ঢাকা ১২:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংবাদ সম্মেলন করে অবৈধভাবে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ঘোষণার বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

ফরিদপুর:
  • আপডেট সময় : ১১:০৭:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ মে ২০২৫
  • / 322

আমরা অত্যন্ত দুঃখের সাথে লক্ষ্য করছি যে, ৫ আগস্ট অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের ফরিদপুর জেলা শাখার কতিপয় নেতৃবৃন্দ, যারা অতীতে পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর হিসেবে নানা সুবিধা গ্রহণ করে বিত্ত বৈভবের মালিক হয়েছেন, তারা বর্তমানে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে অপতৎপরতায় লিপ্ত।

আন্দোলন চলাকালীন সময়ে শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং প্রতারণার অভিযোগে জনাব গোলাম আজাদ, আঃ মান্নান শেখ মানা, আ.ক.ম. নূরুন্নবী ও মিরাজ সিকদারসহ মোট চারজনকে ২৬/১১/২০১২ ইং তারিখে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এই বহিষ্কারপত্র ফরিদপুর জেলা বিএনপির সভাপতির স্বাক্ষরে অনুমোদিত ছিল।

আওয়ামীপন্থী সংশ্লিষ্টতা ও পদ লাভের অভিযোগ

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, জনাব আব্দুল মান্নান শেখ মানা ও জনাব গোলাম আজাদ ফ্যাসিস্ট হাসিনা এবং তার বিয়াই খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা স্থাপন করে দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলে বিভিন্ন পদ-পদবী লাভ করেন। এই সকল কার্যক্রমের স্পষ্ট প্রমাণ আমার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

নেতৃত্বে সংকট ও সাংগঠনিক অস্থিরতা

দলের বিভিন্ন জাতীয় কর্মসূচি এবং আন্দোলনে অংশগ্রহণ না করা ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে আরও কয়েকজন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। ৫১ সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটির মধ্যে ১৩ জন কর্মকর্তা মৃত্যুবরণ করেছেন। বর্তমানে কমিটির ২৭/২৮ জন সদস্য কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্দেশনায় দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

সভাপতি মুজাফফার আলী মুসাকে নিয়ে অভিযোগ ও অবস্থান

ফরিদপুর জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি জনাব শেখ মুজাফফার আলী মুসাকে নিয়ে কিছু অভিযোগ উঠলেও, যথাযথ প্রমাণপত্রের অভাবে জেলা কার্যনির্বাহী পরিষদ এবং কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের নির্দেশে তাঁর নেতৃত্বেই দলীয় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন ও প্রতিক্রিয়া

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের গঠনতন্ত্রের ২য় অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-২ (ঙ) অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের অনুমোদন ব্যতীত কেউ কোনো পদের অধিকার দাবি করতে পারেন না। ধারা-৫, অনুচ্ছেদ-৭ (খ) অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় অনুমতি ছাড়া জেলা অফিস ঘোষণা করাও সাংগঠনিকভাবে অবৈধ।

এই অবস্থায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে যারা অংশ নিয়েছেন, তারা স্পষ্টভাবে গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত হয়েছেন।

শামছুল হক সরদার সংক্রান্ত অভিযোগ

জনাব শামছুল হক সরদার ০৭/০৭/২০১৩ তারিখে নিজেকে জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি দাবি করেন, যা নাগরিক বার্তা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে অভিযোগ জমা দেওয়া হলেও তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মরহুম জাফরুল হাসানের মৃত্যুর কারণে বিষয়টি অমীমাংসিত থাকে।

তিনি ৫ আগস্ট পূর্ববর্তী সময় পর্যন্ত আন্দোলন ও দলের কোনো কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেননি এবং পরবর্তী সময়ে বিশৃঙ্খলাপূর্ণ কিছু নেতার সঙ্গে যুক্ত হয়ে অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।

প্রতিবাদ ও আহ্বান

উক্ত অব্যবস্থাপনা, গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন, এবং সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণকারী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আমরা তীব্র ক্ষোভ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এই প্রতিবাদটি সংবাদপত্রে প্রকাশের জন্য অনুরোধ জানানো হলো।


ধন্যবাদান্তে,
মোঃ খায়রুল বাশার সবুজ
দপ্তর সম্পাদক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল, ফরিদপুর জেলা।

সংবাদ সম্মেলন করে অবৈধভাবে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ঘোষণার বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

আপডেট সময় : ১১:০৭:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ মে ২০২৫

আমরা অত্যন্ত দুঃখের সাথে লক্ষ্য করছি যে, ৫ আগস্ট অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের ফরিদপুর জেলা শাখার কতিপয় নেতৃবৃন্দ, যারা অতীতে পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর হিসেবে নানা সুবিধা গ্রহণ করে বিত্ত বৈভবের মালিক হয়েছেন, তারা বর্তমানে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে অপতৎপরতায় লিপ্ত।

আন্দোলন চলাকালীন সময়ে শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং প্রতারণার অভিযোগে জনাব গোলাম আজাদ, আঃ মান্নান শেখ মানা, আ.ক.ম. নূরুন্নবী ও মিরাজ সিকদারসহ মোট চারজনকে ২৬/১১/২০১২ ইং তারিখে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এই বহিষ্কারপত্র ফরিদপুর জেলা বিএনপির সভাপতির স্বাক্ষরে অনুমোদিত ছিল।

আওয়ামীপন্থী সংশ্লিষ্টতা ও পদ লাভের অভিযোগ

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, জনাব আব্দুল মান্নান শেখ মানা ও জনাব গোলাম আজাদ ফ্যাসিস্ট হাসিনা এবং তার বিয়াই খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা স্থাপন করে দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলে বিভিন্ন পদ-পদবী লাভ করেন। এই সকল কার্যক্রমের স্পষ্ট প্রমাণ আমার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

নেতৃত্বে সংকট ও সাংগঠনিক অস্থিরতা

দলের বিভিন্ন জাতীয় কর্মসূচি এবং আন্দোলনে অংশগ্রহণ না করা ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে আরও কয়েকজন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। ৫১ সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটির মধ্যে ১৩ জন কর্মকর্তা মৃত্যুবরণ করেছেন। বর্তমানে কমিটির ২৭/২৮ জন সদস্য কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্দেশনায় দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

সভাপতি মুজাফফার আলী মুসাকে নিয়ে অভিযোগ ও অবস্থান

ফরিদপুর জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি জনাব শেখ মুজাফফার আলী মুসাকে নিয়ে কিছু অভিযোগ উঠলেও, যথাযথ প্রমাণপত্রের অভাবে জেলা কার্যনির্বাহী পরিষদ এবং কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের নির্দেশে তাঁর নেতৃত্বেই দলীয় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন ও প্রতিক্রিয়া

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের গঠনতন্ত্রের ২য় অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-২ (ঙ) অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের অনুমোদন ব্যতীত কেউ কোনো পদের অধিকার দাবি করতে পারেন না। ধারা-৫, অনুচ্ছেদ-৭ (খ) অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় অনুমতি ছাড়া জেলা অফিস ঘোষণা করাও সাংগঠনিকভাবে অবৈধ।

এই অবস্থায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে যারা অংশ নিয়েছেন, তারা স্পষ্টভাবে গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত হয়েছেন।

শামছুল হক সরদার সংক্রান্ত অভিযোগ

জনাব শামছুল হক সরদার ০৭/০৭/২০১৩ তারিখে নিজেকে জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি দাবি করেন, যা নাগরিক বার্তা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে অভিযোগ জমা দেওয়া হলেও তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মরহুম জাফরুল হাসানের মৃত্যুর কারণে বিষয়টি অমীমাংসিত থাকে।

তিনি ৫ আগস্ট পূর্ববর্তী সময় পর্যন্ত আন্দোলন ও দলের কোনো কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেননি এবং পরবর্তী সময়ে বিশৃঙ্খলাপূর্ণ কিছু নেতার সঙ্গে যুক্ত হয়ে অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।

প্রতিবাদ ও আহ্বান

উক্ত অব্যবস্থাপনা, গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন, এবং সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণকারী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আমরা তীব্র ক্ষোভ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এই প্রতিবাদটি সংবাদপত্রে প্রকাশের জন্য অনুরোধ জানানো হলো।


ধন্যবাদান্তে,
মোঃ খায়রুল বাশার সবুজ
দপ্তর সম্পাদক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল, ফরিদপুর জেলা।