ঢাকা ১০:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে ভুল চিকিৎসায় কিশোরীর মৃত্যু: ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৮:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • / 136

ফরিদপুরে গলায় টিউমার অপারেশনকে কেন্দ্র করে মিম (১৫) নামে এক কিশোরীর মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে অবস্থিত ‘প্রভাতী (প্রাঃ) হাসপাতালে’ চিকিৎসকের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণেই এই মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে।

ঘটনার বিবরণ:

নিহত মিম ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার চর চাঁদপুর গ্রামের শওকত মিয়ার মেয়ে। গত ১৪ এপ্রিল গলায় টিউমারের সমস্যা নিয়ে তিনি ডা. আতিকুল আহসানের তত্ত্বাবধানে প্রভাতী হাসপাতালে ভর্তি হন। পরিবারের দাবি, অপারেশনের সময় অসাবধানতাবশত মিমের গলার একটি গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালী কেটে ফেলেন চিকিৎসক। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে তাকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে তার মৃত্যু হয়।

চিকিৎসক ও ক্লিনিক নিয়ে বিতর্ক:

অভিযোগ উঠেছে, মিমের রোগটি নাক-কান-গলা (ইএনটি) বিশেষজ্ঞের আওতাধীন হলেও অপারেশন করেছেন সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আতিকুল আহসান। এ নিয়ে সচেতন মহলে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য, এই প্রভাতী হাসপাতালটি গত ২০২৫ সালে নানা অনিয়মের কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালত কর্তৃক সিলগালা করা হয়েছিল।

ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ:

মিমের পরিবার অভিযোগ করেছে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এবং আপোষ-মিমাংসা করতে প্রভাবশালীদের পক্ষ থেকে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। স্বজনরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ভুল চিকিৎসায় আমাদের মেয়েকে মেরে ফেলা হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:

এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. আতিকুল আহসানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি, এমনকি তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. দিলরুবা জেবা জানান, রোগীর পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, “ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ফরিদপুরে ভুল চিকিৎসায় কিশোরীর মৃত্যু: ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা

আপডেট সময় : ০৯:৩৮:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

ফরিদপুরে গলায় টিউমার অপারেশনকে কেন্দ্র করে মিম (১৫) নামে এক কিশোরীর মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে অবস্থিত ‘প্রভাতী (প্রাঃ) হাসপাতালে’ চিকিৎসকের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণেই এই মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে।

ঘটনার বিবরণ:

নিহত মিম ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার চর চাঁদপুর গ্রামের শওকত মিয়ার মেয়ে। গত ১৪ এপ্রিল গলায় টিউমারের সমস্যা নিয়ে তিনি ডা. আতিকুল আহসানের তত্ত্বাবধানে প্রভাতী হাসপাতালে ভর্তি হন। পরিবারের দাবি, অপারেশনের সময় অসাবধানতাবশত মিমের গলার একটি গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালী কেটে ফেলেন চিকিৎসক। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে তাকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে তার মৃত্যু হয়।

চিকিৎসক ও ক্লিনিক নিয়ে বিতর্ক:

অভিযোগ উঠেছে, মিমের রোগটি নাক-কান-গলা (ইএনটি) বিশেষজ্ঞের আওতাধীন হলেও অপারেশন করেছেন সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আতিকুল আহসান। এ নিয়ে সচেতন মহলে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য, এই প্রভাতী হাসপাতালটি গত ২০২৫ সালে নানা অনিয়মের কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালত কর্তৃক সিলগালা করা হয়েছিল।

ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ:

মিমের পরিবার অভিযোগ করেছে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এবং আপোষ-মিমাংসা করতে প্রভাবশালীদের পক্ষ থেকে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। স্বজনরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ভুল চিকিৎসায় আমাদের মেয়েকে মেরে ফেলা হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:

এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. আতিকুল আহসানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি, এমনকি তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. দিলরুবা জেবা জানান, রোগীর পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, “ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”