ঢাকা ০৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পল্টন থেকে অপহরণ, ১০ লাখ মুক্তিপণ: ফরিদপুরে মাস্টারমাইন্ড শফিকুল গ্রেফতার

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৩:২৩:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫
  • / 1013

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে অপহৃত শেখ জামালকে উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী ও পুলিশের একটি যৌথ টহল দল। এই অভিযানে অভিযুক্ত অপহরণকারী শফিকুল ইসলাম (৩৫)-কে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় ২৯ জুন রাত সাড়ে ১১টায়, যখন নাসিমা আক্তার (৩২) নামের এক নারী ফরিদপুর আর্মি ক্যাম্পে অভিযোগ করেন যে, তার স্বামী শেখ জামালকে গত ২৯ জুন বিকেলে ঢাকার পল্টন এলাকা থেকে অপহরণ করা হয়েছে। অপহরণকারীরা তাকে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় অজ্ঞাত এক স্থানে আটকে রেখে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করছিল এবং মারধরও করছিল বলে তিনি জানান।

উদ্ধার অভিযান ও মূলহোতা শনাক্ত

অভিযোগ পাওয়ার পরপরই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৫ রিভারাইন ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নের ফরিদপুর আর্মি ক্যাম্প দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্য ও স্থানীয় সূত্রের ভিত্তিতে পশ্চিম আলগি, ভাঙ্গা এলাকার শফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে এই অপহরণ ঘটনার প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়।

তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে, ৩০ জুন ভোর ৫টায় যৌথ টহল দল সন্দেহভাজনের অবস্থান নিশ্চিত করে পশ্চিম আলগির একটি পরিত্যক্ত খড়ের ঘরে অভিযান চালায়। সফল এই অভিযানে অপহৃত শেখ জামালকে জীবিত ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। একইসঙ্গে, অভিযুক্ত শফিকুল ইসলামকে ঘটনাস্থল থেকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

অপহরণের নেপথ্যে প্রতারণা ও মুক্তিপণ দাবি

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, অপহৃত শেখ জামাল বিদেশ পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে শফিকুল ইসলামের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু তিনি সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ না করে ঢাকায় আত্মগোপন করেন। প্রতারিত হয়ে শফিকুল ইসলাম আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে শেখ জামালকে অপহরণের পরিকল্পনা করেন এবং ঢাকার পল্টন এলাকা থেকে তাকে অপহরণ করে ভাঙ্গায় নিয়ে আসেন। এরপর জামালের পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

আটক শফিকুল ইসলামকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভাঙ্গা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

সেনাবাহিনীর কঠোর অবস্থান

সেনাবাহিনী সূত্রে জানানো হয়েছে, অবৈধ অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তাদের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত আছে। অপরাধ দমনে সেনা ক্যাম্পগুলোকে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদানের মাধ্যমে সহায়তা করার জন্য সকলকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এই সফল অভিযান আবারও প্রমাণ করলো যে, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী সর্বদা প্রস্তুত।

পল্টন থেকে অপহরণ, ১০ লাখ মুক্তিপণ: ফরিদপুরে মাস্টারমাইন্ড শফিকুল গ্রেফতার

আপডেট সময় : ০৩:২৩:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে অপহৃত শেখ জামালকে উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী ও পুলিশের একটি যৌথ টহল দল। এই অভিযানে অভিযুক্ত অপহরণকারী শফিকুল ইসলাম (৩৫)-কে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় ২৯ জুন রাত সাড়ে ১১টায়, যখন নাসিমা আক্তার (৩২) নামের এক নারী ফরিদপুর আর্মি ক্যাম্পে অভিযোগ করেন যে, তার স্বামী শেখ জামালকে গত ২৯ জুন বিকেলে ঢাকার পল্টন এলাকা থেকে অপহরণ করা হয়েছে। অপহরণকারীরা তাকে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় অজ্ঞাত এক স্থানে আটকে রেখে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করছিল এবং মারধরও করছিল বলে তিনি জানান।

উদ্ধার অভিযান ও মূলহোতা শনাক্ত

অভিযোগ পাওয়ার পরপরই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৫ রিভারাইন ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নের ফরিদপুর আর্মি ক্যাম্প দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্য ও স্থানীয় সূত্রের ভিত্তিতে পশ্চিম আলগি, ভাঙ্গা এলাকার শফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে এই অপহরণ ঘটনার প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়।

তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে, ৩০ জুন ভোর ৫টায় যৌথ টহল দল সন্দেহভাজনের অবস্থান নিশ্চিত করে পশ্চিম আলগির একটি পরিত্যক্ত খড়ের ঘরে অভিযান চালায়। সফল এই অভিযানে অপহৃত শেখ জামালকে জীবিত ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। একইসঙ্গে, অভিযুক্ত শফিকুল ইসলামকে ঘটনাস্থল থেকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

অপহরণের নেপথ্যে প্রতারণা ও মুক্তিপণ দাবি

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, অপহৃত শেখ জামাল বিদেশ পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে শফিকুল ইসলামের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু তিনি সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ না করে ঢাকায় আত্মগোপন করেন। প্রতারিত হয়ে শফিকুল ইসলাম আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে শেখ জামালকে অপহরণের পরিকল্পনা করেন এবং ঢাকার পল্টন এলাকা থেকে তাকে অপহরণ করে ভাঙ্গায় নিয়ে আসেন। এরপর জামালের পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

আটক শফিকুল ইসলামকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভাঙ্গা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

সেনাবাহিনীর কঠোর অবস্থান

সেনাবাহিনী সূত্রে জানানো হয়েছে, অবৈধ অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তাদের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত আছে। অপরাধ দমনে সেনা ক্যাম্পগুলোকে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদানের মাধ্যমে সহায়তা করার জন্য সকলকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এই সফল অভিযান আবারও প্রমাণ করলো যে, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী সর্বদা প্রস্তুত।