজব, অপু, মিকাইল, টুটুল ও নয়ন তার কাছে চাঁদা দাবি করে।

চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা একতা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চেম্বারে ঢুকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে মারধর করে গুরুতর জখম করে। হামলার সময় সেন্টারের মালিক তানভীর রহমান শুভ তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়।

মামলার বিস্তারিত ও পুলিশি পদক্ষেপ

এই ঘটনায় গত ১৭ মে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় মধুখালী উপজেলা ছাত্রদলের পাঁচ নেতার নাম এবং আরও ১৫-২০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

মধুখালী থানার ওসি এস এম নুরুজ্জামান জানান, আদালতের নির্দেশে মামলাটি রুজু করা হয়েছে এবং ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় তদন্ত চলছে। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


আসামিদের পরিচয়

নাম প্রকাশিত আসামিরা হলেন—

  • রজব ইসলাম রনি, আহ্বায়ক, মধুখালী পৌর ছাত্রদল

  • মিকাইল বিশ্বাস, যুগ্ম আহ্বায়ক, মধুখালী উপজেলা ছাত্রদল

  • রিয়ান রহমান নয়ন, যুগ্ম আহ্বায়ক

  • টুটুল বিশ্বাস, সদস্য

  • নাহিদুর রহমান অপু, ছাত্রদল কর্মী


চিকিৎসক অর্কের বক্তব্য

ডা. ইমতিয়াজ জানান, ছাত্রদলের নেতারা দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবি করে আসছিল। তিনি বলেন, “আমি স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছি। বারবার চাঁদা চাওয়া ও হুমকির পর অবশেষে তারা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। স্থানীয়দের সহায়তায় বেঁচে যাই এবং ফরিদপুর মেডিকেলে চিকিৎসা নেই।”

সুশীল সমাজের প্রতিক্রিয়া

এই ঘটনায় মধুখালীর সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে জানিয়েছে, “এই হামলা সম্পূর্ণ অমানবিক ও বর্বরোচিত। দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার না হলে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে।”

ছাত্রদল নেতাদের প্রতিক্রিয়া ও অভ্যন্তরীণ বিভেদ

মধুখালী উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ওমর ফারুক এবং সদস্য সচিব মো. সাদ্দাম বিশ্বাস জানান, বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযুক্ত মিকাইল বিশ্বাস বলেন, “আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম, কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছি।” রজব ইসলাম রনি বলেন, “আমি দুই পক্ষের ঝামেলা মীমাংসা করতে গিয়েছিলাম, অথচ আমাকে আসামি করা হয়েছে।”

জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক তানজিমুল হাসান কায়েস বলেন, “এটি রাজনৈতিক হিংসার ফল। মামলায় রজবকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে জড়ানো হয়েছে।”