ঢাকা ১১:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে কথিত যুবদল নেতা ফের চাঁদাবাজি করতে গিয়ে জনতার হাতে আটক

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১২:৩৩:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫
  • / 1445

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় কথিত যুবদল নেতা শাহেদ আবারও আলোচনায় এসেছেন। এবার তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, পারিবারিক বিরোধের মীমাংসার নামে স্থানীয় গোপালপুর বাজারের এক ব্যবসায়ীর পরিবারের কাছে চাঁদা দাবির। বাজারজুড়ে আতঙ্কের নাম হয়ে ওঠা এই যুবক নিজেকে গোপালপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি পরিচয় দেন, যদিও উপজেলা যুবদল বলছে ইউনিয়ন পর্যায়ে তাদের কোনো কমিটিই নেই।

ঘটনার সূত্রপাত রোববার (১৫ জুন) রাত ১০টার দিকে। ফয়সাল নামের এক মুরগি ব্যবসায়ীর পারিবারিক বিরোধের জেরে শাহেদ ও তার প্রায় ১০ জন সহযোগী ফয়সালের দোকানে গিয়ে তাকে বাইরে যেতে বলেন। ফয়সাল দোকানেই অবস্থান করলে তাকে হুমকি দিয়ে বলা হয়, মীমাংসা না করলে ‘খবর আছে’।

প্রকাশ্য চাঁদাবাজি ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

পরদিন সোমবার (১৬ জুন) সকাল ১০টার দিকে শাহেদ আবারও দোকানে গিয়ে ফয়সালকে না পেয়ে তার বাবা মুল্লুক চান ওরফে মুন্নুর কাছে চাঁদা দাবি করেন। শাহেদ বলেন, “চাচা, কিছু টাকা দেন, সব ঠিক হয়ে যাবে, না হলে ঝামেলা হবে।” বিকেলে শাহেদ আবার আসে এবং টাকা না পেয়ে মুল্লুক চানকে ধাক্কা মেরে ক্যাশ বাক্স থেকে টাকা নিয়ে নেন বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। মুল্লুক চানের চিৎকারে বাজারের লোকজন ছুটে এসে শাহেদকে আটক করে, তবে তার সহযোগীরা পালিয়ে যায়।

এক পর্যায়ে ফয়সাল ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহায়তা চাইলে, পুলিশের আগেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান আলফাডাঙ্গা পৌর যুবদলের সভাপতি মিজান ও তার লোকজন। পরে পুলিশ এলে মিজানের ‘ম্যানেজিং’ এ শাহেদকে ছাড়িয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

ঘটনার বিষয়ে ফয়সাল বলেন, “আমার পারিবারিক সমস্যাকে ঘিরে জোর করে টাকা দাবি করেছে। দোকানে না থাকায় বাবাকে হুমকি দিয়ে আমার বাবাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে বাক্স থেকে টাকা নিয়েছে। আমরা থানায় জানিয়েছি কিন্তু প্রতিকার পাচ্ছি না।”

এর আগেও একাধিক অভিযোগ ও ব্যবসায়ীদের আতঙ্ক

শুধু এই ঘটনাই নয়, এর আগেও শাহেদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। গত ৯ জুন কামারগ্রামের মুদি ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামের দোকানে গিয়ে সিগারেট না থাকায় পিস্তল ঠেকিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করে শাহেদ। পরে ড্রয়ার ভেঙে টাকা নিয়ে চলে যায়। ফয়সালের মতো রফিকুলও থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পাশাপাশি ঈদের সময় বাড়ি বেড়াতে আসা এক গার্মেন্টস কর্মী কাওসার খানকেও রাস্তা আটকে মারধরের অভিযোগ রয়েছে শাহেদের বিরুদ্ধে।

বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, কাপড় ব্যবসায়ী জয়, কাঁচামালের ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর খান এবং টিটিসি মোড়ের কাবুলের দোকানেও একই ধরণের হুমকি-চাঁদাবাজি চালিয়েছেন শাহেদ। তারা বলেন, অন্য ব্যবসায়ীরা থানায় অভিযোগ করেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে এমন হুমকি-চাঁদাবাজির ঘটনায় আতঙ্কে আগেভাগেই দোকান বন্ধ করতে হয়। অভিযোগ করার পরেও পুলিশ ব্যবস্থা না নেওয়ায় শাহেদ দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

এসব বিষয়ে অভিযুক্ত শাহেদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়।

পৌর যুবদল সভাপতির বক্তব্য

পৌর যুবদলের সভাপতি মিজান বলেন, “শাহেদ আমার লোক। ওর মা নেই। এ কারণে আমি ওকে দেখে শুনে রাখি, ১০০-২০০ টাকা দিলে তাতেই চলে। কামারগ্রাম আমার পৌরসভার বাইরে।” তবে তাকে নিজ হাতে পুলিশি উপস্থিতিতে ছাড়িয়ে নেওয়ার প্রশ্নে তিনি কোনো স্পষ্ট উত্তর দেননি। তিনি শুধু বলেন, “এগুলো নিয়ে গেম চলছে।”

ফরিদপুরে কথিত যুবদল নেতা ফের চাঁদাবাজি করতে গিয়ে জনতার হাতে আটক

আপডেট সময় : ১২:৩৩:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় কথিত যুবদল নেতা শাহেদ আবারও আলোচনায় এসেছেন। এবার তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, পারিবারিক বিরোধের মীমাংসার নামে স্থানীয় গোপালপুর বাজারের এক ব্যবসায়ীর পরিবারের কাছে চাঁদা দাবির। বাজারজুড়ে আতঙ্কের নাম হয়ে ওঠা এই যুবক নিজেকে গোপালপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি পরিচয় দেন, যদিও উপজেলা যুবদল বলছে ইউনিয়ন পর্যায়ে তাদের কোনো কমিটিই নেই।

ঘটনার সূত্রপাত রোববার (১৫ জুন) রাত ১০টার দিকে। ফয়সাল নামের এক মুরগি ব্যবসায়ীর পারিবারিক বিরোধের জেরে শাহেদ ও তার প্রায় ১০ জন সহযোগী ফয়সালের দোকানে গিয়ে তাকে বাইরে যেতে বলেন। ফয়সাল দোকানেই অবস্থান করলে তাকে হুমকি দিয়ে বলা হয়, মীমাংসা না করলে ‘খবর আছে’।

প্রকাশ্য চাঁদাবাজি ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

পরদিন সোমবার (১৬ জুন) সকাল ১০টার দিকে শাহেদ আবারও দোকানে গিয়ে ফয়সালকে না পেয়ে তার বাবা মুল্লুক চান ওরফে মুন্নুর কাছে চাঁদা দাবি করেন। শাহেদ বলেন, “চাচা, কিছু টাকা দেন, সব ঠিক হয়ে যাবে, না হলে ঝামেলা হবে।” বিকেলে শাহেদ আবার আসে এবং টাকা না পেয়ে মুল্লুক চানকে ধাক্কা মেরে ক্যাশ বাক্স থেকে টাকা নিয়ে নেন বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। মুল্লুক চানের চিৎকারে বাজারের লোকজন ছুটে এসে শাহেদকে আটক করে, তবে তার সহযোগীরা পালিয়ে যায়।

এক পর্যায়ে ফয়সাল ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহায়তা চাইলে, পুলিশের আগেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান আলফাডাঙ্গা পৌর যুবদলের সভাপতি মিজান ও তার লোকজন। পরে পুলিশ এলে মিজানের ‘ম্যানেজিং’ এ শাহেদকে ছাড়িয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

ঘটনার বিষয়ে ফয়সাল বলেন, “আমার পারিবারিক সমস্যাকে ঘিরে জোর করে টাকা দাবি করেছে। দোকানে না থাকায় বাবাকে হুমকি দিয়ে আমার বাবাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে বাক্স থেকে টাকা নিয়েছে। আমরা থানায় জানিয়েছি কিন্তু প্রতিকার পাচ্ছি না।”

এর আগেও একাধিক অভিযোগ ও ব্যবসায়ীদের আতঙ্ক

শুধু এই ঘটনাই নয়, এর আগেও শাহেদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। গত ৯ জুন কামারগ্রামের মুদি ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামের দোকানে গিয়ে সিগারেট না থাকায় পিস্তল ঠেকিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করে শাহেদ। পরে ড্রয়ার ভেঙে টাকা নিয়ে চলে যায়। ফয়সালের মতো রফিকুলও থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পাশাপাশি ঈদের সময় বাড়ি বেড়াতে আসা এক গার্মেন্টস কর্মী কাওসার খানকেও রাস্তা আটকে মারধরের অভিযোগ রয়েছে শাহেদের বিরুদ্ধে।

বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, কাপড় ব্যবসায়ী জয়, কাঁচামালের ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর খান এবং টিটিসি মোড়ের কাবুলের দোকানেও একই ধরণের হুমকি-চাঁদাবাজি চালিয়েছেন শাহেদ। তারা বলেন, অন্য ব্যবসায়ীরা থানায় অভিযোগ করেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে এমন হুমকি-চাঁদাবাজির ঘটনায় আতঙ্কে আগেভাগেই দোকান বন্ধ করতে হয়। অভিযোগ করার পরেও পুলিশ ব্যবস্থা না নেওয়ায় শাহেদ দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

এসব বিষয়ে অভিযুক্ত শাহেদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়।

পৌর যুবদল সভাপতির বক্তব্য

পৌর যুবদলের সভাপতি মিজান বলেন, “শাহেদ আমার লোক। ওর মা নেই। এ কারণে আমি ওকে দেখে শুনে রাখি, ১০০-২০০ টাকা দিলে তাতেই চলে। কামারগ্রাম আমার পৌরসভার বাইরে।” তবে তাকে নিজ হাতে পুলিশি উপস্থিতিতে ছাড়িয়ে নেওয়ার প্রশ্নে তিনি কোনো স্পষ্ট উত্তর দেননি। তিনি শুধু বলেন, “এগুলো নিয়ে গেম চলছে।”