ঢাকা ০১:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুরাদনগরে ৩ হত্যা: এখনো মামলা হয়নি, হয়নি গ্রেপ্তার

স্টাফ রিপোর্টার,কুমিল্লা
  • আপডেট সময় : ১০:০৪:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫
  • / 348

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় মোবাইল ফোন চুরির একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গণপিটুনিতে এক মা ও তার দুই সন্তানকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিহতরা হলেন রোকসানা আক্তার রুবি (৫৩), তার ছেলে রাসেল মিয়া (৩৫) এবং মেয়ে জোনাকি আক্তার (২৫)। এই মর্মান্তিক ঘটনায় আহত হয়েছেন পরিবারের আরও এক সদস্য রুমা আক্তার। প্রাথমিকভাবে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের কথা বলা হলেও, তদন্তে বেরিয়ে আসছে যে এটি একটি ছোট ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামের কিছু ‘অতি উৎসাহী’ লোকের আইন হাতে তুলে নেওয়ার ফল, যেখানে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যের উসকানির অভিযোগও উঠেছে।

গণপিটুনির ঘটনার নেপথ্য কাহিনি

বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই, ২০২৫) সকালে মুরাদনগরের বাঙ্গরা বাজার থানাধীন আকুবপুর ইউনিয়নের কড়ইবাড়ী গ্রামে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১ জুলাই) স্থানীয় এক শিক্ষকের মোবাইল ফোন চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে রুবির পরিবারের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীকে খেপিয়ে তোলে একটি পক্ষ। ওইদিন রুবির বাড়ির বোরহান নামের এক ছেলেকে ইউপি সদস্য বাচ্চু মিয়া ও স্থানীয় বাছির মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ এনে মারধর করেন। খবর পেয়ে রুবি ঘটনাস্থলে গেলে বাচ্চু মিয়া এবং বাছিরের সঙ্গে মোবাইল ফোনের বিষয়টি নিয়ে তার বাগবিতন্ডা ও হাতাহাতি হয়। বুধবারও (২ জুলাই) এনিয়ে উত্তেজনা ছিল গ্রামে।

বৃহস্পতিবার সকালে কড়ইবাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আসেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শিমুল বিল্লাল ও ইউপি সদস্য বাচ্চু মিয়া। এ সময় রুবির সঙ্গে তাদের মঙ্গলবারের ঘটনা নিয়ে আবারও বাগবিতন্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে রুবি বাচ্চুকে চড় মারেন। তখনই স্থানীয় বারু মিয়ার ছেলে বাছির ‘মাদক ব্যবসার’ অভিযোগ তুলে রুবির পরিবারের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীকে উসকে দেন। অভিযোগ উঠেছে, এসময় ইউপি চেয়ারম্যান শিমুল বিল্লাল ও ইউপি সদস্য বাচ্চু মিয়া উত্তেজনা থামানোর পরিবর্তে উসকানিমূলক ভূমিকা পালন করেছেন। তাদের উপস্থিতির ‘সাহস পেয়ে’ বাছিরের নেতৃত্বে উত্তেজিত জনতা রুবির বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।

হামলার একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে রুবি ও তার মেয়ে জোনাকী মারা যান। খবর পেয়ে শ্বশুরবাড়ি থেকে রুবির একমাত্র ছেলে রাসেল মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থলে ছুটে এলে তাকে মোটরসাইকেলে থাকাবস্থায়ই মুখে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে কুপিয়ে ও মাথায় ইটের আঘাতে মেরে ফেলা হয়। এ সময় রুবির স্বামী জুয়েল ও তার ছোট মেয়ে রুমা বাড়ি থেকে পালানোর চেষ্টা করলে তাদের উপরও হামলা হয়। গুরুতর আহত রুমা বর্তমানে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

মুরাদনগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, “সমাজে সহিংসতা একটি সাধারণ প্রবণতা হয়ে উঠছে, যেখানে সামান্য ঘটনাতেও মানুষ মারামারি বা হত্যার মতো চরম পথ বেছে নিচ্ছে। যা সমাজে বিদ্যমান সহিংসতা ও অসহিষ্ণুতার গভীরতার প্রতিফলন। এ ধরনের ঘটনায় আইনের শাসনের অভাব প্রতিফলিত হয়ে ওঠে।”

মুরাদনগর থানার ওসি একটি পক্ষের হয়ে ভূমিকা রাখছেন বলে অভিযোগ ওঠায় এলাকার রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি স্বাভাবিকতা হারাচ্ছে। অন্যদিকে বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি মাহফুজুর রহমান যোগদানের সাত মাসে মাদকের বিরুদ্ধে কিছু ভূমিকা রাখলেও ‘ভিলেজ পলিট্রিক্সের’ কারণে নিজ থানা এলাকার সামাজিক পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

পুলিশি তৎপরতা মামলার প্রস্তুতি

গণপিটুনির ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই কড়ইবাড়ী গ্রামের বেশিরভাগ পুরুষ গ্রেফতার আতঙ্কে ঘর ছেড়েছেন। ঘটনার রাতে বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশ ও যৌথবাহিনী কড়ইবাড়ী গ্রামে অভিযান চালালেও কাউকে আটক করতে পারেনি। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি।

তবে, বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি মাহফুজুর রহমান শুক্রবার বিকেলে জানান, নিহত রোকসানা আক্তার রুবির স্বামী, যিনি আহত মেয়ে রুমাকে ঢাকায় চিকিৎসা করাচ্ছেন, তিনি শুক্রবারই ঢাকা থেকে মামলার বিষয়ে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন এবং শুক্রবার রাতের মধ্যেই নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের সম্ভাবনা রয়েছে।

ওসি আরও বলেন, নিহত রোকসানা আক্তার রুবির বাড়ির সামনের সিসি ক্যামেরাটি ভাঙচুর করা হয়েছে। তিনি সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার কাজ করছেন এবং ইতিমধ্যে হামলাকারীদের কিছু নাম পেয়েছেন। তিনি নিশ্চিত করেন, “তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” ওসি স্বীকার করেন যে, রুবির পরিবারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের অভিযোগ ছিল, কিন্তু তিনি মনে করেন ‘মাদক ব্যবসার বিষয়টি সামনে এনে একটি মহল এলাকাবাসীকে খেপিয়ে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটিয়েছে’।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান বলেছেন, “রুবি ও তাঁর পরিবার মাদক কারবারি বা অপরাধী হলেও এলাকার মানুষের উচিত ছিল, তাঁদের আইনের হাতে তুলে দেওয়া। এভাবে মানুষকে হত্যা করা বা আইন হাতে তুলে নেওয়ার কোন সুযোগ নেই। ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতার আনার কাজ পুলিশ শুরু করেছে। জড়িতদের চিহ্নিত করে এলাকায় গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

দেশজুড়ে অস্থিরতার বৃহত্তর চিত্র

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সামগ্রিকভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে চলা এমন ঘটনাকে ‘দেশকে অস্থিতিশীল করার মিশন’ হিসেবে দেখছেন। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এর আগে মন্তব্য করেছিলেন যে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে ‘পতিত আওয়ামী লীগ’ এবং তাদের পৃষ্ঠপোষক ‘ভারত’ এ দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য নানান ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ঘাপটি মেরে থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ভারতের সহায়তায় একেক সময় একেকটা এজেন্ডা নিয়ে মাঠে নামছে। বর্তমানে হত্যা-ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অপরাধ সংঘটিত করে দেশের পরিস্থিতি অস্থির করার চক্রান্ত চলছে।’ তিনি সতর্ক করেন, এটি শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে সময় মতো আগামী নির্বাচন আয়োজন অনিশ্চিত হতে পারে।

এছাড়া, শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতার ভিডিও বার্তাও সুকৌশলে ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দুঃখ করে বলেছেন, ভারতীয় মিডিয়ার পাশাপাশি দেশের মূল ধারার কিছু পত্রিকা এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং এর মোকাবেলায় সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।

মুরাদনগরে ৩ হত্যা: এখনো মামলা হয়নি, হয়নি গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ১০:০৪:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় মোবাইল ফোন চুরির একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গণপিটুনিতে এক মা ও তার দুই সন্তানকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিহতরা হলেন রোকসানা আক্তার রুবি (৫৩), তার ছেলে রাসেল মিয়া (৩৫) এবং মেয়ে জোনাকি আক্তার (২৫)। এই মর্মান্তিক ঘটনায় আহত হয়েছেন পরিবারের আরও এক সদস্য রুমা আক্তার। প্রাথমিকভাবে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের কথা বলা হলেও, তদন্তে বেরিয়ে আসছে যে এটি একটি ছোট ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামের কিছু ‘অতি উৎসাহী’ লোকের আইন হাতে তুলে নেওয়ার ফল, যেখানে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যের উসকানির অভিযোগও উঠেছে।

গণপিটুনির ঘটনার নেপথ্য কাহিনি

বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই, ২০২৫) সকালে মুরাদনগরের বাঙ্গরা বাজার থানাধীন আকুবপুর ইউনিয়নের কড়ইবাড়ী গ্রামে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১ জুলাই) স্থানীয় এক শিক্ষকের মোবাইল ফোন চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে রুবির পরিবারের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীকে খেপিয়ে তোলে একটি পক্ষ। ওইদিন রুবির বাড়ির বোরহান নামের এক ছেলেকে ইউপি সদস্য বাচ্চু মিয়া ও স্থানীয় বাছির মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ এনে মারধর করেন। খবর পেয়ে রুবি ঘটনাস্থলে গেলে বাচ্চু মিয়া এবং বাছিরের সঙ্গে মোবাইল ফোনের বিষয়টি নিয়ে তার বাগবিতন্ডা ও হাতাহাতি হয়। বুধবারও (২ জুলাই) এনিয়ে উত্তেজনা ছিল গ্রামে।

বৃহস্পতিবার সকালে কড়ইবাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আসেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শিমুল বিল্লাল ও ইউপি সদস্য বাচ্চু মিয়া। এ সময় রুবির সঙ্গে তাদের মঙ্গলবারের ঘটনা নিয়ে আবারও বাগবিতন্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে রুবি বাচ্চুকে চড় মারেন। তখনই স্থানীয় বারু মিয়ার ছেলে বাছির ‘মাদক ব্যবসার’ অভিযোগ তুলে রুবির পরিবারের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীকে উসকে দেন। অভিযোগ উঠেছে, এসময় ইউপি চেয়ারম্যান শিমুল বিল্লাল ও ইউপি সদস্য বাচ্চু মিয়া উত্তেজনা থামানোর পরিবর্তে উসকানিমূলক ভূমিকা পালন করেছেন। তাদের উপস্থিতির ‘সাহস পেয়ে’ বাছিরের নেতৃত্বে উত্তেজিত জনতা রুবির বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।

হামলার একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে রুবি ও তার মেয়ে জোনাকী মারা যান। খবর পেয়ে শ্বশুরবাড়ি থেকে রুবির একমাত্র ছেলে রাসেল মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থলে ছুটে এলে তাকে মোটরসাইকেলে থাকাবস্থায়ই মুখে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে কুপিয়ে ও মাথায় ইটের আঘাতে মেরে ফেলা হয়। এ সময় রুবির স্বামী জুয়েল ও তার ছোট মেয়ে রুমা বাড়ি থেকে পালানোর চেষ্টা করলে তাদের উপরও হামলা হয়। গুরুতর আহত রুমা বর্তমানে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

মুরাদনগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, “সমাজে সহিংসতা একটি সাধারণ প্রবণতা হয়ে উঠছে, যেখানে সামান্য ঘটনাতেও মানুষ মারামারি বা হত্যার মতো চরম পথ বেছে নিচ্ছে। যা সমাজে বিদ্যমান সহিংসতা ও অসহিষ্ণুতার গভীরতার প্রতিফলন। এ ধরনের ঘটনায় আইনের শাসনের অভাব প্রতিফলিত হয়ে ওঠে।”

মুরাদনগর থানার ওসি একটি পক্ষের হয়ে ভূমিকা রাখছেন বলে অভিযোগ ওঠায় এলাকার রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি স্বাভাবিকতা হারাচ্ছে। অন্যদিকে বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি মাহফুজুর রহমান যোগদানের সাত মাসে মাদকের বিরুদ্ধে কিছু ভূমিকা রাখলেও ‘ভিলেজ পলিট্রিক্সের’ কারণে নিজ থানা এলাকার সামাজিক পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

পুলিশি তৎপরতা মামলার প্রস্তুতি

গণপিটুনির ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই কড়ইবাড়ী গ্রামের বেশিরভাগ পুরুষ গ্রেফতার আতঙ্কে ঘর ছেড়েছেন। ঘটনার রাতে বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশ ও যৌথবাহিনী কড়ইবাড়ী গ্রামে অভিযান চালালেও কাউকে আটক করতে পারেনি। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি।

তবে, বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি মাহফুজুর রহমান শুক্রবার বিকেলে জানান, নিহত রোকসানা আক্তার রুবির স্বামী, যিনি আহত মেয়ে রুমাকে ঢাকায় চিকিৎসা করাচ্ছেন, তিনি শুক্রবারই ঢাকা থেকে মামলার বিষয়ে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন এবং শুক্রবার রাতের মধ্যেই নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের সম্ভাবনা রয়েছে।

ওসি আরও বলেন, নিহত রোকসানা আক্তার রুবির বাড়ির সামনের সিসি ক্যামেরাটি ভাঙচুর করা হয়েছে। তিনি সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার কাজ করছেন এবং ইতিমধ্যে হামলাকারীদের কিছু নাম পেয়েছেন। তিনি নিশ্চিত করেন, “তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” ওসি স্বীকার করেন যে, রুবির পরিবারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের অভিযোগ ছিল, কিন্তু তিনি মনে করেন ‘মাদক ব্যবসার বিষয়টি সামনে এনে একটি মহল এলাকাবাসীকে খেপিয়ে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটিয়েছে’।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান বলেছেন, “রুবি ও তাঁর পরিবার মাদক কারবারি বা অপরাধী হলেও এলাকার মানুষের উচিত ছিল, তাঁদের আইনের হাতে তুলে দেওয়া। এভাবে মানুষকে হত্যা করা বা আইন হাতে তুলে নেওয়ার কোন সুযোগ নেই। ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতার আনার কাজ পুলিশ শুরু করেছে। জড়িতদের চিহ্নিত করে এলাকায় গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

দেশজুড়ে অস্থিরতার বৃহত্তর চিত্র

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সামগ্রিকভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে চলা এমন ঘটনাকে ‘দেশকে অস্থিতিশীল করার মিশন’ হিসেবে দেখছেন। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এর আগে মন্তব্য করেছিলেন যে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে ‘পতিত আওয়ামী লীগ’ এবং তাদের পৃষ্ঠপোষক ‘ভারত’ এ দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য নানান ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ঘাপটি মেরে থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ভারতের সহায়তায় একেক সময় একেকটা এজেন্ডা নিয়ে মাঠে নামছে। বর্তমানে হত্যা-ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অপরাধ সংঘটিত করে দেশের পরিস্থিতি অস্থির করার চক্রান্ত চলছে।’ তিনি সতর্ক করেন, এটি শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে সময় মতো আগামী নির্বাচন আয়োজন অনিশ্চিত হতে পারে।

এছাড়া, শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতার ভিডিও বার্তাও সুকৌশলে ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দুঃখ করে বলেছেন, ভারতীয় মিডিয়ার পাশাপাশি দেশের মূল ধারার কিছু পত্রিকা এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং এর মোকাবেলায় সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।