শহীদ আবু সাঈদ হত্যায় পলাতক ২৬ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি
- আপডেট সময় : ০৪:৪০:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫
- / 291
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ, রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এই খবর শুনে আবু সাঈদের পরিবার ও স্বজনেরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন, যদিও তাদের চোখে ছিল হারানোর বেদনা। সোমবার (৩০ জুন, ২০২৫) রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে আবু সাঈদের বাড়িতে গিয়ে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে।
পীরগঞ্জে নিজ বাড়ির সামনেই ছেলের কবরের পাশে গিয়ে নীরবে কাঁদতে দেখা যায় বয়সের ভারে ন্যুব্জ বাবা মকবুল হোসেনকে। ছেলেকে হারানোর পর তার শারীরিক শক্তিও যেন ক্ষয়ে গেছে, শব্দ করে কাঁদতেও পারছেন না তিনি। গ্রামের মানুষজনও গ্রেফতারি পরোয়ানার খবর শুনে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
আবু সাঈদের শাহাদাত ও আন্দোলনের পটভূমি
২০২৪ সালের জুলাইয়ে শিক্ষার্থীরা তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন শুরু করে। সে সময় রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থীরাও এই আন্দোলনে যোগ দেন এবং প্রতিবাদ সভা ও মিছিল করেন।
গত ১৬ জুলাই, বেরোবির ইংরেজি বিভাগের ছাত্র আবু সাঈদ বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে পুলিশের বন্দুকের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়ান। পুলিশ তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে আবু সাঈদ শহীদ হন। এই ঘটনার পর আন্দোলনের তীব্রতা আরও বেড়ে যায় এবং ছাত্র-জনতার ব্যানারে সরকার পতনের একদফার আন্দোলন শুরু হয়। দীর্ঘ আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।
মামলা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি
আবু সাঈদ শহীদ হওয়ার পর তার বড় ভাই রমজান আলী বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার চার্জশিট দাখিলের পর, সোমবার (৩০ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২৬ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন যুগান্তরকে বলেন, “প্রায় এক বছর হলো আমার আদরের ছোট ছেলেকে আমার কবরের জায়গায় কবর দিয়েছি। এই এক বছরে তার কবর জিয়ারতে যত মানুষ এসেছে, তাতে আমার মন ভরেনি। তবে এতটুকু সান্ত্বনা, দেশের মানুষ জালিম সরকারের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছে।” তিনি বর্তমান সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “আবু সাঈদ হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করায় আমি তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।” এ সময় আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম পাশে দাঁড়িয়ে ছেলের কথা ভেবে নীরবে চোখের পানি ফেলছিলেন।
আবু সাঈদ হত্যা মামলার বাদী তার বড় ভাই রমজান আলী বলেন, “আমি ২৫ জনকে এজাহারনামীয় আসামি করে মামলাটি করেছিলাম। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একটি উচ্চপদস্থ কমিটি নিয়ে পীরগঞ্জে এসে তদন্তের পর আরও পাঁচজনকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করলে মোট ৩০ জন আসামি হয়।”
তিনি আরও বলেন, “আজ (সোমবার) সব পলাতক আসামির বিরুদ্ধে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করায় আমরা সন্তুষ্ট। তবে আমরা আশা করেছিলাম আরও ছয় মাস আগে মামলার এই সিদ্ধান্ত আসবে। আমি চাই, যারা আমার ছোট ভাইকে হত্যায় জড়িত, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। আর যারা নিরপরাধ, তারা যেন মামলা থেকে অব্যাহতি পায়।”




















