ফরিদপুরের আইডল কামরুল নাহার: নারী উদ্যোক্তাদের নতুন দিগন্ত
- আপডেট সময় : ১০:২১:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ জুন ২০২৫
- / 548
ফরিদপুরের অমরপুর গ্রামের নারী উদ্যোক্তা কামরুল নাহার বিদেশি জাতের ‘পিকিং স্টার ১৩’ হাঁস পালনের মাধ্যমে এক দারুণ সাফল্যের গল্প তৈরি করেছেন। এই বিশেষ জাতের হাঁস পালনে পানির প্রয়োজন হয় না এবং খাঁচায় সহজেই এটি বড় করা যায়। মাত্র ৪৫ দিনে ৩ থেকে ৪ কেজি ওজনের প্রতিটি হাঁস প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি করে তিনি মোটা অঙ্কের লাভ করছেন। বাজারে এই হাঁসের ব্যাপক চাহিদা তার ব্যবসাকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
কামরুল নাহারের এই সফল যাত্রা শুরু হয়েছিল প্রতিকূলতা পেরিয়ে। তিনি এর আগে মুরগি পালন করতেন, কিন্তু রোগব্যাধির কারণে বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন হন। ঠিক তখনই ‘সোসাইটি ডেভেলপমেন্ট কমিটি (এসডিসি)’ নামে একটি এনজিও তাকে ‘পিকিং স্টার ১৩’ হাঁস পালনের পরামর্শ দেয়।

এনজিও’র সহায়তা ও সাফল্যের প্রথম ধাপ
এসডিসি’র প্রকল্প ব্যবস্থাপক ডাঃ বিপ্লব কুমার মোহন্ত জানান, “কামরুল নাহারের মুরগির খামারে রোগের কারণে অনেক ক্ষতি হচ্ছিল। আমরা তাকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও ৫০টি হাঁসের বাচ্চা দিয়ে নতুন করে খামার শুরু করতে সাহায্য করি। দুটি বাচ্চা মারা গেলেও, বাকি ৪৮টি হাঁস বিক্রি করে তিনি প্রথম দফাতেই ৪৮ হাজার টাকা আয় করেন। এই সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে তিনি এরপর ২০০টি বাচ্চা নিয়ে বড় পরিসরে হাঁস পালন শুরু করেন। এখন তার পরিকল্পনা ৫০০টি হাঁসের খামার তৈরির।”
উদ্যোক্তার নিজের কথা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
কামরুল নাহার বলেন, “মুরগি পালনে ক্ষতির পর আমি ভেবেছিলাম আমার সব শেষ। কিন্তু এসডিসি’র সহায়তায় ‘পিকিং স্টার ১৩’ হাঁস পালন শুরু করি। এই হাঁস পালন করা খুবই সহজ, আর এতে খরচ কম হলেও লাভ অনেক বেশি। এখন শুধু ফরিদপুরের হোটেলগুলোতেই নয়, দেশের অন্য জেলাতেও আমার হাঁস সরবরাহ হচ্ছে। আমি শিগগিরই ৫০০ থেকে ১,০০০ হাঁস পালনের পরিকল্পনা করছি।”
প্রাণিসম্পদ বিভাগের সমর্থন ও স্থানীয় প্রভাব
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ সঞ্জীব কুমার বিশ্বাস কামরুল নাহারের এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “কামরুল নাহারকে আমরা প্রযুক্তিগত পরামর্শ, ওষুধ সরবরাহ এবং বাজারজাতকরণে সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছি। তার হাঁস স্থানীয় হোটেল ও রেস্টুরেন্টে সরবরাহের জন্য আমরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছি। এই ধরনের উদ্যোগ নারীদের স্বনির্ভরতার পথকে আরও শক্তিশালী করছে।”

কামরুল নাহারের খামারের প্রতি তার প্রতিবেশীরাও আকৃষ্ট হয়েছেন। তারা বলেন, “কেন দূরে গিয়ে বাড়তি খরচ করব? আমাদের গ্রামেই কামরুল নাহারের আধুনিক খামার থেকে তাজা ও স্বাস্থ্যকর হাঁস সহজে কিনে নিতে পারি।” এই সুবিধা তাকে স্থানীয়দের কাছে আরও জনপ্রিয় করে তুলেছে।
এছাড়া, কামরুল নাহার হাঁস পালনের পাশাপাশি ভার্মি কম্পোস্ট সার তৈরি করে অতিরিক্ত আয় করছেন, যা তার বহুমুখী সাফল্যেরই প্রমাণ। ডাঃ বিপ্লব কুমার মোহন্ত আরও বলেন, “ফরিদপুরের পাঁচটি উপজেলায় আমাদের প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষক ও খামারিদের পাশে দাঁড়াচ্ছি। কামরুল নাহারের সাফল্য অন্যদের জন্য দারুণ অনুপ্রেরণা।”
কামরুল নাহারের এই অদম্য উদ্যোগ শুধু তার নিজের জীবনই পাল্টে দেয়নি, বরং এলাকার অনেককে ‘পিকিং স্টার ১৩’ হাঁস পালনে উৎসাহিত করেছে এবং নারী উদ্যোক্তাদের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।





















