ঢাকা ০২:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেজর সিনহা হত্যা: প্রদীপ ও লিয়াকতের মৃত্যুদণ্ড বহাল, হাইকোর্টের চূড়ান্ত রায় ঘোষণা

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০১:০০:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ জুন ২০২৫
  • / 355

মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় কক্সবাজারের টেকনাফ থানার তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ এবং বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ লিয়াকত আলীর মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ছয় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও বহাল রয়েছে।

রায় ঘোষণা

সোমবার, ২ জুন হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই বহুল আলোচিত মামলার আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের ওপর রায় ঘোষণা করেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে এই দিন ধার্য করেছিলেন আদালত।

রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের অংশগ্রহণ

রাষ্ট্রপক্ষে মামলার শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। তার সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হুমায়ুন কবির মঞ্জু ও শামীমা দিপ্তি। অপরদিকে, আসামিপক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহাজাহান।

অ্যাটর্নি জেনারেলের প্রতিক্রিয়া

রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “এই মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল। বিচারিক আদালতের দেওয়া রায় যথার্থ ছিল। আমরা চাই মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকুক।”

ঘটনার পটভূমি

২০২০ সালের ৩১ জুলাই কক্সবাজারের টেকনাফে শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান। তিনি সেনাবাহিনী থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নিয়ে একটি ভ্রমণবিষয়ক প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণে কক্সবাজারে অবস্থান করছিলেন।

বিচারিক রায়

এই ঘটনার পর দেশজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ ও গণআলোড়নের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রদীপ ও লিয়াকতকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পাশাপাশি, পুলিশের আরও তিন সদস্য ও তিন সোর্সকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

বেকসুর খালাস

মোট ১৫ আসামির মধ্যে সাতজন—চার পুলিশ সদস্য ও তিনজন এপিবিএন সদস্য—বেকসুর খালাস পান বিচারিক আদালত থেকে।

আপিল ও ডেথ রেফারেন্স

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের সাজা কার্যকরের জন্য হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স পাঠানো হয় এবং দণ্ডপ্রাপ্তরা আপিল করেন। প্রধান বিচারপতির নির্দেশে ২০২৪ সালের ২১ এপ্রিল দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য মামলাটি নির্ধারিত হাইকোর্ট বেঞ্চে পাঠানো হয়। এরপর ২৩ এপ্রিল থেকে টানা শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

সংক্ষিপ্ত সারাংশ:
কক্সবাজারের টেকনাফে মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় প্রদীপ ও লিয়াকতের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ছয় আসামির যাবজ্জীবন দণ্ডও বহাল রাখা হয়েছে। আলোচিত মামলার এই রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

মেজর সিনহা হত্যা: প্রদীপ ও লিয়াকতের মৃত্যুদণ্ড বহাল, হাইকোর্টের চূড়ান্ত রায় ঘোষণা

আপডেট সময় : ০১:০০:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ জুন ২০২৫

মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় কক্সবাজারের টেকনাফ থানার তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ এবং বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ লিয়াকত আলীর মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ছয় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও বহাল রয়েছে।

রায় ঘোষণা

সোমবার, ২ জুন হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই বহুল আলোচিত মামলার আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের ওপর রায় ঘোষণা করেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে এই দিন ধার্য করেছিলেন আদালত।

রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের অংশগ্রহণ

রাষ্ট্রপক্ষে মামলার শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। তার সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হুমায়ুন কবির মঞ্জু ও শামীমা দিপ্তি। অপরদিকে, আসামিপক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহাজাহান।

অ্যাটর্নি জেনারেলের প্রতিক্রিয়া

রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “এই মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল। বিচারিক আদালতের দেওয়া রায় যথার্থ ছিল। আমরা চাই মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকুক।”

ঘটনার পটভূমি

২০২০ সালের ৩১ জুলাই কক্সবাজারের টেকনাফে শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান। তিনি সেনাবাহিনী থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নিয়ে একটি ভ্রমণবিষয়ক প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণে কক্সবাজারে অবস্থান করছিলেন।

বিচারিক রায়

এই ঘটনার পর দেশজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ ও গণআলোড়নের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রদীপ ও লিয়াকতকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পাশাপাশি, পুলিশের আরও তিন সদস্য ও তিন সোর্সকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

বেকসুর খালাস

মোট ১৫ আসামির মধ্যে সাতজন—চার পুলিশ সদস্য ও তিনজন এপিবিএন সদস্য—বেকসুর খালাস পান বিচারিক আদালত থেকে।

আপিল ও ডেথ রেফারেন্স

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের সাজা কার্যকরের জন্য হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স পাঠানো হয় এবং দণ্ডপ্রাপ্তরা আপিল করেন। প্রধান বিচারপতির নির্দেশে ২০২৪ সালের ২১ এপ্রিল দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য মামলাটি নির্ধারিত হাইকোর্ট বেঞ্চে পাঠানো হয়। এরপর ২৩ এপ্রিল থেকে টানা শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

সংক্ষিপ্ত সারাংশ:
কক্সবাজারের টেকনাফে মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় প্রদীপ ও লিয়াকতের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ছয় আসামির যাবজ্জীবন দণ্ডও বহাল রাখা হয়েছে। আলোচিত মামলার এই রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ।