ঢাকা ১১:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাগরে মিসাইল হামলা

মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছিলাম: বাংলাদেশি নাবিক

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপডেট সময় : ১২:৩৯:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
  • / 168

“মনে হচ্ছিল আজই শেষ দিন, মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছিলাম।” আরব সাগরে পানামার পতাকাবাহী ‘এমভি গোল্ড অটাম’ জাহাজে মিসাইল হামলার সেই ভয়াবহ মুহূর্তের বর্ণনা এভাবেই দিচ্ছিলেন বাংলাদেশি নাবিক এহসান সাবরি রিহাদ। চীন থেকে ওমান যাওয়ার পথে গত মঙ্গলবার আরব সাগরে ভয়াবহ হামলার শিকার হয় জাহাজটি, যেখানে রিহাদসহ মোট ৬ জন বাংলাদেশি নাবিক ছিলেন।

🚀 হঠাৎ বিকট শব্দ ও আগুনের লেলিহান শিখা

কক্সবাজারের বাসিন্দা ও ইঞ্জিন ক্যাডেট রিহাদ জানান, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে যখন তিনি বিশ্রামের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখনই প্রথম মিসাইলটি আঘাত হানে।

প্রথম হামলা: ক্রেনের নিচে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে।

দ্বিতীয় হামলা: নাবিকরা নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আগেই দ্বিতীয় মিসাইলটি আঘাত হানে।

ক্ষয়ক্ষতি: ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে জাহাজের এক পাশে বিশাল গর্ত তৈরি হয় এবং মূল ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। ডেকে থাকা মালবাহী বড় বড় বাসগুলো পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

🚣 লাইফবোটে সেই দুঃসহ সাত ঘণ্টা

জাহাজে আগুন নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়লে ক্যাপ্টেন জাহাজ পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন। রিহাদ ও ৩ জন ইন্দোনেশিয়ান নাবিক একটি লাইফবোটে নামতে সক্ষম হলেও সেটির ইঞ্জিনও অচল হয়ে যায়। উত্তাল সাগরে দুলতে থাকা ছোট বোটে বসে মৃত্যুর প্রহর গুনছিলেন তারা। রিহাদ বলেন, “ভয়ে শুধু দোয়া ইউনুস পড়ছিলাম। বার বার বমি হচ্ছিল, বাঁচার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলাম।”

⚓ পাকিস্তান নৌবাহিনীর উদ্ধার অভিযান

দীর্ঘ সাত ঘণ্টা পর রাত সাড়ে আটটার দিকে ‘এমভি ইউনাইচ’ নামের একটি জাহাজ তাদের উদ্ধার করে। পরে পাকিস্তান নৌবাহিনীর জাহাজ ‘পিএনএস হুনাইন’ এসে পরিত্যক্ত জাহাজে আটকে পড়া বাকি ১৪ জন নাবিককেও উদ্ধার করে। তবে জাহাজের মায়া ত্যাগ করতে না পেরে এবং জাহাজটি ওমান উপকূলে টেনে নেওয়ার আশায় ক্যাপ্টেনসহ ৪ জন (যার মধ্যে বাংলাদেশি নাবিক মাজহারুল আবেদীন শাওন রয়েছেন) এখনো ওই পরিত্যক্ত জাহাজেই অবস্থান করছেন।

🇧🇩 নিরাপদে আছেন বাংলাদেশি নাবিকরা

উদ্ধারকৃত ১৮ জন নাবিককে নিয়ে গতকাল বিকেলে করাচি বন্দরে পৌঁছেছে পাকিস্তান নৌবাহিনী। এহসান সাবরি ছাড়াও উদ্ধার হওয়া অন্য বাংলাদেশিরা হলেন— তাওহীদুর রহমান, আবদুল্লাহ আল মারুফ, সৈকত পাল ও রিয়াদ হোসেন।

বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, নাবিকরা সবাই বর্তমানে সুস্থ ও নিরাপদে আছেন। তাদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।

সাগরে মিসাইল হামলা

মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছিলাম: বাংলাদেশি নাবিক

আপডেট সময় : ১২:৩৯:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

“মনে হচ্ছিল আজই শেষ দিন, মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছিলাম।” আরব সাগরে পানামার পতাকাবাহী ‘এমভি গোল্ড অটাম’ জাহাজে মিসাইল হামলার সেই ভয়াবহ মুহূর্তের বর্ণনা এভাবেই দিচ্ছিলেন বাংলাদেশি নাবিক এহসান সাবরি রিহাদ। চীন থেকে ওমান যাওয়ার পথে গত মঙ্গলবার আরব সাগরে ভয়াবহ হামলার শিকার হয় জাহাজটি, যেখানে রিহাদসহ মোট ৬ জন বাংলাদেশি নাবিক ছিলেন।

🚀 হঠাৎ বিকট শব্দ ও আগুনের লেলিহান শিখা

কক্সবাজারের বাসিন্দা ও ইঞ্জিন ক্যাডেট রিহাদ জানান, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে যখন তিনি বিশ্রামের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখনই প্রথম মিসাইলটি আঘাত হানে।

প্রথম হামলা: ক্রেনের নিচে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে।

দ্বিতীয় হামলা: নাবিকরা নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আগেই দ্বিতীয় মিসাইলটি আঘাত হানে।

ক্ষয়ক্ষতি: ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে জাহাজের এক পাশে বিশাল গর্ত তৈরি হয় এবং মূল ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। ডেকে থাকা মালবাহী বড় বড় বাসগুলো পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

🚣 লাইফবোটে সেই দুঃসহ সাত ঘণ্টা

জাহাজে আগুন নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়লে ক্যাপ্টেন জাহাজ পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন। রিহাদ ও ৩ জন ইন্দোনেশিয়ান নাবিক একটি লাইফবোটে নামতে সক্ষম হলেও সেটির ইঞ্জিনও অচল হয়ে যায়। উত্তাল সাগরে দুলতে থাকা ছোট বোটে বসে মৃত্যুর প্রহর গুনছিলেন তারা। রিহাদ বলেন, “ভয়ে শুধু দোয়া ইউনুস পড়ছিলাম। বার বার বমি হচ্ছিল, বাঁচার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলাম।”

⚓ পাকিস্তান নৌবাহিনীর উদ্ধার অভিযান

দীর্ঘ সাত ঘণ্টা পর রাত সাড়ে আটটার দিকে ‘এমভি ইউনাইচ’ নামের একটি জাহাজ তাদের উদ্ধার করে। পরে পাকিস্তান নৌবাহিনীর জাহাজ ‘পিএনএস হুনাইন’ এসে পরিত্যক্ত জাহাজে আটকে পড়া বাকি ১৪ জন নাবিককেও উদ্ধার করে। তবে জাহাজের মায়া ত্যাগ করতে না পেরে এবং জাহাজটি ওমান উপকূলে টেনে নেওয়ার আশায় ক্যাপ্টেনসহ ৪ জন (যার মধ্যে বাংলাদেশি নাবিক মাজহারুল আবেদীন শাওন রয়েছেন) এখনো ওই পরিত্যক্ত জাহাজেই অবস্থান করছেন।

🇧🇩 নিরাপদে আছেন বাংলাদেশি নাবিকরা

উদ্ধারকৃত ১৮ জন নাবিককে নিয়ে গতকাল বিকেলে করাচি বন্দরে পৌঁছেছে পাকিস্তান নৌবাহিনী। এহসান সাবরি ছাড়াও উদ্ধার হওয়া অন্য বাংলাদেশিরা হলেন— তাওহীদুর রহমান, আবদুল্লাহ আল মারুফ, সৈকত পাল ও রিয়াদ হোসেন।

বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, নাবিকরা সবাই বর্তমানে সুস্থ ও নিরাপদে আছেন। তাদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।