ঢাকা ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে অর্ধলাখ টাকা-৯ মোবাইল লুট, তৃপ্ত না হয়ে মৃতদেহেও হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা

নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০২:৫৯:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ মে ২০২৫
  • / 470

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় একটি লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে বুড়িশ্বর ইউনিয়নের তিলপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ডাকাতির সময় চাহিদামতো অর্থ ও মালামাল না পেয়ে মরদেহের ওপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় নারীসহ ৯ জন আহত হয়েছেন।

মরদেহের ওপর হামলা: স্বজনদের চোখে অমানবিক দৃশ্য

স্বজনদের সামনে মৃত ব্যক্তির ওপর চালানো হামলার দৃশ্য এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা বলছেন, এমন জঘন্য ও ঘৃণিত কাজ তারা কখনও দেখেননি। এটি মানবিকতার সব সীমা অতিক্রম করেছে।

আহতদের পরিচয় ও মরদেহ আনার পটভূমি

ডাকাতদের হামলায় আহতরা হলেন—গাড়ির চালক মো. ফিরুজ মিয়া, গাড়ির মালিক মো. খলিল মিয়া, নিহতের স্বজন রাসেল মিয়া, ছালেক মিয়া, নাহিদ মিয়া, মো. আলমগীর মিয়া, মো. সালাউদ্দিন, আলেয়া বেগম ও আলী নেওয়াজ মিয়া।

ভুক্তভোগীদের স্বজনদের ভাষ্যমতে, পূর্বভাগ ইউনিয়নের মুকবুলপুর গ্রামের বাসিন্দা ছবদর আলী ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার মিরপুর আহসানিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পর তার মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে বাড়ি ফিরছিল। পথে তিলপাড়া এলাকায় সশস্ত্র ডাকাতরা সড়কে গাছ ফেলে পথরোধ করে গাড়ি থামিয়ে হামলা চালায়।

নগদ টাকা ও মোবাইল লুট, মরদেহে হামলার নৃশংসতা

ডাকাতরা মরদেহের সঙ্গে থাকা স্বজনদের কাছ থেকে ৯টি মোবাইল ফোন ও প্রায় ৫০ হাজার টাকা লুট করে। নিহত ছবদর আলীর ছেলে মো. আলমগীর মিয়া বলেন, “টাকা-পয়সা নেওয়া যতোটা কষ্টদায়ক নয়, তার চেয়েও ভয়ানক আমার মৃত বাবার মরদেহের ওপর হামলা চালানো। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বাবার দাফন শেষে আমরা আইনগত পদক্ষেপ নেব।”

ডাকাতি প্রবণ এলাকায় আতঙ্ক বাড়ছে

স্থানীয় বাসিন্দা মো. মুসলে উদ্দিন বলেন, “ভোর ও সন্ধ্যায় এই সড়কটি ভুতুড়ে হয়ে ওঠে। কিছুদিন পরপর এখানে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। কখনো কখনো দিনে ডাকাতি বেশি হয়।”

আজহারুল ইসলাম দুর্জয় বলেন, “ঢাকা থেকে নিরাপদে বাড়ি ফিরলেও এই এলাকায় ঢোকার পর থেকেই আতঙ্কে থাকতে হয়।”

আইনজীবী ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

স্থানীয় আইনজীবী মো. রেজাউল হক আমজাদ বলেন, “এটি কেবল ডাকাতি নয়, এটি মর্যাদার শেষ চিহ্নও ধ্বংস করা। স্বজন হারানোর শোকে বিহ্বল একটি পরিবারের ওপর এমন ন্যক্কারজনক হামলা মেনে নেওয়া যায় না।”

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খায়রুল আলম জানান, “এ ঘটনাটি সত্য। এটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এবং আগেও একাধিকবার ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহিনা নাসরিন বলেন, “লাশবাহী গাড়িতে ডাকাতি অত্যন্ত পীড়াদায়ক ও অমানবিক। আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছি।”

সারসংক্ষেপ:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে চালানো ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনায় এলাকাজুড়ে ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মরদেহের ওপর হামলার বিষয়টি সামাজিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে অর্ধলাখ টাকা-৯ মোবাইল লুট, তৃপ্ত না হয়ে মৃতদেহেও হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা

আপডেট সময় : ০২:৫৯:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ মে ২০২৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় একটি লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে বুড়িশ্বর ইউনিয়নের তিলপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ডাকাতির সময় চাহিদামতো অর্থ ও মালামাল না পেয়ে মরদেহের ওপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় নারীসহ ৯ জন আহত হয়েছেন।

মরদেহের ওপর হামলা: স্বজনদের চোখে অমানবিক দৃশ্য

স্বজনদের সামনে মৃত ব্যক্তির ওপর চালানো হামলার দৃশ্য এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা বলছেন, এমন জঘন্য ও ঘৃণিত কাজ তারা কখনও দেখেননি। এটি মানবিকতার সব সীমা অতিক্রম করেছে।

আহতদের পরিচয় ও মরদেহ আনার পটভূমি

ডাকাতদের হামলায় আহতরা হলেন—গাড়ির চালক মো. ফিরুজ মিয়া, গাড়ির মালিক মো. খলিল মিয়া, নিহতের স্বজন রাসেল মিয়া, ছালেক মিয়া, নাহিদ মিয়া, মো. আলমগীর মিয়া, মো. সালাউদ্দিন, আলেয়া বেগম ও আলী নেওয়াজ মিয়া।

ভুক্তভোগীদের স্বজনদের ভাষ্যমতে, পূর্বভাগ ইউনিয়নের মুকবুলপুর গ্রামের বাসিন্দা ছবদর আলী ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার মিরপুর আহসানিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পর তার মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে বাড়ি ফিরছিল। পথে তিলপাড়া এলাকায় সশস্ত্র ডাকাতরা সড়কে গাছ ফেলে পথরোধ করে গাড়ি থামিয়ে হামলা চালায়।

নগদ টাকা ও মোবাইল লুট, মরদেহে হামলার নৃশংসতা

ডাকাতরা মরদেহের সঙ্গে থাকা স্বজনদের কাছ থেকে ৯টি মোবাইল ফোন ও প্রায় ৫০ হাজার টাকা লুট করে। নিহত ছবদর আলীর ছেলে মো. আলমগীর মিয়া বলেন, “টাকা-পয়সা নেওয়া যতোটা কষ্টদায়ক নয়, তার চেয়েও ভয়ানক আমার মৃত বাবার মরদেহের ওপর হামলা চালানো। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বাবার দাফন শেষে আমরা আইনগত পদক্ষেপ নেব।”

ডাকাতি প্রবণ এলাকায় আতঙ্ক বাড়ছে

স্থানীয় বাসিন্দা মো. মুসলে উদ্দিন বলেন, “ভোর ও সন্ধ্যায় এই সড়কটি ভুতুড়ে হয়ে ওঠে। কিছুদিন পরপর এখানে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। কখনো কখনো দিনে ডাকাতি বেশি হয়।”

আজহারুল ইসলাম দুর্জয় বলেন, “ঢাকা থেকে নিরাপদে বাড়ি ফিরলেও এই এলাকায় ঢোকার পর থেকেই আতঙ্কে থাকতে হয়।”

আইনজীবী ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

স্থানীয় আইনজীবী মো. রেজাউল হক আমজাদ বলেন, “এটি কেবল ডাকাতি নয়, এটি মর্যাদার শেষ চিহ্নও ধ্বংস করা। স্বজন হারানোর শোকে বিহ্বল একটি পরিবারের ওপর এমন ন্যক্কারজনক হামলা মেনে নেওয়া যায় না।”

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খায়রুল আলম জানান, “এ ঘটনাটি সত্য। এটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এবং আগেও একাধিকবার ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহিনা নাসরিন বলেন, “লাশবাহী গাড়িতে ডাকাতি অত্যন্ত পীড়াদায়ক ও অমানবিক। আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছি।”

সারসংক্ষেপ:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে চালানো ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনায় এলাকাজুড়ে ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মরদেহের ওপর হামলার বিষয়টি সামাজিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।