ঢাকা ১০:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে এ কে আজাদের বাড়িতে হামলার ঘটনায় বিএনপি কর্মী গ্রেপ্তার

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১১:০৭:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫
  • / 2248

ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ কে আজাদের শহরের ঝিলটুলীস্থ বাড়িতে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি মির্জা আলীসন আজম ওরফে প্রিন্স (৪৫) নামে এক বিএনপি কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ সোমবার (৭ জুলাই, ২০২৫) সন্ধ্যায় ফরিদপুর সদরের চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের মমিনখাঁর হাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ও মামলার বিবরণ

গ্রেপ্তার হওয়া মির্জা আলীসন আজম মমিনখাঁর হাট এলাকার মৃত বদু বেপারির ছেলে এবং এই মামলার ১১ নম্বর আসামি। তার ভাই মির্জা আব্দুল মান্নান জানান, সোমবার সন্ধ্যায় ডিবি পুলিশের একটি দল তার ভাইকে কথা আছে বলে তুলে নিয়ে যায়।

ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) মো. শামসুল আজম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মির্জা আলীসন আজমকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আগামীকাল মঙ্গলবার (৮ জুলাই) আদালতে সোপর্দ করা হবে।

হামলার ঘটনা ও মামলার প্রেক্ষাপট

গত বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, হামীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং দৈনিক সমকাল ও চ্যানেল টুয়েন্টি ফোর এর স্বত্বাধিকারী এ কে আজাদের ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলীস্থ বাসভবনে হামলা চালায় মহানগর বিএনপি, মহানগর ছাত্রদল ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা। ‘এ কে আজাদের বাড়িতে গোপন বৈঠক করছে আওয়ামী লীগ’ – কথিত এই অভিযোগ এনে তারা তার বাড়িতে চড়াও হয়।

এই ঘটনায় শুক্রবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে হামীম গ্রুপের ল্যান্ড হেড কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাফিজুল খান (৪০) বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এতে ফরিদপুর মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম মোস্তফা (৫৫) সহ মোট ১৬ জন বিএনপির নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২৫/৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাতে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদউজ্জামান বলেন, “এ কে আজাদের বাড়িতে ‘বেআইনি জনতাবদ্ধ হয়ে বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে হত্যার হুমকি’ দেওয়ার অভিযোগে এ মামলাটি দায়ের করা হয়।”

মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে ফরিদপুর মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম মোস্তফাকে (৫৫)। এজাহারে অন্য যাদের আসামি করা হয়েছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শাহরিয়ার হোসেন (৩৮), কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান চৌধুরী (৫৬), মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান (৫৫), মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ নাহিদুল ইসলাম (৪৪) এবং মহানগর ছাত্রদল সহ-সভাপতি ক্যাপ্টেন সোহাগ (৪০)।

ফরিদপুরে এ কে আজাদের বাড়িতে হামলার ঘটনায় বিএনপি কর্মী গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ১১:০৭:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫

ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ কে আজাদের শহরের ঝিলটুলীস্থ বাড়িতে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি মির্জা আলীসন আজম ওরফে প্রিন্স (৪৫) নামে এক বিএনপি কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ সোমবার (৭ জুলাই, ২০২৫) সন্ধ্যায় ফরিদপুর সদরের চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের মমিনখাঁর হাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ও মামলার বিবরণ

গ্রেপ্তার হওয়া মির্জা আলীসন আজম মমিনখাঁর হাট এলাকার মৃত বদু বেপারির ছেলে এবং এই মামলার ১১ নম্বর আসামি। তার ভাই মির্জা আব্দুল মান্নান জানান, সোমবার সন্ধ্যায় ডিবি পুলিশের একটি দল তার ভাইকে কথা আছে বলে তুলে নিয়ে যায়।

ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) মো. শামসুল আজম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মির্জা আলীসন আজমকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আগামীকাল মঙ্গলবার (৮ জুলাই) আদালতে সোপর্দ করা হবে।

হামলার ঘটনা ও মামলার প্রেক্ষাপট

গত বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, হামীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং দৈনিক সমকাল ও চ্যানেল টুয়েন্টি ফোর এর স্বত্বাধিকারী এ কে আজাদের ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলীস্থ বাসভবনে হামলা চালায় মহানগর বিএনপি, মহানগর ছাত্রদল ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা। ‘এ কে আজাদের বাড়িতে গোপন বৈঠক করছে আওয়ামী লীগ’ – কথিত এই অভিযোগ এনে তারা তার বাড়িতে চড়াও হয়।

এই ঘটনায় শুক্রবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে হামীম গ্রুপের ল্যান্ড হেড কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাফিজুল খান (৪০) বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এতে ফরিদপুর মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম মোস্তফা (৫৫) সহ মোট ১৬ জন বিএনপির নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২৫/৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাতে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদউজ্জামান বলেন, “এ কে আজাদের বাড়িতে ‘বেআইনি জনতাবদ্ধ হয়ে বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে হত্যার হুমকি’ দেওয়ার অভিযোগে এ মামলাটি দায়ের করা হয়।”

মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে ফরিদপুর মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম মোস্তফাকে (৫৫)। এজাহারে অন্য যাদের আসামি করা হয়েছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শাহরিয়ার হোসেন (৩৮), কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান চৌধুরী (৫৬), মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান (৫৫), মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ নাহিদুল ইসলাম (৪৪) এবং মহানগর ছাত্রদল সহ-সভাপতি ক্যাপ্টেন সোহাগ (৪০)।