ঢাকা ০৩:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুর মেডিকেলে সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিকদের বাধা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১১:৫২:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
  • / 120

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ (ফমেক) হাসপাতালে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে কর্তৃপক্ষের বাধার মুখে পড়েছেন দুই সাংবাদিক। সংশ্লিষ্টরা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া হাসপাতাল এলাকায় কোনো ক্যামেরায় ভিডিও বা ছবি ধারণ করা যাবে না। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো লিখিত নির্দেশনা বা নোটিশ দেখাতে পারেননি তারা। বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের দিনে এমন ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।

ঘটনার বিবরণ:

রোববার (৩ মে) দুপুরের দিকে হাসপাতালটির নতুন ভবনের ক্যাজুয়ালটি ও নিউরোসার্জারি ওয়ার্ডে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে আনসার সদস্য ও এক চিকিৎসক সাংবাদিকদের বাধা দেন। ভুক্তভোগী দুই সাংবাদিক হলেন— দৈনিক আজকের পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি হাসান মাতুব্বর (শ্রাবণ) এবং একটি বেসরকারি টেলিভিশনের ক্যামেরাপারসন।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক হাসান মাতুব্বর (শ্রাবণ) জানান, ফরিদপুর সদরে একটি ঘটনায় ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তারা হাসপাতালের ওই ওয়ার্ডে যান। এ সময় আহত ব্যক্তির ভিডিও ও ছবি ধারণ করতে ক্যামেরা বের করলে এক আনসার সদস্য এসে তাদের বাধা দেন এবং ডা. তোফাজ্জেল হোসেন নামের এক রেজিস্ট্রার চিকিৎসককে ডেকে আনেন। সেই চিকিৎসক জানান, অনুমতি ছাড়া ভিডিও করা নিষেধ। পরবর্তীতে পরিচালকের কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি এবং উপপরিচালক ডা. মানব কৃষ্ণ কুন্ডু পরিচালক ছাড়া অনুমতি দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

বিভিন্ন মহলের প্রতিক্রিয়া ও নিন্দা:

এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি ও জিটিভির জেলা প্রতিনিধি শেখ মনির হোসেন বলেন, “এভাবে সাংবাদিকতা করা যায় না। হাসপাতাল কোনো গোপন প্রতিষ্ঠান নয়। এভাবে অনুমতি নিয়ে কাজ করতে গেলে আমাদের পেশাগত কাজে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটবে।”

ফরিদপুর নাগরিক মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর কান্তি বালা বলেন, “একটি স্বাধীন দেশের হাসপাতালে সাংবাদিকরা কাজ করতে পারবে না— এটা কালাকানুন। এ জাতীয় কোনো নিয়ম দেশে নেই।”

ফরিদপুর সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সভাপতি অধ্যাপিকা শিপ্রা রায় বলেন, “সংবাদ মাধ্যমের কাজের ক্ষেত্রে অবাধ স্বাধীনতা থাকা উচিত। এমন নিয়ম করা আসলেই নিন্দনীয়।”

ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী অবিলম্বে এ ধরনের নিয়ম প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:

এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ডা. হুমায়ুন কবিরের মোবাইলে একাধিকবার কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহামুদুল হাসান জানান, এ ধরনের কোনো সাধারণ নির্দেশনা জারি করা হয়নি। কেবল গবেষণার কাজে তথ্য-উপাত্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অনুমতি নেওয়ার নিয়ম রয়েছে।

ফরিদপুর মেডিকেলে সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিকদের বাধা

আপডেট সময় : ১১:৫২:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ (ফমেক) হাসপাতালে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে কর্তৃপক্ষের বাধার মুখে পড়েছেন দুই সাংবাদিক। সংশ্লিষ্টরা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া হাসপাতাল এলাকায় কোনো ক্যামেরায় ভিডিও বা ছবি ধারণ করা যাবে না। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো লিখিত নির্দেশনা বা নোটিশ দেখাতে পারেননি তারা। বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের দিনে এমন ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।

ঘটনার বিবরণ:

রোববার (৩ মে) দুপুরের দিকে হাসপাতালটির নতুন ভবনের ক্যাজুয়ালটি ও নিউরোসার্জারি ওয়ার্ডে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে আনসার সদস্য ও এক চিকিৎসক সাংবাদিকদের বাধা দেন। ভুক্তভোগী দুই সাংবাদিক হলেন— দৈনিক আজকের পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি হাসান মাতুব্বর (শ্রাবণ) এবং একটি বেসরকারি টেলিভিশনের ক্যামেরাপারসন।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক হাসান মাতুব্বর (শ্রাবণ) জানান, ফরিদপুর সদরে একটি ঘটনায় ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তারা হাসপাতালের ওই ওয়ার্ডে যান। এ সময় আহত ব্যক্তির ভিডিও ও ছবি ধারণ করতে ক্যামেরা বের করলে এক আনসার সদস্য এসে তাদের বাধা দেন এবং ডা. তোফাজ্জেল হোসেন নামের এক রেজিস্ট্রার চিকিৎসককে ডেকে আনেন। সেই চিকিৎসক জানান, অনুমতি ছাড়া ভিডিও করা নিষেধ। পরবর্তীতে পরিচালকের কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি এবং উপপরিচালক ডা. মানব কৃষ্ণ কুন্ডু পরিচালক ছাড়া অনুমতি দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

বিভিন্ন মহলের প্রতিক্রিয়া ও নিন্দা:

এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি ও জিটিভির জেলা প্রতিনিধি শেখ মনির হোসেন বলেন, “এভাবে সাংবাদিকতা করা যায় না। হাসপাতাল কোনো গোপন প্রতিষ্ঠান নয়। এভাবে অনুমতি নিয়ে কাজ করতে গেলে আমাদের পেশাগত কাজে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটবে।”

ফরিদপুর নাগরিক মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর কান্তি বালা বলেন, “একটি স্বাধীন দেশের হাসপাতালে সাংবাদিকরা কাজ করতে পারবে না— এটা কালাকানুন। এ জাতীয় কোনো নিয়ম দেশে নেই।”

ফরিদপুর সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সভাপতি অধ্যাপিকা শিপ্রা রায় বলেন, “সংবাদ মাধ্যমের কাজের ক্ষেত্রে অবাধ স্বাধীনতা থাকা উচিত। এমন নিয়ম করা আসলেই নিন্দনীয়।”

ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী অবিলম্বে এ ধরনের নিয়ম প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:

এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ডা. হুমায়ুন কবিরের মোবাইলে একাধিকবার কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহামুদুল হাসান জানান, এ ধরনের কোনো সাধারণ নির্দেশনা জারি করা হয়নি। কেবল গবেষণার কাজে তথ্য-উপাত্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অনুমতি নেওয়ার নিয়ম রয়েছে।