ঢাকা ১২:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্ষমতার পালাবদলে ‘জার্সি বদল’, বিএনপির বড় পদ কিনলেন আ.লীগের ডামি প্রার্থী

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৩:০৬:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৫
  • / 568

আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ব্যবসায়ী নাহিদুজ্জামান নিশাদ রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাতারাতি দল পাল্টে যোগ দিয়েছেন বিএনপিতে। তিনি এখন গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সহসভাপতি। তবে তার এই পদপ্রাপ্তি নিয়ে দলের ভেতর থেকেই উঠেছে টাকার বিনিময়ে পদ কেনার গুরুতর অভিযোগ। এ ঘটনায় গাইবান্ধার স্থানীয় বিএনপিতে অস্থিরতা শুরু হয়েছে।

আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ থেকে বিএনপির পদ

জানা গেছে, নাহিদুজ্জামান নিশাদের মূল বাড়ি গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় হলেও তিনি বগুড়ায় বসবাস ও ব্যবসা করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি ছিলেন দলটির স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতাদের ঘনিষ্ঠ। বগুড়া শহরে তার প্রতিষ্ঠিত ‘রোচাস হোটেল’ ছিল আওয়ামী লীগ নেতা ও সরকারি কর্মকর্তাদের আড্ডাখানা।

গত বছরের জুলাই বিপ্লবে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি বিএনপির স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অপ্রত্যাশিত সাফল্য পান। এর আগে, তিনি ২০২৩ সালের উপনির্বাচনে এবং ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচনে গাইবান্ধা-৫ আসনে আপেল প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

অভিযোগের মুখে নিশাদ ও স্থানীয় বিএনপির প্রতিক্রিয়া

বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, নিশাদ টাকার প্রভাবে দলে অনুপ্রবেশ করে ত্যাগী নেতাকর্মীদের উপেক্ষা করছেন। তার কারণে সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলায় বিএনপির রাজনীতিতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। যারা তার কথা শুনছেন না বা তার আনুগত্য মানছেন না, তাদের বহিষ্কার, হয়রানি ও মামলা-হামলা করার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

সাঘাটা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব (সাময়িক অব্যাহতিপ্রাপ্ত) সেলিম আহম্মেদ তুলিপ বলেন, “আমি ৩৫ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতি করি। সদ্য নেতা হওয়া নিশাদের কথা না শোনায় মিথ্যা অভিযোগে আমাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।”

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে নিশাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

হাইকমান্ডের নির্দেশে দলে অন্তর্ভুক্তি

গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. মঈনুল হাসান সাদিক বলেন, “বিএনপির হাইকমান্ডের নির্দেশেই নিশাদকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ আছে, তবে সেগুলো হাইকমান্ডও জানে।” তিনি আরও জানান, আগামী নির্বাচনে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে কি না, তা হাইকমান্ডই সিদ্ধান্ত নেবে।

ক্ষমতার পালাবদলে ‘জার্সি বদল’, বিএনপির বড় পদ কিনলেন আ.লীগের ডামি প্রার্থী

আপডেট সময় : ০৩:০৬:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৫

আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ব্যবসায়ী নাহিদুজ্জামান নিশাদ রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাতারাতি দল পাল্টে যোগ দিয়েছেন বিএনপিতে। তিনি এখন গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সহসভাপতি। তবে তার এই পদপ্রাপ্তি নিয়ে দলের ভেতর থেকেই উঠেছে টাকার বিনিময়ে পদ কেনার গুরুতর অভিযোগ। এ ঘটনায় গাইবান্ধার স্থানীয় বিএনপিতে অস্থিরতা শুরু হয়েছে।

আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ থেকে বিএনপির পদ

জানা গেছে, নাহিদুজ্জামান নিশাদের মূল বাড়ি গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় হলেও তিনি বগুড়ায় বসবাস ও ব্যবসা করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি ছিলেন দলটির স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতাদের ঘনিষ্ঠ। বগুড়া শহরে তার প্রতিষ্ঠিত ‘রোচাস হোটেল’ ছিল আওয়ামী লীগ নেতা ও সরকারি কর্মকর্তাদের আড্ডাখানা।

গত বছরের জুলাই বিপ্লবে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি বিএনপির স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অপ্রত্যাশিত সাফল্য পান। এর আগে, তিনি ২০২৩ সালের উপনির্বাচনে এবং ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচনে গাইবান্ধা-৫ আসনে আপেল প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

অভিযোগের মুখে নিশাদ ও স্থানীয় বিএনপির প্রতিক্রিয়া

বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, নিশাদ টাকার প্রভাবে দলে অনুপ্রবেশ করে ত্যাগী নেতাকর্মীদের উপেক্ষা করছেন। তার কারণে সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলায় বিএনপির রাজনীতিতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। যারা তার কথা শুনছেন না বা তার আনুগত্য মানছেন না, তাদের বহিষ্কার, হয়রানি ও মামলা-হামলা করার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

সাঘাটা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব (সাময়িক অব্যাহতিপ্রাপ্ত) সেলিম আহম্মেদ তুলিপ বলেন, “আমি ৩৫ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতি করি। সদ্য নেতা হওয়া নিশাদের কথা না শোনায় মিথ্যা অভিযোগে আমাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।”

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে নিশাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

হাইকমান্ডের নির্দেশে দলে অন্তর্ভুক্তি

গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. মঈনুল হাসান সাদিক বলেন, “বিএনপির হাইকমান্ডের নির্দেশেই নিশাদকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ আছে, তবে সেগুলো হাইকমান্ডও জানে।” তিনি আরও জানান, আগামী নির্বাচনে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে কি না, তা হাইকমান্ডই সিদ্ধান্ত নেবে।